শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৮

সাব্জেক্ট রিভিউঃ Mechanical Engineering (যন্ত্রকৌশল)

সাব্জেক্ট রিভিউঃ Mechanical Engineering (যন্ত্রকৌশল)
.
একবার ভেবে দেখেছ কি, ইঞ্জিনিয়ার শব্দটির উৎপত্তি হল কিভাবে? হুম ঠিক ধরেছ, ইঞ্জিন থেকে; আর এই ইঞ্জিন সম্পর্কিত বিষয়গুলো যে প্রধানত মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এই পড়ানো হয় সেটা নিশ্চই বলার অপেক্ষা রাখেনা! পৃথিবীর প্রথম ইঞ্জিনিয়ারও কিন্তু একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার!(ওনার পরিচয় খোঁজার দায়িত্ব তোমাদের উপরই দিলাম)..যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং এর উৎপত্তিই ঘটেছে এখান থেকে, তাই সাধারণত মাদার এবং অনেক ক্ষেত্রে ফাদার অফ ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে মেকানিকাল কেই বোঝানো হয়।
.
এবার কিছু প্রশ্নের উত্তর দাওঃ
১) তোমার ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন কি ছোটবেলার সেইসব খেলনা গাড়ি,প্লেন ইত্যাদি নিয়ে গুঁতোগুঁতি থেকে এসেছে?
২) তোমার কি যে কোন যন্ত্রপাতি দেখলেই সেটি খুলে ভেতরের রহস্য উদঘাটনের প্রবল ইচ্ছা জাগে?(পুনরায় লাগাতে পারবে কিনা সেটা পরের বিষয়)
৩)তোমার কি সবকিছু বুঝে বুঝে পড়ার অভ্যাস? অথবা না বুঝে ঢালাও মুখস্ত একদমি সহ্য করতে পারনা?
.
এই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর হ্যা বোধক হলে তোমাকে যন্ত্রকৌশল দুনিয়ায় স্বাগতম! এখানেই শেখানো হয় কিভাবে মটরগাড়ি, প্লেন, রকেট সহ যেকোনো অটোমোবাইল তৈরি এবং ডেভেলপ করতে হয়! অনেকের নাসা সম্পর্কে কৌতুহলের শেষ নেই, একবার কি ভেবে দেখেছ এইসব রকেট অথবা যেকোনো মহাকাশযান তৈরির পেছনে প্রধানত কোন ইঞ্জিনিয়াররা জরিয়ে আছে? হ্যা, এক্ষেত্রেও মেকানিকাল! অর্থাৎ তুমি ছোটবেলা থেকে যেসকল আকাশজয়ের স্বপ্ন লালন করে আছ, যন্ত্রকৌশলী হয়ে সেগুলোর খুব কাছে চলে যেতে পারো!!
.
অনেক স্বপ্ন হলো এবার বাস্তবতায় ফিরে আসি, যন্ত্রকৌশল নাম দেখে শুধু যন্ত্র নিয়েই পড়ে থাকবে এমনটি যারা ভেবে রেখেছ অথবা তোমার প্রিয় সেই গণিত, পদার্থবিজ্ঞান অথবা রসায়ন কে বিদায় দিয়ে যেকোন একটি বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হবে এই ধারণা সম্পূর্ণ ভূল,আর বিষয়টি যখন যন্ত্রকৌশল তখন এই ধারণা অনেকটা হাস্যকর! কারণ এসকল বিষয়য়ের সাথে যন্ত্রকৌশল ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। একটু ক্যালকুলেশনের ভুল বিশাল কোন বিমান যেমন ভূপাতিত করতে পারে, তেমনি কয়েক মিলি সেকেন্ডের ব্যবধান যেকোন রেসিং কার অথবা রকেটের জন্য বিশাল ব্যার্থতা ডেকে আনতে পারে।
.
অন্যদিকে যন্ত্রকৌশলে আসবে অথচ গণনাযন্ত্র (কম্পিউটার) বিষয়ে বিস্তারিত জানবেনা তা কি করে হয়! হ্যা, এখানে মেজর কোর্স হিসেবেই প্রোগ্রামিং শেখানো হয়!
এছাড়াও মেজর হিসেবে মেশিন ডিজাইনিং এর জন্য অটোক্যাড, সলিডওয়ার্কস এর মত বাঘা বাঘা সফটওয়্যার শেখানো হয়, সাথে কোডব্লক্স, ম্যাটল্যাব ইত্যাদি এনালিটিকাল সফটওয়্যার তো রয়েছেই!! অন্যদিকে মাইনোর হিসেবে থাকবে ইলেক্ট্রিক্যাল সার্কিট সলভিং। যেখানে তোমাকে যেকোনো জটিলতর সার্কিটের সরলতম সমাধান কিভাবে করতে হয় তা শেখানো হয়। এছাড়াও ইলেকট্রনিকস এর আরও অনেক কিছুই শেখানো হয়, যেগুলো এখানে লিখে শেষ করা যাবেনা!
এবার আসি ড্রয়িং নিয়ে, মেশিন নিয়ে পড়বে অথচ মেশিন ডিজাইন করবেনা তা কি করে হয়? হ্যা, একজন আর্কিটেক্ট এর মত তোমাকেও ড্রইং বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হবে!
শুধু সাদা কাগজে আকাআকি করেই ক্ষান্ত হওয়া যাবেনা! সেটি আবার 2D/3D মডেল হিসেবে কম্পিউটারে গ্রাফিকাল আউটপুট আনতে হবে। ধর, একটি ট্রাক্টর এর বিভিন্ন অংশকে 3D মডেলিং করে পরবর্তিতে সবগুলো অংশ একত্রিত করে কম্পিউটারে জীবন্ত করে তুললে, কি মজা তাই না?.. এজন্য কিছু উচ্চ পর্যায়ের সফটওয়্যারের ব্যবহার শেখানো হবে, পূর্বেই উল্লেখ করেছি জন্য আর সেদিকে যাচ্ছিনা।
.
অন্যদিকে বিভিন্ন ওয়ার্কশপ তোমাকে হাতেকলমে দক্ষ করে তুলবে। শেখাবে, কিভাবে গলিত লোহা থেকে ইঞ্জিন স্ট্রাকচার তৈরি(কাস্টিং) করতে হয়! শেখাবে, জটিল কিছু মেশিন কিভাবে কন্ট্রোল করতে হয়, যেগুলো কত দামী হতে পারে হয়ত আন্দাজই করতে পারবেনা।এছাড়াও আরও অনেক কিছুই ওয়ার্কশপ থেকে জানতে পারবে।
.
অনেকেই এতক্ষণ একটি বিষয় নিশ্চই মিস করছিলে?.. রোবটিক্স!! ঠিক ধরেছি তো? সাস্টে পড়বে অথচ রোবটিক্স জানবেনা তা কি করে হয়? তুমি যদি রোবটিক্স কে শুধু সিএসই অথবা ইইই রিলেটেড মনে করে থাক এখনি সেটি ভুলে যাও! বরং রোবট তৈরিতে যেসব দক্ষতার প্রয়োজন তা তুমি মেকানিকালেই শিখে যাবে! পূর্বেই কোডিং এবং ইলেকট্রিকাল সার্কিট এর ব্যাপারে বলেছি; সাথে যুক্ত হবে ডিজাইনিং, ব্যালেন্সিং এবং অবশ্যই ক্রিয়েটিভিটি যেটা মেকানিকাল এর প্রাণ। ভবিষ্যতে রোবট বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট অথবা এই রিলেটেড যেকোনো কিছু নিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে ম্যাকানিকালই তোমাকে পথ দেখাতে পারে! অন্যদিকে বর্তমানের অতি জনপ্রিয় বায়োমেডিকালও কিন্তু মেকানিকাল এবং ইইই এর কম্বিনেশন থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে! তাই ভবিষ্যতে সহজেই বায়োমেডিকাল নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে গবেষক হয়ে উঠতে পারবে।
.
কি অবাক হচ্ছো? এতকিছু কিভাবে একটি ডিসিপ্লিনের আওতাভুক্ত হতে পারে! হ্যা,
মেকানিকালই হচ্ছে সবচেয়ে বহুমুখি ইঞ্জিনিয়ারিং সাব্জেক্ট, যেটি থেকে তুমি পরবর্তীতে এই রিলেটেড যেকোন পছন্দসই ক্ষেত্রে সুইচ করে ফেলতে পার! মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অন্যতম বললে কম বলা হয়, অন্যতম এবং একমাত্র আদিম মৌলিক বিষয়। তুমি একটু লক্ষ করলেই দেখবে, সকল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে মেকানিকালের ছোঁয়া রয়েছে। এর শাখা প্রশাখা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
.
যেহেতু সেক্টরটা একটু বড়, তো সিলেবাসটাও একটু বড় হবে এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে এমন না যে খুব কঠিন। সবই সহজ, শুধু ইচ্ছাটা থাকতে হয় আরকি। আর ঐ হিসাব করলে তোমাকে ৫ মিনিট বেশি শ্রম দিতে
হবে পড়ায়। এতটুকু পারবে না??
.
আর, চাকরি?
শোন, যে বলবে মেকানিকেল এর চাকরি নাই। তাদের জন্য সমবেদনা। বোকার স্বর্গে বাস করে তারা। এত বিস্তরভাবে
চাকরির সুযোগ আর কোন ডিপার্টমেন্ট এ পসিবল না... একটা সহজ হিসাব দেই। ২০০৯ সালের হিসাব মতে USA তে প্রায় ১৬ লক্ষ প্রকৌশলী কর্মরত আছেন। তার মধ্যে ২৩৯০০০ অর্থাৎ ১৫% যন্ত্রপ্রকৌশলী।
এটাই দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বিভাগ। ২০০৯ অনুযায়ী প্রতি দশকে ৬% হারে যন্ত্রপ্রকৌশলীদের কর্মসংস্থান বাড়ছে। স্নাতক ডিগ্রির পরই প্রাথমিক বেতন বছরে ৫৮৮০০ মার্কিন ডলার। গড় বেতন বছরে ৭৪০০০ মার্কিন ডলার, সর্বোচ্চ ৮৬০০০ সর্বনিম্ন ৬৩০০০ মার্কিন ডলার বছরে।
আর, ২০০৯ সালের হিসাব এটা। এখন ২০১৮,,, তোমরা বের হবে ২০২২ সালে!! তো একটু চিন্তা করে দেখো।
দেশে এখনই চাকরির অভাব নাই। বাজার ঘুরে আসতে পার। পেপারে দেখতে পার।
সবগুলো তে যন্ত্রকৌশল পাবে। EEE/ME, ME/IPE,CSE/ME, CE/ME. এরকম লেখা দেখতে পাবে।
আর ME based চাকরি তো আছেই। দেখে নিও। চাকরির অভাব নাই ঠিক আছে,
কিন্তু ভাল কিছু লুফে নিতে হলে কষ্ট করতেই হবে, তুমি যেটাতেই পড় না কেন!
মিডল ইস্ট, আমেরিকাতে যন্ত্রকৌশল মানেই সোনায় সোহাগা। ধরো তেলের খনিতে কোনভাবে ঢুকতে পারলে তো টাকার বিছানায় ঘুমোতে পারবে। তবে সবকিছুর উপরে তোমাকে যোগ্য হতে হবে। আর উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ এই সেক্টরে সবচেয়ে বেশি, কারন টপিক বেশি মানে অপর্চুনিটি বেশি!
আর দেশে মাত্র কয়েক জায়গায় যন্ত্রকৌশল পড়ানো হয়। এর কারন একজন যন্ত্রকৌশল ছাত্রের পিছনে প্রচুর টাকা ঢালতে হয়, বিস্তর ফিল্ডওয়ার্ক করতে হয় যার যোগান এই দেশে অনেক কষ্টকর। ছাত্র কম তো প্রতিযোগীও কম। ভেবে দেখতে পার। এটা এডভান্টেজ!
.
আরও বিস্তারিত ভাবে বললেঃ Mechanical Engineer দের জন্য দেশে এবং দেশের বাইরে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র পড়ে থাকা সত্ত্বেও অনেকের একটা ভ্রান্ত ধারণা থাকে যে, দেশে নাকি মেকানিক্যাল এর চাকরি নাই। শোনা কথায় কান না দিয়ে একবার bdjobs এ ঢুঁ মেরে আসো প্লিজ। তারপরও একটু বলে রাখা ভাল, Mechanical এর সবগুলো সাব- ডিসিপ্লিন এর জব সেক্টর নিয়ে বললে শেষ করা যাবে না। শুধুমাত্র HVAC সেক্টর নিয়ে যদি বলি, তবে বাংলাদেশে যেসব তোমার জন্য রয়েছে-
- WALTON Hi- Tech Industries LTD.
- PRAN RFL LTD.
- British American Tobaco Bangladesh
- Chevron Bangladesh
- HVAC Systems LTD.
- AMAZE Corporation LTD.
- OBSIDIAN
- Landmark Bangladesh LTD
- United Summit Coastal Oil
- Bright Green Energy Foudation
- The AIRCONS LTD.
- E- Cool Resources LTD
- New G Boiler LTD
- Swiftex Situation
- Transpower Engineering Corporation
- Crossing Point Limited
- Ecobit Limited
- EMACO Engineering of Technology
এরকম অসংখ্য প্রাইভেট কোম্পানি। যদি সরকারি চাকরি করার ইচ্ছা থাকে, তাও করতে পারো মেকানিক্যাল পড়ে।
তোমার জন্য রয়েছে-
- BCS (Technical+General )
- BAPEX
- Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission (BTRC)
-Bangladesh Power Devolopment Board (BPDB)
- Bangladesh Rural Electrification Board (REB)
- Power Grid Company of Bangladesh Limited (PGCB)
- Electricity Generation Company of Bangladesh (EGCB)
- Petro-Bangla
এরকম অসংখ্য জায়গায় লোভনীয় বেতনে চাকুরী করার সুযোগ। এছাড়াও 'বস্ত্র' রপ্তানিতে পৃথিবীর প্রায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা আমাদের এই বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য টেক্সটাইল কোম্পানি, যেগুলোতে প্রতিবছর প্রায় কয়েকহাজার Mechanical Engineer নিয়োগ করা হয়ে থাকে। স্মার্ট স্যালারীতে Textile sector এ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে Mechanical Engineering পড়ে তুমি জয়েন করতে পারো-
- DBL group
- Noman group
- NASSA group
- Beximco Textile
- Square Textile
- Sinha group
- Thermax group
- Viyellatex group
- Knit Concern group
- Sunman group
- Tanz Apparels
- East Bengal International
- One Tex BD Limited
এরকম অসংখ্য National, Multinational & International কোম্পানিতে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিয়ারদের জব স্যালারীর ব্যাপারে ধারণা দেওয়ার জন্য (money.usnews) এর তথ্যটুকু তুলে ধরা যেতে পারে-
BLS (Bureau of Labour Statistics) এর তথ্যমতে ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর গড় বেতন $83,590. একইসাথে ওইবছর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের সর্বোচ্চ বেতন ছিল $128,430 এবং সর্বনিম্ন বেতন $53,640.
.
***আর আমাদের দেশে একটা বড় misconception হচ্ছে, মেয়েরা নাকি Mechanical পড়তে পারে না! অথচ USA এর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে Mechanical Faculty তে মেয়েদের পারসেন্টেজ প্রায় ৩৫-৪০%, যা ২০২০ সালের দিকে ৪৫-৪৬% -য়ে গিয়ে ঠেকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বের রেকর্ড অনুযায়ী। এর প্রধাণ কারন Mechanical এ Research সেক্টর সবচেয়ে বেশি।***
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, Mechanical Engineering এমন একটা সাবজেক্ট যেটা পড়ে তুমি চাইলে CSE, EEE, IPE, Chemical, Civil, Petroleum Engineering রিলেটেড অনেক জবও করতে পারবে। কারণ মেকানিক্যাল এ তুমি পাচ্ছো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর রিসার্চ এবং হায়ার স্টাডিজ এর সুযোগ-
- Acoustical engineering
- Aerospace engineering
- Automotive engineering
- Biomechanics
- Biomedical engineering
- Computational fluid dynamics
- Fluid dynamics
- Finite element analysis
- Friction stir welding (FSW)
- Green and Sustainable Technologies
- HVAC
- Heat transfer
- Industrial gas
- Industrial engineering
- Mass transfer
- Materials science
- Manufacturing process
- Mechatronics
- Metallurgy
- Microfluidics
- Marine engineering
- Nanotechnology
- Natural gas processing
- Nuclear reprocessing
- Neuclear engineering
- Ocean Engineering
- Oil exploration
- Oil refinery
- Power generation
- Process control
- Process design
- Process development
- Process engineering
- Production engineering
- Renewable energy
- Safety engineering
- Semiconductor device fabrication
- Syngas production
- Textile engineering
- Thermodynamics
- Transport phenomena
- Unit operations
- Water technology
.
এত ভাল কিছু শুনে আবার নিজের ছোটবেলার স্বপ্নকে মেকানিকেল এ কনভার্ট করিও না। যাদের এটাতে প্যাশন নাই তাদের এই সাব্জেক্ট নেয়ার কোন দরকার নেই। বিপদে পড়বা। কেউ তোমায় টেনে তুলবে না!
মনকে জিজ্ঞাসা কর তুমি কি চাও?
যন্ত্রকৌশল তোমার প্যাশন হলে তোমাকে এই যন্ত্রনাকৌশলে স্বাগতম। তবে একটা কথা, সবার দেখাদেখি সাব্জেক্ট নিও না। তোমার যেটা মন চায় সেটা নিবে। একটা খুব খারাপ ইস্যু লক্ষ্য করা যায়, সিরিয়াল অনুযায়ী সাব্জেক্ট নিচ্ছে কিছু না জেনেই,না বুঝেই। সবাই নিচ্ছে তাই সেও নিচ্ছে। আজব দুনিয়া!! টাকা তোমার পেছনে ঘুরবে নাকি তুমিই টাকার পেছনে ঘুরবা। সিদ্ধান্ত তোমার।
এগিয়ে যাও। সবার জন্য শুভকামনা।
.
Tahmid
(MEE,SUST

সাবজেক্ট রিভিউ – Civil Engineering (CE)

সাবজেক্ট রিভিউ – Civil Engineering (CE)
 
পৃথিবীর প্রাচীনতম ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে গেলে যে বিষয়টি মানুষের মাথায় খেলা করে তা হলো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বা পুরকৌশল। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সভ্যতার শুরু থেকেই বিস্তার লাভ করে আসছে। বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের ছোঁয়া লাগেনি। অন্যতম প্রাচীন, বৃহত্তম এবং সকল প্রকৌশল জ্ঞানের সমন্বয় এই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। 
 
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজঃ সুউচ্চ ভবন, হাইওয়ে,ব্রীজ,পানি প্রকল্প, পাওয়ার প্লান্ট ইত্যাদি পরিকল্পনা, ডিজাইন, গঠন এবং রক্ষনাবেক্ষন করার কাজ করের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জরিপের কাজ করে থাকে, প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন দেয়, এমনকি প্রকল্প ব্যবস্হাপক এর কাজও করে থাকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। 
 
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পরিসরঃযেহেতু সময়ের সাথে সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর পরিসর বাড়ছে তাই এর অনেক শাখা বের হয়েছে। এদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হল-১) মৃত্তিকা প্রকৌশল২) স্ট্রাকচারাল প্রকৌশল৩) পরিবহন প্রকৌশল৪) পানি সম্পদ প্রকৌশল৫) পরিবেশ প্রকৌশল
 
কাজের ক্ষেত্র –অনেকে ভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ে ভালো সেলারি পাওয়া যাবেনা,অবশ্যই পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি চাকুরির ক্ষেত্র যে সিভিলেই,সেটা এখন আর কারো অজানা নয়। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর আপনাকে ২/১ বছর কষ্ট করতে হতে পারে,কারন যেকোনো ভালো চাকুরির জন্য প্রয়োজন বাস্তব অভিজ্ঞতা।অভিজ্ঞতাটুকু হয়ে গেলে আপনার উন্নতি আর কেউ ধরে রাখতে পারবেনা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজের ক্ষেত্রগুলো হল-১) সড়ক ও জনপদ২) গণপূর্ত বিভাগ৩) রিয়েল এস্টেট কোম্পানি৪) নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ৫) পরিবেশ নিয়ে কর্মরত বিভিন্য মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি৬) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ইত্যাদি।
 
শুধুমাত্র দেশে নয়, দেশের বাহিরেও রয়েছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের অধিক চাহিদা। আমেরিকার ৬নম্বর সেরা চাকুরি হল সিভিল। আমেরিকাতে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক বেতন নুন্যতম ৮০,০০০ ডলার থেকে ১২০,০০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। সময়ের সাথে সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর গুরুত্ত্ব বাড়ছে। বর্তমানে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কাজ করে। তারা আগুনে ক্ষয় ক্ষতি যেন কম হয় সেই বিষয়েও কাজ করে। পুরাতন মিশর এর পিরামিড বা রাস্তা নির্মাণে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর ভূমিকা উল্ল্যেখযোগ্য অবদান ছিল। পানি বাতাস এবং মাটি পরিশোধনের বিভিন্য উপায় নিয়েও তারা সজাগ। 
 
পরিশেষে বলতে চাই, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সিভিল পরবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন তাদেরকে বলবো চোখ বন্ধ করে আমাদের জগতে চলে আসুন, কথা দিচ্ছি বিশ্বকে সুন্দর করে গড়তে আপনি সক্ষম হবেন ই। 
 
লিখেছেনঃ মোঃ তানভীর আহমেদ
শিক্ষার্থী, পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগশাবিপ্রবি, সিলেট।

ME সাবজেক্ট রিভিউ ::

ME
সাবজেক্ট রিভিউ ::
আচ্ছা, Fast and Furious মুভি সিরিজটা প্রায় সবারই খুব পছন্দের, তাইনা! সাঁই সাঁই করে ছুটে চলা সুপার কারগুলো😍 দেখে কারো কারো মনে স্বপ্ন জাগতো, একদিন আমিও এমন গাড়ি চালাব! শুধু চালাবই না, নিজে বানিয়ে তারপর চালাব!
অথবা গেইম অফ থ্রন্স, পুরো ভাইরাল টিভি সিরিজ! স্টার্টিং এই যে সমতল মাটি থেকে দাঁতকাটা চাকা উঠে ঘোরা, একটার সাথে আরেকটা চাকা লেগে লেগে ঘুরতে থাকা, দেখেছ নিশ্চয়ই!
মুভি/সিরিজ এর রিভিউ নিয়ে বকবক করবো না কিন্ত!
অনেকেই আন্দাজ করতে পারছো, যেহেতু পোস্ট টা এডমিশন গ্রুপের, তাই আমি কোনো সাব্জেক্ট নিয়েই হয়ত কথা বলতে চাচ্ছি!
হ্যাঁ, সাব্জেক্টটি হল মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং! এটার শুরু সেইই আদিম আমল থেকে, যখন মানুষ কোনোকিছু বানিয়ে ব্যাবহার করতে শুরু করলো, শক্তির ট্রান্সফার ঘটিয়ে সভ্যতার বিবর্তন ঘটানো শুরু করলো!
অনেক পরিচয় পর্ব তো হলো, এখন নাহয় বিষয়টিতে আসলে কি, কেমন, কি জিনিস পড়ানো হয় সেগুলো একটু বলি!তোমরা যেহেতু এখনো ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিষয়ে তেমন কোনো ধারণা রাখো না, তাই তোমাদের জন্য সহজ ভাষায় বলছি!
চার বছরে তোমাকে অনেকগুলো কোর্সই করতে হবে, নন ডিপার্টমেন্টাল হলো ইলেক্ট্রিক্যাল, সিএসই, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গনিত, মানবিক ,আর বাকিগুলো মেকানিকালের অধিভুক্ত।
ফিজিক্সে পড়তে হবে বিভিন্ন বস্তুর গঠন, প্রধানত ক্রিস্টাল/স্ফটিক এর খুঁটিনাটি, বিভিন্ন ধর্ম-আচরন আর মডার্ন ফিজিক্স, যেটা তোমরা ইন্টারে কিছুটা পড়ে আসছিলা, ৮ম-৯ম অধ্যায়!
কেমিস্ট্রিতে পড়তে হবে জৈব যৌগ 😛, না না ভয় পাওয়ার কিছু নেই,কিছু ব্যাসিক জিনিসপত্র আর পলিমার-প্লাস্টিক-রবার-সিমেন্ট-কাঁচ-সিরামিক এসব! খুব ডিটেইলসে না!
এবার আসি ম্যাথে! 😁 ইন্টিগ্রেশন আর ডিফারেন্সিয়েশন সহ এর উচ্চতর শাখা-প্রশাখা অনেক অনেক অন্নেক গভীরে গিয়ে পড়াবে, ইন্টারে তোমরা তার ১০% টপিকও পড়োনি!ম্যাথের পরিধি ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং এ! 😉
মানবিক বিভাগ শুনে হয়তো তোমরা কিছুটা অবাক হচ্ছো! খালি ইঞ্জিনিয়ার হলেই হবে, সোসাইটিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তোমাকে কিভাবে ডিল করতে হবে সেটা জানতে হবে না?!!😎 এখানে পড়বে ইংলিশ, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, সোশিওলোজি, এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স ইত্যাদি।
ইলেক্ট্রিক্যাল এ বিভিন্ন ধরণের সার্কিট , মেশিনারিজ যেমন জেনারেটর, মোটর, ট্রান্সফর্মার, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদি পড়ানো হবে।
সিএসই তে পড়বা ব্যাসিক কিছু প্রোগ্রামিং, আর Computer Aided Drawing(CAD).
এই ছিল মোটামুটি সহজ ভাষায় নন ডিপার্টমেন্টাল গুলো! এবার আসি মেকানিক্যালের গুলোয়!
কোনো একটা নির্দিষ্ট জিনিস বানাতে কত প্রকার প্রসেস আছে, মেশিন ব্যাবহার করা হয় সেগুলোর ডিটেইল পাবা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসে। এরপর আছে থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং, যেখানে তুমি তাপশক্তির উৎপাদন, প্রক্রিয়া, মুলনীতিসমুহ, যন্ত্রপাতিসহ বিশদ জানতে পারবে।
এরপরেই পাবা মেকানিক্যালের কোর পার্ট, মেকানিক্স!💗 ইন্টারে ম্যাথে সেকেন্ড পেপারে স্থিতিবিদ্যা আর গতিবিদ্যা পড়েছিলে না?!! সেগুলোই বিভিন্ন ধরণের ক্ষেত্রবিশেষে যেমন ফ্লুইড, সলিড, সারফেইস ইত্যাদিতে কিভাবে কাজ করে, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত পড়বে! আর কিছু বললে বুঝবা না, তাই বলছি না!
এছাড়া পাবা থার্মোডায়নামিক্স, হিট ট্রান্সফার, মেশিন ডিজাইনিং সহ আরো অনেক কিছু! এবং আবার বলছি, প্রতিটা জিনিসই কিন্ত অনেক গভীরে গিয়ে পড়ানো হবে!
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ভাই এতকিছু দেখলাম, কই আমার গাড়ি-ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপারে তো কিছু দেখলাম না!
আসলে তোমাকে এখানে ব্যাসিক ধারনা দিয়ে দেওয়া হবে সবকিছুর, যাতে ভবিষ্যতে তুমি তোমার পছন্দমতো জায়গায় শিফট করে তারপর সেদিকে অগ্রসর হতে পারো! তবে হ্যাঁ, অটোমোবাইলসের উপর অপশনাল কোর্স আছে। আর তোমাদের ফ্যাসিনেশনের যেই সমস্ত সেক্টরগুলো মেকানিকালের সাথে জড়িত, সেগুলোর সুত্রপাত কেবল এখান থেকে হবে। আস্তে আস্তে তোমরা তোমাদের স্বপ্নের জায়গায় পৌছবে।
জবের ব্যাপারে কথা বলতে গেলে বিদেশে যে অনেক ডিমান্ড সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশে গভর্নমেন্ট জবগুলো কিছুটা কম হলেও প্রাইভেট সেক্টরে কিন্ত প্রচুর সুযোগ আছে!এবং দিন দিন বাড়ছেই! সমস্ত ইন্ডাস্ট্রি, পাওয়ার প্ল্যান্ট গুলাতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা।
আর যেহেতু এটা মাদার সাব্জেক্ট, তাই এটা থেকে বের হবার পর তুমি মেকানিকালের অধিভুক্ত সেক্টরগুলো যেমন আইপিই, লেদার, টেক্সটাইল এও সুইচ করতে পারবে, নন মেজর ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।
পরিশেষে একটা কথাই বলবো, ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোনো সাব্জেক্টই সহজ না, অনেক পরিশ্রম করতে হবে...  তবে ভালবাসতে পারলে ঠিকই সুন্দরমতো মানিয়ে নেওয়া যায়।
যদি মনে হয় তুমি মেকানিকালকে আপন করে নিতে পারবে, মেকানিকালের দুনিয়ায় তোমাকে স্বাগতম, হবু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার!

Samiul Alam Pranto
ME
batch 2k16
KUET.

Subject Review on CSE ( Computer Science and Engineering )

Subject Review on CSE ( Computer Science and Engineering )

    - CSE তে পড়বো, পড়াশুনা করতে ভালো লাগে না আর । টাকা ইনকাম করবো এখন ।     - আচ্ছা, এর সাথে CSE এর কি সম্পর্ক ? - তুই দেখি কিছুই জানিস না । এক ভাইকে দেখছি , আউটসোর্সিং করে অনেক টাকা ইনকাম করে        । আর CSE তে রেসাল্ট খারাপ হইলেও কোন সমস্যা নেই । একজন ভাই ফেল করছিল , কিন্তু তবুও লাখ লাখ টাকা বেতনের চাকরী করতেছে।

এই ধরনের চিন্তা থেকে যদি CSE পড়তে আসতে চাও, তবে তোমাকে আমি আশ্বাস দিতে পারি , তুমি হতাশ হতে চলেছো । তাই এই মূহুর্তে তোমার ডিসিশন শিথিল করে বাকিটুকু পড়তে পারো ।
এখন CSE অনেকটা ট্রেন্ডিং একটা সাব্জেক্ট । সবার মুখে মুখে এর নাম শোনা যায় । এই সাব্জেক্টে পড়তে পারলে একটা ভাব হয় । আমি আশা করবো শুধু এই কারণে তুমি যেন CSE পড়তে না আসো ।
কি ধরনের কোয়ালিটি থাকলে তুমি CSE পড়তে এসে মজা পাবা, CSE তোমার পছন্দের সাব্জেক্ট হতে পারে ।
লেগে থাকার অভ্যাসঃ লেগে থাকার অভ্যাস একটা দক্ষতা । ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ১২ পর্যন্ত যখন ম্যাথ করতাম তখন কি কখনো ভাবতাম এগুলো কেন করতাম ? যদি কারো নিজে নিজে সেগুলো চেষ্টা করার অভ্যাস থেকে থাকে , একাই একাই ম্যাথ বা অন্য প্রব্লেম সলভ করার অভ্যাস থেকে থাকে , একবার না পারলে সেটা ছেড়ে দেয়ার পরও আবার মাথায় সেই প্রব্লেম ঘুরতে থাকে, সমাধানের হাজারটা উপায় খুঁজতে থাকো,  তবে CSE তোমাকে হতাশ করবে না কখনো । চারটি বছর অনেক আনন্দময় হবে ।
বিশ্লেষণ ক্ষমতা (Analytical Skill):   আমরা সাধারণত যাদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা অনেক ভালো তাদের ক্রিয়েটিভ বলে ফেলি । এই বিশ্লেষণ ক্ষমতা আসলে কি ?  এটি হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ, সেগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন সমস্যা সমাধানের একটা দক্ষতা । তোমার কাছে যে তথ্যগুলো থাকবে সেগুলো ব্যবহার করেই একটা ডিসিশন মেকিং, একটা বেস্ট ডিসিশন মেকিং । এখানে বলে রাখি, যাদের HSC তে ম্যাথ আর থিওরিক্যাল বিষয়গুলোতে ইন্টেরেস্ট ছিলো বেশি তারা এই বিষয়টা উপভোগ করবা । তোমাকে হতে হবে একজন প্রব্লেম সলভার, একজন নতুন আইডিয়া জেনারেটর ; প্রবলেম সল্ভিং তোমার জন্য এক খেলার মতো উপভোগ্য একবিষয় ।
আমি মনে হয়, তোমাদের CSE নিয়ে ডিমোটিভেট করে ফেললাম কাউকে কাউকে। কিন্তু তোমাকে যাতে CSE নিয়ে পড়ার সময় হতাশ হতে না হয়, সেজন্য বাকি অংশটুকু পড়ে ফেলো একটু সময় নিয়ে ।
এই সাব্জেক্টের কি কি ল্যাব আছে, সেটা এক ঝলকে দেখে ফেলা যাক ।

   Introduction to Computer
   Structured Programming Laboratory (C Language)
    Computer Aided Design Laboratory
   Object Oriented Programming Laboratory
   Data Structures and Algorithms
   Advanced Programming
   Algorithm Analysis and Design Laboratory
   Microprocessors and Microcontrollers Laboratory
    Numerical Methods Laboratory
   Web Programming Laboratory
   Database Systems Laboratory
    Software Engineering and Information Systems Laboratory
   Peripherals and Interfacing Laboratory
   System Development Project
   Operating Systems Laboratory
   Complier Design Laboratory
   Mobile Computing Laboratory
   Computer Networks Laboratory
   Artificial Intelligence Laboratory
    Technical Writing and Seminar

এগুলো নিয়ে গুগল করো, এসব নিয়ে তোমার ইন্টারেস্ট কাজ করে কি না ? এমন গুগল করে করে শেখার অভ্যাস খুব জরুরি । এই সাব্জেক্ট এ পড়তে হলে অনেক কিছুই তোমার নিজে নিজে শিখে নিতে হবে । সেই মাইন্ডসেট নিয়েই যেন তুমি আসো, খেয়াল রাখবে অবশ্যই ।
আমি ধরে নিচ্ছি , প্রোগ্রামিং, অ্যালগরিদম, ডেটাবেজ, অপারেটিং সিস্টেম সহ রিলেটেড বিষয় গুলো নিয়ে তুমি HSC ICT তে ধারণা অর্জন করে ফেলেছ । আরো একটু ভালো ধারণা অর্জনের জন্য এই লেখাটা পড়তে পারো ।
CSE পড়ে কি করবো ?

   এখন আমরা প্রযুক্তির যে পর্যায়ে বসবাস করছি , এখনের Social Problem গুলোর বেস্ট সলুশনগুলো হবে ICT Based সলুশন । সেক্ষেত্রে CSE এর স্টুডেন্টরা এগিয়ে থাকবে ।
   বাংলাদেশে যখন টেলিকম কম্পানিগুলো তাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানো কাজ করছিল তখন প্রচুর পরিমাণে EEE  ইঞ্জিনিয়ার দরকার ছিল । কিন্তু তাদের নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কাজ শেষে তারা এখন ভ্যালু সার্ভিসগুলোতে মনোযোগ দিচ্ছে । আর এখনেই CSE এর স্টুডেন্টদের প্রয়োজন ।
   বাংলাদেশে CSE পড়ে তোমার ক্যারিয়ার কি হতে পারে। এখানে পড়ে ফেল ঝটপট ।
   অ্যান্ড্রয়েড আপ ডেভেলপ করেও তা প্লে স্টোরে রেভিনিউ জেনারেট করতে পারো । কিংবা আইফোনের জন্যও অ্যাপ ডেভেলপ করতে পারো । কোন একটি ভালো অ্যাপের রেভিনিঊ ৬ ডিজিটের সংখ্যা বা তারচেয়ে বেশি হতে পারে । এক্ষেত্রে মানুষের প্রবলেম সলভ করাটাই মেইন কনসার্ন হওয়া উচিত ।
   · তুমি চাইলে নিজেই একটা Start Up দিয়ে ফেলতে পারবে । শুধু কম্পিউটার আর তোমার ব্রেইন দিয়েই তুমি একটা কোম্পানি শুরু করে দিতে পারো । তোমার কোম্পানী তুমিই CEO , কি মজা , তাই না ।
   বাংলাদেশে CSE graduate দের সেলারি সাধারন 40K+ হয়, ৬ মাস চাকরী করার পর 60-70k । আবার এখানে একটা মজার ব্যাপার ঘটতে দেখবে , CSE graduate দের কেউ দেখবে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার আগেই জবের অফার পাচ্ছে , আবার কেউ জবই পাচ্ছেই না , শেষে 10-20k সেলারির চাকুরি করতে হচ্ছে । আবার কাউকে দেখবে দেশেই 100k+ সেলারি পাচ্ছে । আর দেশের বাইরে যেতে চাইলে সেলারি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে । তোমার দক্ষতাই তোমার পরিচায়ক।
   আউটসোর্সিং করেও তুমি ভালো ইঙ্কাম করতে পারবে । একেকটা আপ ডেভেলপমেন্টের প্রোজেক্ট ৫০০ ডলার থেকে শুরু করে ১৫০০+ ডলার হতে পারে । আবার গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলমেন্টের অনেক কাজ করেও অনেকে মোটা অংকের প্রফিট জেনারেট করে । তবে ক্যারিয়ার হিসেবে আউটসোর্সিং দীর্ঘমেয়াদি কোন ক্যারিয়ার হতে পারে না বলে অভিজ্ঞরা মতামত দেন ।
    প্রোগ্রামিং এ আনন্দ না পেলে নেটওয়ার্কিং এ ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে তোমার জন্য । তবে প্রোগ্রামিং এ আনন্দ না পেলে গ্রাজুয়েশনের ৪ বছর যে আনন্দদায়ক হবে না তা আশা করি বুঝতেই পারছো এতক্ষণে ।

নিচের বিষয়গুলো নিয়ে অতি আগ্রহীরা একটু নেটে সার্চ করতে পারো ।

   আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভবিষ্যতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে । তুমি যে ফেসবুক ব্যবহার করো , কখনো কি ভেবে দেখেছো ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে দেয়া তোমার ছবিটাতে নিজে নিজে কি করে চিনে নিচ্ছে ।
   বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি, মানে অনেক পরিমাণ ডাটা ( Big Data)। মেশিন লার্নিং অনেক সম্ভাবনাময় একটা ক্ষেত্র হতে চলেছে আগামীতে।
   ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) নিয়ে ঘাটতে পারো ।

অনেক কথা হলো এবার কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং নিয়ে কিছু বলি,
কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং (Competitive Programming) হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক ( বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ) এক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা । কিছু সমস্যা দেয়া থাকবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলো সমাধান করতে হবে । কিছু ওয়েবসাইটে এগুলো আয়োজন করে থাকে । সবার র‍্যাংকিং করে । তুমি সারা বিশ্বের সেরা প্রোগামারদের সাথে প্রতিযোগিতা করার এক অসাধারণ সুযোগ পাবে। আবার কোন কোন কন্টেস্টে বেশি ভালো করলে বড় বড় কোম্পানি গুলো ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকে । কখনো কখনও কন্টেস্টে ভালো করলে প্রাইজ মানি থাকে , কি মজা ! এই কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং যে কতটা আনন্দময় আর আমেইজিং একটা কিছু হতে পারে , নিজে পারটিসিপেট না করলে বুঝতে পারবে না। এবার এই আনন্দ পেয়েছে এমন কয়েকজনের কথা বলি ।
Special Group Interested in Programming Contest , ছোট করে SGIPC । KUET এর একটা ক্লাব । নাম শুনেই বুঝতে পারছো এই ক্লাবের কাজ কি হতে পারে । কিন্তু যেটা বুঝতে পারছো না , তা হচ্ছে এর সাথে যুক্ত কিছু মানুষ , তাদের প্রোগ্রামিং এর প্রতি ভালোবাসা । এরা হচ্ছে “নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো” টাইপ মানুষ । সকাল ৮ টা থেকে ক্লাস , বিকেলে আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ল্যাব করে ক্লান্ত হওয়ার পর, সন্ধায় কিছু ছেলে-মেয়েদের প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য নতুন করে উদ্দীপ্ত হয়, সেই উদ্দীপনা তাদের ক্লান্তি দূর করে দেয় । প্রোগ্রামিং এর সব ধরনের হেল্প করার জন্য তারা আছে সবসময় ।
স্টিভ জবসের একটা কথা বলে শেষ করবো ,

"Your work is going to fill a large part of your life, and the only way to be truly satisfied is to do what you believe is great work. And the only way to do great work is to love what you do. If you haven't found it yet, keep looking. Don't settle. As with all matters of the heart, you'll know when you find it."

সবকিছুর পরে নিজের লাইফ, নিজে বুঝে ডিসিশন নিবা । সবগুলো কথা মাথায় রেখে, নিজের ইচ্ছাতেই যদি CSE পড়তে চাও, তবে তোমার জন্য এক স্বপ্নময় সুন্দর সময় অপেক্ষা করছে । WELCOME TO KUET CSE .

                                                      
রেজওয়ান আল কাওসার                                                         CSE 2k16, KUET

SUBJECT_REVIEW #PHYSICS

SUBJECT_REVIEW
#PHYSICS
#PHYSICS_JOBs_SALARY
ও তুমি পদার্থবিজ্ঞানে পড়? পদার্থবিজ্ঞান পইড়া কি হবে? (What will you do after studying physics?) expressionless emoticon
ইন্টারমিডিয়েট এ থাকাকালীন সময়ে অনেকের ফিজিক্স অনেক ভাল্লাগে। কিন্তু টু বি হনেস্ট, যখন ভার্সিটির ভর্তি আসে তখন মেরিট লিস্টে প্রথম দিকে থাকা সবাইই এই সাব্জেক্টটাকে এড়িয়ে যান। তারা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং , সিভিল, মেকানিকাল, আইপিই ইত্যাদি সাব্জেক্টে আগে ভর্তি হয়ে যান। এর কারণ কি?
(১) পিওর সাব্জেক্ট হওয়ার কারণে, তুলনামূলক ভাবে এই সাব্জেক্ট অনেকটাই কঠিন। (ইহা কঠিন সত্য)
(২) এই সাব্জেক্টের নাকি ফিউচার নাই? Seriously????
আসেন এই সাব্জেক্ট এর ফিউচার দেখাই -
1. NASA ,
The Dream Job for all Physicist. যারা বলেন ফিজিক্সে ফিউচার নাই , তারা হয়ত জানেন না NASA তে চাকরী করা অধিকাংশ লোকই ফিজিক্সের গ্রাজুয়েট। এবার বলতে পারেন, এইটাতো ছেরা কাথায় শুয়ে চাদের সপ্ন দেখার মত।
.
একটা গল্প বলি , শাবিপ্রবির (SUST) এক বড়ো ভাইয়ার গল্প।উনার নাম অমিত বিক্রম। শাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমদিকে অবস্থান ছিলো উনার। ভাইয়ার ইচ্ছা ছিলো থিওরিটিক্যাল পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার। তাই উনি পদার্থবিজ্ঞানেই ভর্তি হলেন। এখন নাসায় আছেন।
আর একজন ভাইয়ার কথা বলি। নাবিল ভাইয়া। সাস্ট থেকে পদার্থবিজ্ঞানে পাশ করেছেন। সাস্টের ড্রোন টিমের অন্যতম পাইওনিয়ার। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রজেক্টেও ডাক পড়ে উনার। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হলো ভাইয়া নিজে PHD করেন নি। কিন্তু উনার আবিষ্কার এখন PHD গবেষক রা ব্যবহার করেন ।প্রত্যেক বছর নাসাতে এইরকম আরো অনেক পদার্থবিদদের জায়গা হয়।
NASA তে পদার্থবিদদের জন্য জবঃ Computer Scientist,Astrophysi­cs,Physical Scientist ,Research consultant, Data scientist
.
NASA তে Salary: $86,000-$155,000 (Yearly) যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১,৩১,৭৫,০০০ টাকা।
2. Google এ প্রায় ২০০+ সিট আছে পদার্থবিদদের জন্য। যেমনঃ Marketing Analytical Manager ,Software Engineer, Audio System Engineer,Data Scientist.
MICROSOFT এ Salary: সর্বনিম্ন $93,000 থেকে $160000(Yearly) ডলার দিয়ে একজন পদার্থবিদকে সম্মান করা হয়। বাংলাদেশী টাকায় যা ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা।
এছাড়াও,
3. CERN
4. Microsoft
5. Accenture
6. Air Force Research Laboratory
7. Ajax Tocco Magnethermic
8. Battelle
9. Boeing
10. CAR Technologies, LLC
11. Center for Automotive Research
12. Cisco Systems
13. Cook Nuclear Plant
13. Electroscience Laboratory
14. Fort Calhoun Nuclear Station
15. General Electric Aviation
16. Great American Financial Resources
17. Honda Research and Development Americas, Inc.
18. IBM
19. Idaho National Laboratory
20. ITT Industries
21. Johns Hopkins University Applied Physics Lab
22. JP Morgan Chase
23. Meyer Sound, Inc.
24. Nationwide Financial
25.Raytheon Integrated Defense Systems
26. Wright-Patterson Air Force Base
27. Accelerator Operator
28. Applications Engineer
29. Data Analyst
30. Design Engineer
31. High School Physics Teacher
32. IT Consultant
33. Lab Technician
33. Laser Engineer
34. Optical Engineer
35. Research Associate
36. Software Developer
37. Systems Analyst
38. Technical Specialist
39. Web Developer
এই জবগুলার প্রতেকটার Monthly Salary 3500$-15000$ এর মধ্যে , বাংলাদেশী টাকায় মাসিক প্রায় ২,৯৭,৩২৫ থেকে ১২,৭৪,২৫০ টাকা। এর পরেও বলেন ফিজিক্সে জব নাই।
.
এতক্ষন তো বিদেশের কথা বলতেসিলাম এবার আসেন, একটু বাংলাদেশে আসি,
.
সরকারী চাকরীঃ
১।বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এ Scientific Officer হিসেবে সরকারী বেতন স্কেল অনুযায়ী ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা ( বেতন স্কেল) প্রদান করে একজন পদার্থবিদকে সম্মানিত করা হয়।
২। মহাকাশ গবেষনা কেন্দ্র এ Scientific Officer হিসেবে সরকারী বেতন স্কেল অনুযায়ী ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা ( বেতন স্কেল) প্রদান করে একজন পদার্থবিদকে সম্মানিত করা হয়।
৩। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ যা সাইন্স ল্যাব হিসেবে পরিচিত ,এখানে সাইন্টিস্ট হিসেবে একজন পদার্থবিদকে নিয়োগ দেওয়া হয় যাদের স্যালারী থাকে ২২,০০০ থেকে ৫৩,০৬০ টাকা ( বেতন স্কেল অনুযায়ী)
৪। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক। (BUET,CUET,SUST,DU)
.
বেসরকারী চাকরীঃ
১। ব্যাংক - Probationary Officer যাদের স্টার্টিং স্যালারীই থাকে ৩৮ হাজার টাকা।
২। ইলেক্ট্রিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট- বাংলাদেশে অনেক গুলা ইলেক্ট্রিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট আছে ,
-Nuclear Power Plant Bangladesh
- North West Power Gen
-Ashuganj Power Station Co Ltd
-Max Powerplant Bangladesh
এসব কোম্পানীতে ৩৩ হাজার টাকা স্টার্টিং স্যালারী দিয়ে একজন পদার্থবিদকে Executive Trainee হিসেবে রাখা হয়।
৩। Bangladesh Petrolium Institute (BPI) তে একজন পদার্থবিদকে ৫০,০০০ থেকে ৭১,২০০ টাকা স্যালারী দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।
৪। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও সস্তি লিমিটেড এ স্টার্টিং এ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে একজন পদার্থবিদকে প্রোগ্রামার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যদিও প্রোগ্রামার হতে কোন সাব্জেক্টের দরকার নাই তারপরও ফিজিক্স ব্যাকগ্রান্ড নিয়ে প্রোগ্রামার হওয়ার আলাদা একটা মুল্য আছে ।
.
তবে আপনি যদি ফিজিক্সে ভর্তি হয়েই চিন্তা করেন, যে আপনি সব যায়গায় চাকরী পেয়ে যাবেন তাহলে এই সেক্টর আপনার জন্য না। শাবিপ্রবির CSE'র অধ্যাপক এবং EEE বিভাগের প্রধান ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার বলেছেন, "আমি কেন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং আর ইলেক্ট্রিক নিয়ে কাজ করতে ভয় পাই না জানো? কারণ আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম।"
সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, " যদি ফিজিক্স কে ভালো না বাসো? তবে এ সাব্জেক্ট এ এসো না "
কালেক্টেড

Subject Review:MICROBIOLOGY

Subject Review:MICROBIOLOGY
(পুরো পোস্ট পড়বে।চবি মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে লেখা রয়েছে)
ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক—এ ধরনের জীবাণুর নাম শুনলেই কেমন একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সবার মনে। তবে বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে অনেক আগ থেকেই। সব জীবাণু যে অমাদের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বরং এর থেকে আবিষ্কার হয়েছে জীবন রক্ষাকারী পেনিসিলিনের মতো বিস্ময়কর ওষুধ। তবে এ সবই সম্ভব হয়েছে অণুজীববিজ্ঞানীদের কল্যাণে। এই ছোট ছোট জীব নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পড়তে পারেন মাইক্রোবায়োলজি বা (অণুজীববিজ্ঞান)। আর হতে পারেন অণুজীববিজ্ঞানী।
অণুজীববিজ্ঞান: মাইক্রোবায়োলজি গ্রিক শব্দ মাইক্রস (Mikros) মানে অণু, বায়োজ (Bios) মানে জীবন এবং লজিয়া (Logia) মানে জ্ঞান থেকে এসেছে। অণুজীব একধরনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এককোষী জীব, যা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া খালি চোখে দেখা যায় না। যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি। এক কথায় বিজ্ঞানের যে শাখা জীবাণু ও অণুজীব নিয়ে কাজ করে, তাকেই অণুজীববিজ্ঞান বলে। তিনি আরও বলেন, জীবাণুর চরিত্র, বংশবিস্তারের পদ্ধতি, দুষ্ট ও ক্ষতিকর জীবাণু থেকে বাঁচার উপায়, উপকারিতা—এই বিষয়গুলোই হচ্ছে মাইক্রোবায়োলজির নিরন্তর গবেষণার বিষয়।এত এত রোগ আবিষ্কার ও তাদের প্রতিষেধক আবিস্কার সব ই মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দান।
১৯৭৫ সালে চিকিৎসক এম আর চৌধুরীর নেতৃত্বে ১২-১৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্ট (বিএসএম) নামক একটি সোসাইটির মাধ্যমে প্রথম অণুজীববিজ্ঞানের কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ১৯৭৯ সালে মাস্টার্স কোর্সের মাধ্যমে।
পড়তে হলে: অণুজীববিজ্ঞান বিষয়টি জীববিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত।
যা পড়ানো হয়: এ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে মূলত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল সম্পর্কে বিশদ পড়ানো হয়। এ ছাড়া জেনারেল মাইক্রোবায়োলজি, বেসিক টেকনিক ইন মাইক্রোবায়োলজি,বেসিক বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবিয়াল ইকোলজি, জেনেটিক্স, ইমুনোলজি, এনজাইমোলজি, এনভায়রনমেন্টাল, ফুড, মেডিকেল, সয়েল, এগ্রিকালচারাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, ফার্মাসিউটিক্যালস, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, এনালিটিক্যাল, মাইক্রোবিয়াল, ব্যাকটেরিয়লজি, কোয়ালিটি কন্ট্রল অব ফুড, ফিশ অ্যান্ড বেভারেজ ইত্যাদি বিষয় পড়তে হয়।
কাজের ক্ষেত্র:মাইক্রোবায়োলজিস্টদের বলা হয় 'সেকেন্ড ডক্টর '।
এ বিষয়ে পড়ে হতে পারেন সাইনটিস্ট, মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ, প্রোডাক্ট স্পেশালিস্ট, ডায়াগনস্টিক স্পেশালিস্ট, , গবেষক ও শিক্ষক। এসব পদে আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠান, ভেকসিন প্রোগ্রাম, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক প্রকল্প, খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, ডেইরি ফার্ম, বায়ো ইন্ডাস্ট্রি, পেপার ইন্ডাস্ট্রি, টেক্সটাইল মিল, পরমাণু শক্তি কমিশন, পাট গবেষণা কেন্দ্র, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি ও পরিবেশ ক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কাজের ব্যাপক সুযোগ।
এস আই খান বলেন, যাঁরা এসব বিষয়ে ভালো করতে চান, তাঁদের থাকতে হবে গবেষণার মনোবৃত্তি। তাহলে খুব সহজেই পৌঁছে যাবেন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে।।
তাছাড়া জব পেতে পারেন এটমিক এনার্জিতে।এটমিক এনার্জির জব কে মাইক্রোবায়োলজিস্টদের জন্য One of the best jobs বলা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৬ সালে।চবির মাইক্রোবায়োলজি বাংলাদেশের সেরা মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট গুলোর অন্যতম।এখানে পাবে তুমি নিজের জ্ঞান কে বাড়ানোর সুযোগ।সিনিয়র দের ভালোবাসা আর টিচার দের সাহায্য কোনো কিছুতেই যেন কোনো কমতি নেই।এখান থেকে তুমি হতে পারবে American society for microbiology এর সদস্য।American society for microbiology এর সদস্য বিশ্বের সকল নামীদামী মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও মাইক্রোবায়োলজি এর শিক্ষার্থীরা।তুমি তাদের সাথে যোগাযোগের এবং নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছো একদম ফ্রি তেই! যা তোমার ফিউচারে অনেক কাজে দিবে। আর মনে রাখবে Time and microbiology wait for none 😉 এখানে নেই কোনো সেশন জট।৩ বছর ৯ মাস এ অনার্স কম্পলিট করতে পারবে চবি মাইক্রোবায়োলজি থেকে।তাছাড়া চবি মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট এ রয়েছে সকল ধরনের ল্যাব সুবিধা।মাইক্রোবায়োলজি তে প্রয়োজন এমন সব যন্ত্রপাতিই রয়েছে ল্যাবে।অজানাকে জানার জন্য ল্যাব গুলোতে কাজ করার সুযোগ পাওয়াও কিন্তু ভাগ্যের ব্যাপার।প্রতি বছর বিভিন্ন ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্যুর এ নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবে, অজানাকে জানতে পারবে।ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ট্যুর কিন্তু পিকনিক, স্টাডি ট্যুর থেকে অনেক আলাদা। এই ডিপার্টমেন্ট থেকে মোটামুটি সবাই ভালো একটি পজিশন এ গিয়েছে। হোক সেটি দেশে, হোক সেটি দেশের বাহিরে।তাছাড়া রয়েছে স্কলারশিপ এর অনেক অনেক সুযোগ এবং রিসার্চ এর জন্য অনেক ম্যাটেরিয়াল।মোটকথা এখানে একটু পরিশ্রম করতে পারলে পিছে ফিরে তাকাতে হবে না।
সবার জন্য শুভ কামনা।
Farhana Piya.
Head of HRM.
Department of Microbiology.
University of Chittagong

Subject Review:- Mathematics

Subject Review:- Mathematics
গণিত নিয়ে পড়ে কি হবে ??
স্কুল জীবনে সবাই মোটামুটি একটি কমন রচনা
ইংরেজীতে লিখেছি আমরা, নাম, “এইম-ইন-লাইফ”,
লিখতে গিয়ে আমাদের প্রায় সবারই উত্তর ছিল ডাক্তার
হব, গ্রামে গিয়ে জনগণের সেবা করব, বিনা পয়সায়
চিকিৎসা করব, অথবা ইন্জিনিয়ার হব, দেশের উন্নয়ন করব।
কলেজের পর ভর্তি কোচিংও করেছি সেভাবেই। কিন্তু
বিধি বাম বা দূর্ভাগ্য যাই বলিনা কেন, ভর্তি পরীক্ষায়
অনিচ্ছাকৃত চান্স, গণিত বিভাগ। হায় কি হবে ভবিষ্যত ?!
প্রথম বর্ষেই অনেকেই বিষয় পরিবর্তন করার জন্য ক্লাস
বর্জন করে, হতাশায় ভুগে, নানান বিধ চিন্তা করে
পুণঃভর্তি হয় সেই প্রথম বর্ষেই, মাঝখান থেকে জীবনের
একটি বছর এমনিতেই যায়, আবার অনেকেই একই হতাশা
বা অনীহা বয়ে বেড়ায় পুরু অনার্স জুড়ে, ফলে পরীক্ষায়
ভাল ফলাফল আসেনা। অথচ উন্নত দেশগুলোতে গণিত
বিষয়টি সবচাইতে মেধাবীদের পছন্দের একটি বিষয় !!
কারণটা কি?? সহজ উত্তর, সেসব দেশে ভাল চাকরী
পাওয়া যায়, আমাদের দেশে যায়না, আসলে ধারণাটা
ভুল !! আজ এই বিষয়ে, মূলত: আজ আমি দেখাব গণিতের
ভবিষ্যত, দেশে ও বিদেশে।
প্রথমে দেশের কথায় আসি, গণিত পড়ে দেশেই ভাল কিছু
করা যায়। যেমন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা,
ব্যাংক, করপোরেট অফিসগুলোতেও গণিতবিদ লাগেই।
দেশে এখন ইউজিসির হিসাব অনুযায়ী যেসব সরকারী
বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আছে,
যেখানে গণিতের শিক্ষক লাগবেই, শিক্ষক সংকটের
কারণে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সরকারী
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হায়ার করে খন্ডকালীন
ক্লাসের ব্যবস্থা করতেছে, কারণ কোয়ালিটি সম্পন্ন
জ্ঞান দান। কিন্তু এই খন্ডকালীন শিক্ষকের প্রয়োজন
হতোনা যদি আমাদের দেশের গণিত নিয়ে পড়ার আগ্রহটা
থাকে শুরু থেকেই আমাদের মাঝে, তাহলে রেজাল্ট ভাল
হবে, গবেষণা পত্র থাকবে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
দেখবে, মাস্টার্স পাশ একজন ছাত্র রেজাল্ট ভাল
(সিজিপিএ ৩,৫০ এর উপর), ইন্টারনেশনাল জার্নালে
গবেষণাপত্র আছে, তখন লুফে নিবে তাকে। আস্তে
আস্তে চাহিদা বাড়বে। এখন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গ
ুলোতে সম্মানীও খারাপ না । পর্যায়ক্রমে এটাও বাড়বে।
তাছাড়া গবেষণা উপস্থাপনের জন্য পৃথিবীর আনাচে
কানাচে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগতো থাকছেই, তাও বিনা
খরচে অথবা স্বল্প খরচে !!! কিন্তু এর জন্য দরকার মান
সম্পন্ন গবেষণা, তাও সেটা হবে তখনই যখন প্রথম বর্ষ
থেকেই গণিতের খুঁটিনাটি বিষয়ে সিরিয়াস থাকতে
হবে।
এবার আসি, ব্যাংকগুলোতে, হ্যাঁ এটা ঠিক,
ব্যাংকগুলোতে ব্যাবসা বিষয়ে যারা পড়ে তাদের
প্রাধান্য থাকে, কিন্তু ভাল ভাল ব্যাংকগুলোতে লাখ
টাকার সম্মানীতে চাকরী করতেছে গণিতবিদরা। আর বড়
বড় মাল্টিন্যাশনাল করপোরেট অফিসগুলোতেও গণিতবিদ
লাগেই, তবে তাদের ধীরে ধীরে বুঝাতে হবে,
গণিতবিদরা বিজনেস স্টাডিস নিয়ে যারা পড়েছে,
তাদের বস !! আর এটা তখনই হবে যখন অনার্স প্রজেক্ট বা
মাস্টার্স থিসিস এর সময় ইন্টার্নশীপ ব্যাবস্থা করে
দেওয়া হবে সেই অফিস গুলোতে, যেটা বিজনেস
ফ্যাকাল্টি করে থাকে, তাদের সাথে প্রতিযোগীতা
করে এই যায়গাটি আমাদের পাকাপোক্ত করে নিতে
হবে। ডেনমার্কের কোপেনহেগ বিজনেস স্কুল এর এমবিএ
আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, আর সেখানে প্রথম ১ বছর
পড়ানো হয়, লিনিয়ার এলজেবরা, মাল্টি ভ্যারিয়েবল
ক্যালকুলাস, ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন, ফাংসনাল
এনালাইসিস, টপোলজি।
এবার যেটা বলেছিলাম, বিদেশে গণিত পড়লে ভাল
চাকরী পাওয়া যায়, তাই সেখানকার ভাল ভাল
মেধাবীরা গণিত পড়তে চায়। কথাটা আংশিক সত্য,
পরোপুরি না, মূলত: গণিত মানেই উন্নত দেশগুলোতে যেটা
বুঝানো হয়, গবেষণা, আর গবেষণা বাবদ আছে প্রচুর অর্থ,
এটাই চাকরী। এছাড়া আর সবই আমাদের দেশের মতই,
এখানেও দেখতেছি আই-আর বিষয় নিয়ে পড়েও ব্যাংক এ
চাকরী করতেছে। কিন্তু এদের গণিত পড়ার মূল আগ্রহ
থাকে নিজেকে একটু আলাদা করে ভাবতে, গণিত পড়তে
পারাটা এদের কাছে বিরাট সম্মানের। অনেকটা
আমাদের দেশের ইন্জিনিয়ার বা মেডিকেল এ পড়তে
পারার মত। কারণ, এরা অর্থের চাইতে সম্মানটা বড়, হয়ত
অর্থ প্রচুর আছে তাই এমন ভাবে, কিন্তু এটা সত্যিই যে,
গণিত বিষয়টা খুব কম ছেলে-মেয়েই সিলেক্ট করে। যারা
করে তারা আলাদা চিন্তাবীদ। সে যাকগে, তাতে
আমাগো কি?? আমাগো দেখা দরকার ফিউচার ইন
বিদেশ, তাই তো ?? তবে বলি, পৃথিবীর সবচাইতে বেশি
স্কলারশীপ এখন গণিতের গবেষণায়। বিশেষ করে
আমেরিকা, কানাডা, জার্মানী, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড,
ন্যাদারল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন সহ বড় বড় ভাল
অর্থনীতির সব দেশে। কিছু কিছু স্কলারশীপ আছে শুধু
গণিতবিদদের জন্যই, এই বিষয়ে আরেকদিন লিখব।
শুধু শেষ করছি,গণিত এমন একটা বিষয়, যেটা পড়লে জীবন
অচল হবেনা কোনদিনই, সেটি দেশে হোক, বিদেশে হোক।
মান নিয়ে একটু তারতম্য আছে, সেটা থাকতেই পারে।
Md.Asif Ur Rahman
EEE.CU

Subject Review -EEE

Subject Review -EEE
নামটা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ইচ্ছুক এমন সকলের কাছেই নামটা পরিচিত।
EEE এর পূর্নরূপ হলো Electrical & Electronic Engineer যার বাংলা করলে দাঁড়ায়
"তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল"..নাম দেখেই সাবজেক্ট সম্পর্কে অনেকাংশে ধারনা করা যায়।

সবচেয়ে পুরোনো,প্রচলিত,আভিজাত্যের স্বাক্ষর এই বিষয়ের গুরুত্ব আমরা ঘুম থেকে উঠা শুরু করে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত দেখতে পাই। সত্যি বলতে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম কনার একটিকে বাদ কিভাবে চলা সম্ভব!! হ্যা, আমি ইলেক্ট্রনের কথাই বলছি!! দিনের শুরু থেকে শেষে এই ছোট কনার প্রবাহের উপরেই আমাদের লাইফস্টাইল গড়ে উঠতেছে,আর এই প্রবাহের প্রকৌশলীই হলো ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা। তাই আলাদা করে বিষয়ের গুরুত্ব বোঝাব না..
অনেকেই বলবে"ভাইয়া,এই বিষয়ের ক্ষেত্র কোন কোন জায়গায়??"এই ছোট প্রশ্নের উত্তর হিসাব হিসাবে বলতে পারি কোথায় নেই। যেখানেই বিদ্যুৎ এর নুন্যতম ছোয়া আছে সেখানেই আমাদের কাজ!!আর বিদ্যুৎ এর কাজ নেই এমন কিছু পাওয়া সত্যিই বর্তমানে খুবই কঠিন ব্যাপার।
এইচ এস সি তে তোমার যদি Math বা Physics খুবই পছন্দের বিষয় হয়,তোমার যদি সার্কিট সলভ করতে,ইকুয়েশন সলভ করতে খুবই ভালো লাগে,তোমার যদি ইলেক্ট্রনের মেকানিক্স যদি বিরক্তের না লাগে তবে ইইই তোমার জন্যই।আমি আবার বলছি ইইই তোমার জন্যই....

তোমার যদি উদ্ভাবনের খুব ইচ্ছা থাকে,যদি পৃথিবীতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাও তো তোমার জন্যই ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং.. মনে রেখ যে পৃথিবীতে আধুনিক সভ্যতার গোড়াপত্তন তড়িৎ এর উদ্ভাবনের পড়েই।
আপাতত ভাবে অনেকে মনে করে যে, ইইই তে শুধু পাওয়ার সেক্টর নিয়ে কাজ করে। কিন্তু মোটেই তা না!! তোমরা  এবার একটু ইইই এর পরিধির দিকে লক্ষ্য করে দেখো-
1)Power
2)Electronics
3)Telecommunication
4)Computer
5)Electrical Machines

Power সেক্টর নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নাই।শুধু বলব যে, উন্নয়নশীল,সম্ভাবনার আমাদের এই দেশে বিদ্যুৎ এর দ্রুতবর্ধনশীল চাহিদার সামাল দিতে যে পরিমান পাওয়ার প্লান্ট,বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী হবে তা নিয়ন্ত্রনের পুরো দায়িত্ব থাকবে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের উপরেই.।
Electronics নিয়েও তোমরা অনেকে জানো.. আর বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স এর সাফল্য স্মার্টফোন,আইপ্যাড,ল্যাপটপ,টেলিভিশন আজ সবার হাতে আর ঘরে প্রয়োজনীতা এবং অবসরের সঙ্গী..ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার  ছাড়া এসব ডিভাইস উন্নতির সাধ্যি কার বলো!!অনেকের রোবোটিক্স নিয়ে অনেক আগ্রহ.. Microcontroller আর Microprocessor অপূর্ব মিশ্রন রোবোটিক্সের প্রতি তোমার ভালোবাসা বাড়িয়ে দেবে বহু গুনে। চাহিদার এ যুগে তোমার উদ্ভাবনের ইচ্ছা থাকলে ইইই হলো তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন।
Telecommunication হলো ইইই ইঞ্জিনিয়ারদের আরেক রনক্ষেত্র,যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সেক্টর সবচেয়ে দ্রুত হবার কারনে এর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।আমাদের দেশে নতুন নতুন তৈরী হওয়া নেটওয়ার্ক টাওয়ার, কভারেজ তৈরী আর সিস্টেম ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ইইই ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়।নিজেকে Telecommunication Engineer হিসাবে দেখতে চাইলে ইইই নেওয়াটা তোমার জন্য চুড়ান্ত সুযোগ..
এইবার আসি Computer sector এ..Computer এমন এক ডিভাইস যাকে কোন কিছু থেকে বাদ দেওয়া যায় না আর ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কম্পিঊটার থেকে বাদ দেওয়া যায় না!! কম্পিউটারের Microprocessor, Motherboard এর পরতে পরতে মিশে আছে ইইই ইঞ্জিনিয়ার।আর EEE পরে তোমার প্রোগ্রামিং করতে মোটেও অসুবিধা হবে না।আমার নিজের অনেক বন্ধুই আছে যারা ইইই পড়ে অস্থির লেভের কোডিং পারে!!  এমনকি অনেকে ইইই পড়ে একসময় প্রোগ্রামিং এর দিকে ঝুকে যায়!!ইইই পড়েছ বলে তুমি কোডার হতে পারবে না এটা পুরোই অবান্তর একটি কথা..

ইইই এর চাকরির বাজার নিয়ে কথা বলা রীতিমতন বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়!!যতদিন পৃথিবীর মানুষের ইলেক্ট্রনের প্রবাহের প্রয়োজন হবে, ততদিন ইইই ইঞ্জিনিয়াররা পৃথিবীতে থাকবে,আর তাদের চাকরির ক্ষেত্র ও কমার সুযোগ নাই! ইইই পড়ে বাইরে যেয়ে জব, রিসার্চের সুযোগ অনেক বেশি, দেশ বিদেশ যেখানেই যাবে সেখানেই সম্মানজনক অবস্থানে থাকবে..তোমার যোগ্যতার আর মেধার উপযুক্ত সমন্বয়সাধন করতে পারলে চাকরী নিয়ে তোমাকে কখনো ভাবতে হবে না।
স্যালারি নিয়ে কিছুই বলার নয়,শুধু একটুকু বলবো গুগল থেকে ঘেটে একটু দেখে নিও। তবে স্যালারী নিয়ে না ভেবে সাবজেক্টের প্রতি ভালোবাসা নিয়েই পড়তে এসো।
সকলের জন্য শুভ কামনা,তোমার সকলের সেকেন্ড ডিফারেন্সিয়াল যেন নেগেটিভ হয়।
আর যারা সত্যিকার অর্থে ইইই তে পড়তে চাও,তাদের জন্যও ভর্তি হবার শুভকামনা জানালাম,
দেখা হবে ইলেক্ট্রনের অর্ধঘূর্ননে :)


Samsad Hassan Arnob
KUET EEE'16

SUBJECT REVIEW - PHARMACY

"ফার্মেসি" সাবজেক্টটি নিয়ে সবারই কৌতুহলের কমতি নেই! চলো একনজরে জেনে নিই রাজকীয় সাবজেক্টটির বিভিন্ন খুঁটিনাটি।
subject Review - Pharmacy.
“Study in pharmacy and fly to America’’ – এমনই একরকম স্লোগান চালু হয়ে যায়। প্রথম দিককার বেশীরভাগ ফার্মাসিস্টরাই পাড়ি জমান আমেরিকায় ও মধ্যপ্রাচ্যে। আবার কেউ কেউ কানাডা, ইউকে বা অস্ট্রেলিয়ায়। বাকিরা যারা দেশে আছেন তাদের হাত ধরেই সামনের দিকে এগুতে থাকে আমাদের ওষুধ শিল্প। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধের চাহিদার ৯৭ ভাগই বাংলাদেশে তৈরি হয় আর রপ্তানি করা হয় বিশ্বের প্রায় ৮৭ টি দেশে। আগামী ১০ বছরে মধ্যে ওষুধ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য বা পথ্য। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের এই উৎকর্ষ যাদের হাত ধরে সাধিত হয়েছে তারা হচ্ছেন ফার্মাসিস্টরা।
#পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ফার্মেসী পড়ানো হয় ঢাকা,চট্টগ্রাম,জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, জগন্নাথ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কুমিল্লা, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (আরও ২/১ টা থাকতে পারে!)
#কি কি পড়ানো হয় ফার্মেসীতে?
ফার্মেসীতে যা পড়ানো হয় তার মধ্যে রয়েছে রসায়ন (inorganic/organic/physical/Analytical/Medicinal chemistry), মানবদেহ (Physiology/Anatomy), ওষুধবিদ্যা(Pharmacognosy / Pharmacology / Pharmaceutical technology / Quality control / Pharmaceutical Engg / Biopharmaceutics), লাইফ সাইন্স এর অন্যান্য বিষয় (Microbiology / Biochemistry / Biotechnology) ও Hospital pharmacy / Clinical pharmacy, Statistics সহ আরও কিছু বিষয়। এত বিষয় দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এসব বিষয় পড়তে হলে জীববিজ্ঞান (মানবদেহ) ও রসায়নে ভাল হতে হবে।
#সবাই যেটা জানতে চাই, আসলে চাকরীর অবস্থা কি ? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করে খুব একটা কেউ বেকার থাকে না। তবে ফার্মা ফিল্ডে চাকরী বেশ saturated হয়ে যাচ্ছে। দেশের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী পড়ানো হয়,তাই অনেকেই শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেয়। মোটামুটি ভাল রেজাল্ট নিয়ে ভাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হতে পারলে শিক্ষকতায় ঢোকা ব্যাপার না।
দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কেমন? একসময় প্রচুর ফার্মাসিস্ট বাইরে যেতেন। ২০০৩ সালের পর আমেরিকায় ৪ বছরের অনার্স ডিগ্রীধারীদের ফার্মাসিস্ট নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে দিচ্ছে না। অর্থাৎ কেউ যদি আমেরিকায় ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে চান তার ৫ বছরের অনার্স লাগবে বা ফার্ম ডি লাগবে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ফার্মাসিস্ট যেমন ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন তেমনি বাইরের দেশে বেশিরভাগ ফার্মাসিস্ট কমিউনিটি, রিটেইল, ক্লিনিক বা হসপিটাল ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেন আর তার জন্য লাইসেন্সধারী ফার্মাসিস্ট হতে হয়। আর ৪ বছরের অনার্স নিয়ে আমেরিকা ছাড়া অন্য যে কোন দেশে গিয়ে নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তবে আপনি পিএইচডি করতে চাইলে আমেরিকা যেতে পারেন। আমেরিকায় ফার্মেসী পড়ায় এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অন্যান্য বিষয়গুলোর তুলনায় কম হলেও প্রচুর ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার্থে(মাস্টার্স/পিএইচডি) করতে আমেরিকা, ইউকে সহ অন্যান্য দেশে যাচ্ছেন। অনেকেই বিসিএস দিয়ে আবার সরকারী চাকরীতেও যাচ্ছেন। কেউ হয়ত খেয়াল করে থাকতে পারেন ৩৩ তম বিসিএস এ সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন একজন ফার্মেসী গ্র্যাজুয়েট! <ফার্মেসী পড়ার একটা সুবিধা হল এ বিষয়ে পড়ে আপনি উচ্চশিক্ষার্থে লাইফ সাইন্স এর যেকোনো দিকে সুইচ করতে পারবেন। তাই আমার মতে যারা লাইফ সাইন্স পড়তে চান তাদের ফার্মেসী প্রথম চয়েজ হওয়া উচিত। ওষুধবিজ্ঞান উপভোগ করতে পারলে ভাল লাগবে অন্যথায় হতাশ হতে হবে। তবে পড়লে ভাল করে পড়তে হবে। এবার যারা ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসীতে আসছেন তাদেরকে ওয়েলকাম। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ফার্মেসীতে ভর্তি হচ্ছেন তাদেরকে ফার্মাসিস্ট জীবনে স্বাগতম।
Md. Murad Hossain
Electrical & Electronic Engineering
University of Chittagong

Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.