অপটপিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপটপিক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮

মেকানিকাল- কি এবং কেন ??-পর্ব- ২!! যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরি বাজার😊

যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরি বাজার😊
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশল সাবজেক্ট পেয়েছে- এমন সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই যারা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিক্ষেত্র সম্পর্কে একদমই জানে না, তাদের একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এ লেখায়।
এখানে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিক্ষেত্র এতটাই বিস্তৃত যে এই একটি পোস্টে সবকিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর সুযোগ থাকে না। তাই একদম বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
প্রথমে কিছু মিথ দূর করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে কেন জানি লোকমুখে এটা প্রচলিত যে, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের নাকি কোনো চাকরি নেই। কিভাবে এই কিংবদন্তি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লো সেটা জানা নেই, তবে বাস্তব পরিস্থিতি একদমই এমন না। যারা এমনটা বলেন তারা হয়তো কোনরকম তথ্য-উপাত্ত না ঘেঁটেই এমন মনগড়া কথা বলেন।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় মিথ সম্পর্কে। অনেকেই বলবে মেকানিক্যালে নাকি পড়াশোনা বেশি করা লাগে। এটা কিছুটা সত্য। এর কারণ হচ্ছে মেকানিক্যালের পড়াশোনার ব্যাপ্তি অনেক বেশি। এই বিষয়ের ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট এত বেশি হবার জন্যই চাকরির বাজারে এর এত ভিন্নতা। তাই এমন সুযোগ পাওয়ার জন্য কষ্ট একটু বেশি করাই লাগবে, এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
অনেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর সরাসরি চাকরিতে ঢুকে যায়, আবার অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য যায়। আমরা আমাদের আলোচনার ব্যাপ্তি শুধু চাকরিক্ষেত্রের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবো।
আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিগুলোকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায় ।
১) সরকারি চাকরি
২) প্রাইভেট/বেসরকারি চাকরি
১) সরকারি চাকরি
এখনকার দিনে সদ্য পাসকৃত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পেছনের কারণ হলো ভালো স্যালারি রেঞ্জ, চাকরি নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্মান। জাতীয় বেতন স্কেলের অষ্টম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন হয় অনেকটা এরকম: (ছবিতে দেখুন)
সরকারি চাকরিকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট অথবা সরকারি মালিকানাধীন কলকারখানা অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি। এই চাকরিগুলোর ক্যারিয়ার সেফটি যথেষ্ট ভালো। তাই এসব চাকরিতে ঢুকে চাকরি শঙ্কায় পড়তে হয় না কখনই।
#সরকারি কোম্পানিসমূহ:
১. পেট্রোবাংলা এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
২. বিসিআইসি এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
৩. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
৪. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
৫. বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প
৬. পল্লীবিদ্যুৎ
৭. বিটাক
৮. বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন
৯. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন
১০. ওয়াসা
১১. বাংলাদেশ রোড এন্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি
১২. বিএস টি আই
১৩. বি এ ডি সি এবং
১৪. বি সি এস সহ আরো কিছু জায়গাতে মেকানিক্যাল এর জব রয়েছে।
২) প্রাইভেট/বেসরকারি চাকরি
সরকারি চাকরিতে যাদের অনীহা তাদের মধ্যে বেসরকারি বা প্রাইভেট চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বড় অঙ্কের স্যালারির পাশাপাশি চাকচিক্যে ভরপুর অফিস, স্যুটেড-বুটেড কর্পোরেট লাইফ কে না চায়? সরকারি চাকরির মতো প্রাইভেট জব সেক্টরকেও দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথমটিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ চাকরি বলা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় অথবা কোনো সংস্থার দ্বারা গড়ে ওঠে। অটোমোবাইল সেক্টরে রানার মোটর, উত্তরা মোটর, এসিআই মোটর, নিলয় মোটর, আফতাব অটোমোবাইল, রহিমা আফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের মতো বিভিন্ন কোম্পানি আছে। অটোমোবাইল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এসব কোম্পানিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বেশ ভালো সুযোগ থাকে।
ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে বেক্সিমকো, স্কয়ার, রেনাটা, বেকন, একমি, রেডিয়েন্ট, ইনসেপ্টার মতো ভালো ভালো কোম্পানি রয়েছে, যারা প্রতিবছর অনেক ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়। সেই সাথে কিছু সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, পাওয়ার প্ল্যান্টও আছে যেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়। এছাড়া টেক্সটাইল সেক্টর, আরএমজি (রেডি মেড গার্মেন্টস) সেক্টরে চাকরি করার সুযোগ অনেক। আবার হোম অ্যাপ্লায়েন্স নির্মাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বিরাট একটি ক্ষেত্র রয়েছে ।
                                                      #বেসরকারি কোম্পানিসমূহ:
১. পাওয়ার প্লান্ট
২. টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি
৩. গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি
৪. সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি
৫. স্টীল এন্ড রি রোলিং মিল
৬. ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি
৭. অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি
৮. ইলেক্ট্রনিক প্রোডাক্ট ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রি
৯. ঔষধ কোম্পানি সহ আরো কিছু কোম্পানি রয়েছে।

দুই ভাগের দ্বিতীয়টিকে মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানি বলা যেতে পারে। মূলত যে কোম্পানিগুলোর পণ্যের বাজারের ব্যপ্তি পুরো বিশ্বজুড়ে থাকে, তাদেরই মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানি বলা হয়ে থাকে। এই চাকরিগুলোও অনেক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। বহু আকাঙ্খিত কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হলো ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বাটা শু’জ, নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, আরএকে পেইন্টস, বারজার পেইন্টস, শেভ্রন বাংলাদেশ ইত্যাদি।
#মাল্টিন্যাশনাল_কোম্পানীসমূহঃ-
১. কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (KAFCO)
২. বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্ট
৩. সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশ লিমিটেড
৪. কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড
৫. লিনডে বাংলাদেশ
৬. বুরো ভেরিটাস
৭. নেসলে বাংলাদেশ
৮. ইউনিলিভার
৯. ক্রিশ এনার্জি
১০. ABB
১১. লাফার্জ হোলসিম
১২. বার্জার পেইন্ট
১৩. রেকিট বেনকিজার
১৪. গোদরেজ সহ আরো কয়েকটি ভাল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি রয়েছে।
কারো শিক্ষক হবার ইচ্ছা থাকলে সেই ইচ্ছা পূরণের সুযোগও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সিজিপিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। বেশ ভালো সিজিপিএ ছাড়া বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতার জন্য আবেদন করা যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রথম সারির ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে ব্যাতিক্রমও লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়াও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। অনেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করে এমবিএ করে। একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সাথে এমবিএ’র কম্বিনেশনকে অনেকক্ষেত্রে বেশ ভালো রকম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যাংক সেক্টরে চাকরির সুযোগ থাকে অথবা বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান করে (যেটি আবার একটি সরকারি চাকরি) একজন ইঞ্জিনিয়ার হবার পাশাপাশি একজন মিলিটারি সদস্য হবার গৌরব অর্জন করা যায়।
আমাদের দেশে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ক্ষেত্র প্রায় এগুলোই। এর বাইরে যে থাকতে পারে না এমনটি নয়। তবে একদম প্রধান ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

#collected_and_edited

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

মেকানিকাল- কি এবং কেন ??-পর্ব- ১

এই পোস্টের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রী দের ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটা ফীল্ড সম্পর্কে ধারনা দেওয়া। সাথে সাথে অতীজ্ঞানী লোকদের মাঝে প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা দূর করা। প্রথমেই বলে রাখি এটা কোন সাবজেক্ট রিভিউ না । আমি প্রচলিত সাবজেক্ট রিভিউ এর পক্ষপাতি নই, কেননা প্রচলিত অধিকাংশ সাবজেক্ট রিভিউ তে ছাত্রছাত্রী দের প্রলোভন দেখানো হয় ,তারা যেটা চায় সেটিকেই আরো জাকজমক করে প্রকাশ করা হয় ।এখানে তেমন কিছু নাই। যেসব কারনে আমি নিজে মেকানিকাল এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে প্রাচীনতম সাবজেক্ট গুলার মধ্যে একটি। আর্কিমিডিস এর গবেষনা (287-212 BC) পশ্চিমাদের খুব গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং এর ই ফলস্বরুপ দুনিয়ার সবচেয়ে প্রথম Steam Engine টি আবিষ্কৃত হয়েছিল 10-70 AD এর দিকে । এটা ছিল একদম ই শুরুর দিকের কথা ।এখানে বলে রাখা ভাল- এই ইঞ্জিন থেকেই কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দের উৎপত্তি ।এরপর আর কোন কিছুই থেমে থাকেনি। এ সম্পর্কিত জ্ঞান যত ত্বরান্বিত হয়েছে, সভ্যতা তত ত্বরান্বিত হয়েছে । এই সাবজেক্ট এও সংযুক্ত হয়েছে(এবং হচ্ছে) বিভিন্ন বৈচিত্রময় জিনিস এবং ফলস্বরুপ এটি দিনদিন আরো অধিক স্বয়ংসম্পুর্ন হয়েছে।(এই অংশটুকুর দায় দায়িত্ব উইকিপেডিয়ার) এবার আসা যাক এতে কি কি পড়ানো হয় সেটা নিয়ে। মেকানিকাল এর কোর্স গুলো সম্পর্কে এক কথায় বা একটা ছকে বলা অনেকটাই কঠিন কেননা দিন দিন এ সাবজেক্ট রিলেটেড গবেষনা যেমন হয়েছে ,টপিক্স এর সংখ্যা এবং আয়তন ও ততো বৃদ্ধি পেয়েছে । পাঠদান, গবেষণা এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে এর অনেক শাখা ও তৈরি হয়েছে । তারপরেও মোটামুটি প্রচলিত যে চার্ট টা আছে তা তুলে ধরার
চেষ্টা করছি-
1. Robotics
2. Nuclear Engineering
3. Power Engineering
4. Advanced Energy Systems
5. Solar Engineering
6. Petroleum
7. Fluid Engineering
8. Heat Transfer
9. Aerospace & Automobile
10. Energy Conversion
11. Fuels & Combustion Technologies
12. Ocean, Offshore & Arctic Engineering
13. Environment & Transportation
14. Noise Control & Acoustics
15. Systems & Design
16. Fluid Power Systems & Technology
17. Engineering & Technology Management
18. Manufacturing Engineering
19. Pressure Vessels & Piping
20. Applied Mechanics ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
খুব ভালমতই জানি, ৩-৪ টা পয়েন্ট ছাড়া অধিকাংশই বোঝার কথাও না  । তবে চিন্তার কিছু নাই, একটু ব্যাক্ষা দিলেই জিনিসগুলা খুব ভালমতই বুঝতে পারবে । যেহেতু উচ্চ শিক্ষার সাথে সাথে পরবর্তি জিবনের কর্মক্ষেত্র ও জড়িত। তাই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা পরবর্তিতে কি ধরনের কাজ করে সে সম্পর্কে ধারনা পেলেই পাঠ্য বিষয় গুলোর প্রয়োগ জানতে পারবে ,বিষয়গুলো সম্পর্কেও ধারনা
পরিষ্কার হবে।
যন্ত্রকৌশল এর বিভিন্ন ফীল্ড—
Basic Engineering
সংক্ষেপে বলতে গেলে এই বিশ্বে গতিশীল,স্থীতিশী
ল যত বস্তু এবং শক্তির যত রুপ আছে তার সবকিছুর সাথেই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোন না কোন ভাবে জড়িত।
Applied Mechanics
:
মেকানিক্স বা বলবিদ্যা প্রয়োগ করা যায়না এমন কোন বস্তু দুনিয়ায় নেই।ধাতু খন্ড ,শিলা, পানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল সিস্টেম যেমন- দালানকোঠা ,আটোমোবাইল এবং বিভিন্ন যন্ত্রেও এর প্রয়োগ রয়েছে।এই জিনিস গুলো কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে আরো ভাল কাজ করবে তা মেকানিক্স বা বলবিদ্যার মাধ্যমে ব্যাক্ষা করা যায়। এর প্রয়োগ বলে শেষ করা যাবেনা। আর একজন যন্ত্রকৌশলী কে
এর প্রয়োগ করতে হয় অসংখ্য ক্ষেত্রে।
Fluid Engineering:
এই পৃথিবীতে যত প্রবাহমান বস্তু আছে তার সার্বিক আলোচনা করা হয় এ শাখায়, যেমন- বাতাস ,পানি, তেল এমনকি বালু ও এর ভিতরেই পরে। বিভিন্ন ফ্লুইড মেশিন এবং সিস্টেম যেমন- পাম্প, টারবাইন, কম্প্রেসর, ভাল্ব, পাইপলাইন, হাইড্রোলিক সিস্টেম ইত্যাদি ডিজাইন মেকানিকাল এর এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।এজন্যে বিভিন্ন ফ্লুইড এর গতিবিধি এবং ধর্ম সম্পর্কে জানতে হয় ,বিভিন্ন ধর্ম নিয়ন্ত্রন করার পদ্ধতিও জানতে হয়। ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে এর বিভিন্ন প্রয়োগ ও সফলভাবে করতে হয় এবং এই ধরনের সব কাজ ই করে একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার।
Heat Transfer:
যে কোন শক্তির ব্যবহারেই তাপের উদ্ভব হতে পারে ।তাপের এই সঞ্চারন সংক্রান্ত যাবতীয় পড়াশুনা এখানেই। হাতে থাকা মোবাইল ফোন,ল্যাপটপ, এমনকি ক্ষুদ্র মাইক্রোকন্ট্রোলার থেকে শুরু করে বাস ট্রাক পর্যন্ত সব জায়গাতেই তাপের উদ্ভব হচ্ছে। যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য এই তাপের অপসারন করা প্রয়োজন, এবং একই সাথে তা পরিবেশ এবং যন্ত্রাংশের ক্ষতি রোধ করে সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতিতেই করতে হবে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স জিনিস্পত্র নির্মান কারী প্রতিষ্টানে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা কাজ করে থাকে। দালানকোঠা বা সুবিশাল স্থাপত্য এর ভেন্টিলেশন সিস্টেম ও এর ভিতরে পরে । সারা দুনিয়ায় মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা এই কাজগুলো করছে দক্ষতার সাথে ।
Energy Conversion & Resources
আমরা এমন এক দুনিয়ায় আছি যেখানে শক্তির উৎপাদন বিভিন্ন রুপে রুপান্তর ছাড়া আমরা অচল। শক্তির এই রুপান্তর নিয়ে যাবতীয় পড়াশুনা এই বিষয়ে। শক্তির রুপান্তরের জন্য লাগে বিভিন্ন সিস্টেম । উদাহরণস্বরূপ Internal Combustion
Engine, External Combustion Engine, Power
Plant, Gas Turbine , Steam Turbine, Solar
Panel ইত্যাদি আরো শত শত সিস্টেম এই শক্তি রুপান্তরের কাজ গুলো করে যাচ্ছে। এই সিস্টেম গুলার ডিজাইন ,উৎপাদন ,রক্ষণাবেক্ষন ,পরিচালনা এবং গবেষণার মাধ্যমে উত্তরোত্তর উন্নয়ন ইত্যাদি যাবতীয় কাজ করে থাকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রাই।এছাড়া বিভিন্ন শক্তির নতুন নতুন ব্যবহার উদ্ভাবন , বিভিন্ন সিস্টেম এর দক্ষতা এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত যাবতীয় গবেষনায় ও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা কাজ করে যাচ্ছে । বিশ্বের মজুদ কৃত তেল ও গ্যাস আর কয়েক শতকের ভিতরেই শেষ হয়ে যাবে। তাই বিকল্প জ্বালানীর উদ্ভাবন ও প্রয়োগ যে কতটা প্রয়োজনীয় তা এখান থেকেই বোঝা যায়। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ভুমিকা এক্ষেত্রে কতখানি তা ও বোঝা যায়।
Transportation
Transportation এর বিস্তৃতি মোটামুটি সবার ই জানা ।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল-
* Aerospace & Aerodynamics
* Rail Transportation
*Marine Engineering
একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার চাইলেই উপরোক্ত যে কোন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করে ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
Environmental Engineering :
Noise Control & Acoustics , Solid Waste Processing ইত্যাদি আরো অনেক কিছু এর অন্তর্গত। এ সাইডে
ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে অসংখ্য মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার এর।যেখানেই যন্ত্র আছে ,সেখানেই শক্তির বিভিন্ন রুপান্তর ঘটছে। আছে Vibration & Pollution
ইত্যাদি অনাকাংখিত জিনিস।যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলো দূর করাও অনেক বড় বড় ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ।আবার চকলেট বা চিপস খেয়ে মোড়ক টা আমরা ফেলে দেই। এভাবে চলতে থাকলে তো শুধু চকলেট আর চিপস এর মোড়ক দিয়েই পরিবেশ দূষীত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা কি হচ্ছে?কখনোই না। ফেলে দেওয়া এই মোড়ক টিই প্রক্রিয়াজাত করনের মাধ্যমে নতুন কোন জিনিস বা শক্তি তে রুপান্তরিত হচ্ছে। চকলেট-চিপস এর মোড়ক জাস্ট একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম। বিশ্বে যত কঠিন বর্জ্য পদার্থ আছে তার সবকিছু রিসাইকেল করার পিছনেই আছে বিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। আর এ কাজগুলো করছে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রাই।
Engineering Technology & Manufacturing
বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। সেটা ইন্ডিয়ান TATA এর মত গাড়ি নির্মান কারী প্রতিষ্ঠান ই হোক, বা বাংলাদেশের প্লাস্টিক নির্মান কারী RFL এর মত প্রতিষ্ঠান ই হোক । Product designing,
Material selection, Process ইত্যাদি চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো এরাই করে। কাজগুলো যথেষ্ঠ সৃজনশীল এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে হয়। এমনকি যে মেশিন গুলো নতুন করে মেশিন বা প্রোডাক্ট তৈরি করছে সেগুলোও ডিজাইন এবং রক্ষনাবেক্ষন এর কাজ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রাই করে থাকে। মাইক্রোকন্ট্রোলার,প্রসেসর,ডায়োড,ট্রানজিস্টর ,মোবাইল,ল্যাপটপ সহ সারা বিশ্বে যত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নির্মান কারি প্রতিষ্ঠান আছে,সেখানে এগুলো উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক জটিল মেশিন ।এগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন এর জন্যও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার অপরিহার্য । যেখানেই ইন্ডাস্ট্রি আছে ,সেখানে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার লাগবেই। যেখানেই ইউটিলিটি প্ল্যান্ট আছে সেখানেই যন্ত্রকৌশলী দের কাজের সুযোগ আছে। এছাড়াও Materials Handling, Plant Engineering & Maintenance এর মত চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোও এরাই করে থাকে।
System Designing:
একটা সিস্টেম এর অন্তর্গত বিভিন্ন কাজ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা করে থাকে। এসব কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য
কয়েকটি হল- * Dynamic Systems & Control: Where there is
a movement there must be a control… গতিশীল যে কোন সিস্টেম বা যন্ত্রের যাবতীয় ক্রিয়াকলাপ মেকানিকাল এর ই অন্তর্গত। গতিশীল বস্তুটি সিডি বা ডিভিডি ড্রাইভ এর ভিতরে ঘুর্নায়মান ডিস্ক বা মহাশুন্যে প্রেরিত কোন গতিশীল কৃত্রিম উপগ্রহ যে কোনটিই হতে  পারে। চলমান বস্তুর ঘর্ষণ প্রতিরোধ , তাপ নিঃস্বরন ,ঘুর্নায়মান বস্তুর Centre of Gravity ঠিক রাখা ইত্যাদি বিভিন্ন
কাজে মেকানিকাল এর বিভিন্ন জ্ঞান প্রয়োগ করতে হয়। * Fluid Power Systems & Technology : ধর তোমাকে একটি স্পেসশীপ এর জ্বালানী নির্ধারন এবং ব্যাবহার এর সার্বিক দিক ডিজাইন করতে বলা হল। তুমি অবশ্যই জ্বালানী হিসেবে পেট্রোল ব্যাবহার করবে না । স্পেসশীপ এর জড়তা এবং গতির দিকে নজর রেখেই তোমাকে উপযুক্ত জ্বালানী নির্ধারন করতে হবে ।অনেকসময় একাধিক জ্বালানীর মিশ্রন ও ব্যাবহার করা লাগতে পারে ।আবার সব সময় জ্বালানীর ব্যাবহার ও সমান থাকবে না, কেননা অভিকর্ষ বল ও সমান থাকবেনা সর্বত্র । এখানে স্পেসশীপ শুধুমাত্র  একটা উদাহরন হিসেবে তুলে ধরলাম। সারা বিশ্বে যত জায়গায় যত তরল জ্বালানী ব্যাবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে তার সবকিছুই নির্ধারন করতে হয় মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ই ।রয়েছে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ ও।
Nuclear Engineering
যে কোন পারমাণবিক স্থাপনাই এক একটি Heavy Industry. এসব ক্ষেত্রে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের Huge কর্মক্ষেত্র রয়েছে।
Pressure Vessels & Piping:
সমুদ্রের নীচের উচ্চ চাপ উপেক্ষা করে হাজার ফুট গভীরতা থেকে তেল,গ্যাস,খনিজ উত্তোলন নিশ্চই সহজ কোন কাজ নয়। আবার সহস্র মাইল পাইপলাইন এর মাধ্যমে তেল গ্যাস বিভিন্ন দেশে সরবরাহ ও হচ্ছে। হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ এ সফল হওয়ার পরেই তা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও কল কারখানায় ও High Pressure vessels ,Pipelines স্থাপন ও খুব সতর্কতার সাথেই রক্ষনাবেক্ষন করা প্রয়োজন হয়। সারা বিশ্বে তেল গ্যাস খনিজ উত্তোলন এবং আমদানী রপ্তানীর পিছে শত শত কোম্পানী আছে। এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
Designing:
ডিজাইনিং সম্পর্কে নতুন করে বলবার মত কিছু নেই । ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষাই হল ডিজাইনিং। ডিজাইন যে কোন জিনিসের ই হতে পারে ।ক্ষুদ্র যন্ত্র বা যন্ত্রের কোন অংশের ও হতে পারে ,আবার বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বরগিনির কোন গাড়ির মডেল ডিজাইনিং ও
হতে পারে। মানুষের কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার একটা  উল্লেখযোগ্য মাধম হল এই ডিজাইনিং।পুরান যুগের গাড়িগুলো কি আর দেখা যায়?কখনোই না। ১০ বছর আগে কি মাউন্টেইন বাইসাইকেল বা রোড বাইক ছিল ?কখনোই না।এই পরিবর্তনগুলো করছে ডিজাইনার রাই।এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এইটা তো জাস্ট আকাআকি ,তেমন আর কি,মেকানিকাল না পড়েও তো করা যায় !কিন্তু জিনিসটা শুধুই আকাআকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না। ইচ্ছামত একটি ডিজাইন করলেই সেটা গ্রহনযোগ্যতা পাবেনা। এখানে ডিজাইন এর সাথে মিলবন্ধন ঘটতে হবে Dynamics আর Mechanics এর ও। নতুন করা ডিজাইন টি পুর্বের ডিজাইন এর চেয়ে উন্নত তর হতে হবে ,তবেই তা মানুষের গ্রহনযোগ্যতা পাবে। ডিজাইনার রা কখনোই তাদের ডিজাইনে সন্তুষ্ট নয়। আজকে তারা যে ডিজাইনটি করে বিশ্ব রেকর্ড করছে, কালকে তাদের রেকর্ড তারাই ব্রেক করছে পুর্বের চেয়ে উন্নত ডিজাইন করে।দুনিয়ার রুপ এভাবেই পাল্টেছে ডিজাইনার দের কারনেই। সাইকেল আর গাড়ী জাস্ট দুটি উদাহরণ, পানি পান করার গ্লাস টি থেকে আকাশে উড্ডয়মান বিমান সবকিছুর পেছনেই কাজ করছে লক্ষ লক্ষ ডিজাইনার। ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার স্বর্নসুযোগ রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর এই শাখায়।
Robotics
মেকানিক্যাল এর অন্যতম জনপ্রিয় টপিক্স হল রোবটিক্স।যা একইসাথে ইলেক্ট্রনিক্স, প্রোগ্রামিং এবং মেকানিকাল এর সমন্বয়। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক্স এবং প্রোগ্রামিং এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মেকানিকাল এর অন্তর্গত , এবং রোবটিক্স ছাড়াও মেকানিক্যাল এ এদের আরো প্রয়োগ আছে। বাংলাদেশে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং: Already বুঝে গেছ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ক্ষেত্র কোন কোন জায়গায় ।এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইডে খেয়াল করলেই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের কর্মক্ষেত্র তুমি নিজেই বের করতে পারবে ।উচ্চতর গবেষনার সুযোগ তো থাকছেই।এরপরেও যদি কেউ বলে মেকানিকাল এর জব ফীল্ড
কম,তার জন্য সমবেদনা ।আর স্যালারী ??সেটা না হয় না ই বললাম…..
এখানেই শেষ নয়। একজন যন্ত্রকৌশলীর আরো অনেক বিচিত্র ও চ্যালেঞ্জিং কাজের সেক্টর আছে।প্রতিটা ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। যন্ত্রকৌশলি দের জব ফীল্ড এর খুব সামান্য অংশই উপরে তুলে ধরা হয়েছে। ০ ডিগ্রী থেকে শুরু করে শুরু করে ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে আসলেও এর শেষ হবেনা।ইঞ্জিনিয়ারিং বা বাস্তব জীবন যেটাই হোক প্রতিটা ক্ষেত্রে কোন না কোন ভাবে মেকানিকাল এর প্রয়োগ খুজে পাবেই।
মেকানিকাল যাদের পড়া উচিৎ:
এবার আসা যাক আর্টিকেল এর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন অংশ, মেকানিকাল কাদের পড়া উচিৎ সেটা নিয়ে । আমি এতক্ষন অনেক ভাল ভাল কথা বললাম, আর তুমি মেকানিকাল কে নিজের সাবজেক্ট হিসেবে চয়েজ করে ফেলবে সেটা কখনোই ঠিক না। প্রথমেই নিজে বুঝার চেষ্টা কর মেকানিকাল এর উপরোক্ত টপিক্স গুলা আসলেই তোমার ভাল লাগে কিনা । যদি ইন্টারেস্ট ফীল কর তবেই আসা উচিৎ , নতুবা নয় । মেকানিকাল কে এককথায় বলা যায় ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে স্মার্ট সাবজেক্ট। কিন্তু প্রলোভন এর তাড়নায় বা স্মার্টনেস দেখানোর মানসিকতা নিয়ে যদি মেকানিকাল চয়েজ কেউ কর ,তাহলে সেটা হবে বিশাল একটা ভুল ।প্যাশন টা কে প্যাশন এর মতই রাখতে হবে সেটাকে ফয়াশন বানানো যাবে না, অন্তত মেকানিকাল এর জন্য না ।তুমি মেকানিকাল পড়লেই নাসায় চাকরী পেয়ে যাবা ,বা বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি তে তোমাকে ডেকে নিয়ে উচ্চ বেতনের চাকরী দিবে এমন ভাবা একদম বোকামি ছাড়া কিছু না। তোমাকে আগে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে , নিজের দক্ষতা কে চূড়ান্ত পর্্যায়ে আগে নিয়ে যেতে হবে । এছাড়া রয়েছে উচ্চতর গবেষনার বিশাল একটা ফীল্ড । তোমার যদি গবেষনা ধর্মি কাজ গুলো ভাল লাগে, তাহলে মেকানিকাল কে তোমার জন্য One of the perfect Subject মনে করতে পার। এখানেই শেষ না ,আরো অনেক কথা আছে ।মেকানিকাল পড়লে তোমাকে শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত এমন অনেক বিচিত্র প্রবলেম এর সঅলিউশন বের করা লাগতে পারে যে প্রবলেম দুনিয়ার কোন লোক আগে কখনো ফেস করেনাই ।প্রবলেম গুলো শুধু টেকনিক্যাল তা কিন্তু না, ম্যাথমেটিকাল ও এনালিটিক্যাল এর মিশ্রন ও থাকে।সোজা সাপটা কথা হচ্ছে ,প্রবলেম এর কোন সংজ্ঞা হয় না, যে কোন ধরনের প্রবলেম ই হতে পারে। প্রবলেম সলভিং এর দক্ষতা এবং নতুন কিছু করার মানষিকতা যত বাড়বে একজন মেকানিকালের ছাত্র/কর্মজীবি তত ভাল করতে পারবে। অনেক খারাপ পরিস্থিতির ও মোকাবিলা করা লাগতে পারে কর্মজীবনে
।এমন খারাপ পরিস্থিতে যাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে ভাল কাজ করবে, মূলত তাদের জন্যই মেকানিকাল..... এত বড় লেখা বা এত বেশি পাঠ্য টপিক্স দেখে ভয়ের কিছু নেই,মেকানিকাল ফীল্ড টা আরো বিশাল ,লেখা ছোট হবে কিভাবে ।সবার জন্য শুভকামনা এবং যন্ত্রকৌশল এর উত্তাল সাগরে স্বাগতম.. এতখন যা বললাম , তার গ্রহনযোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতেও আমি বাধ্য । পুরো আর্টিকেল টি লিখতে কিছু দেশি এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েবসাইট এর সাহায্য নিয়েছি ।সাথে উইকিপেডিয়া তো আছেই ।উল্লেখযোগ্য কয়েকটির লিংক নিম্নরূপ



রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

এইচএসসি ফল প্রকাশ(ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনার উপযুক্ত সময় এখনই)

আমার এক পরিচিত ব্যাংকারের কথা বলি। একানব্বই সাল। তখন, আজকের এই জিপিএ সিস্টেম ছিল না। ভদ্রলোক মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে বিজ্ঞানবিভাগে মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হলেন। বাসার সবাই খুশি। মা ভেবে রাখলেন ছেলেকে ডাক্তারী পড়াবেন। আর বাবা চায় ইন্জিনিয়ার অথবা তার মতই বিসিএস অফিসার। গোল বাধলো ছেলেকে নিয়ে। ছেলে যে কি চায়, সে নিজেই নিশ্চিত নয়। তবে হ্যাঁ, ছেলের ক্যাডেট কলেজের কয়েক বন্ধু ঠিক করলো, তারা ‘মেরিন’এ পড়বে। আর এর মধ্যে যে পালের গোদা তার যুক্তিও ছিল অকাট্য - মোটা মাইনের চাকরি, বিনা পয়সায় দেশ-বিদেশ ঘুরতে পারা, বাজার করার ঝামেলা নেই, বাড়তি কোন খরচও নেই, দৈনন্দিন জীবনের ফাইফরমাইশ থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে। আর কি চাই! যেহেতু, মেরিন একাডেমীতে ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষা অন্যান্য সকল পরীক্ষার আগেই হয়ে যায়, ভদ্রলোক মেডিক্যাল, বুয়েট অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন টেস্ট দেয়ার কোন সুযোগই পেলেন না। যথারীতি লিখিত পরীক্ষায় পাশের পরে মৌখিক আর মেডিক্যাল টেস্টের জন্য ডাক পেলেন। মৌখিক পরীক্ষা ভালই হলো। মেডিক্যাল টেস্ট নিয়ে কিছুটা টেনশন- কেননা উনি তখনই চশমা ব্যবহার করতেন । আর মেরিন-এ চোখের পাওয়ার পারফেক্ট হওয়া চাই। তবে, উনি যেহেতু, ‘প্রকৌশল’ বিভাগের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন; কাজেই চশমার সামান্য পাওয়ার তার জন্য কোন বাধা হয়ে দাঁড়ালো না। ফাইনাল রেজাল্ট বের হলো। সিলেক্টেড । ছেলে খুব খুশি। মা পড়লেন বেজায় দোটানায় - এমন ‘প্রফেশন’ যার নাম শুনেছেন কিন্তু প্রফেশনাল কারোর সাথে মা’র কোন পরিচয় নেই। আর এদিকে, ক্যাডেট কলেজের যে বন্ধুর পরামর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ভদ্রলোক তার ‘ক্যারিয়ার ডিসিশন’ নিয়েছেন, সে কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার দিন অনুপস্থিত ছিল - কেননা ঐ একই দিনে তার ছিল আর্মি এডমিশন টেস্ট - আইএসএসবি।
যাহোক, ভদ্রলোকের মা’র কথায় আসি। নিজের ছেলে বলে কথা! অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে উনি তাঁর কলেজের ( মা ছিলেন সরকারী কলেজের শিক্ষয়িত্রী ) এক সহকর্মীর বাসার ঠিকানা যোগাড় করলেন। তাঁর সেই সহকর্মীর বড় ছেলে জাহাজের চীফ ইন্জিনিয়ার - এই মুর্হূতে সমুদ্রে। তাতে কি? তর সইছে না। উনি সেই চীফ ইন্জিনিয়ারের মা’র সাথে কথা বললেন। ঐ মার কাছ থেকে আরেক ক্যাপ্টেনের বাসার ঠিকানা নিলেন। প্রফেশন’টা সম্পর্কে জানার জন্য। সবাই প্রায় একই পরামর্শ দিলেন - যদিও ‘মেরিন’ প্রফেশনটা একটু একঘেঁয়ে বা মোনোটনাস, কিন্তু অনেক দেশ দেখা যায়, মাইনেটাও ভাল । আর যেহেতু, ক্যাডেট কলেজের ছাত্র, সে খাপ খাওয়াতে পারবে। ভদ্রলোকের মা নিজেকে বোঝালেন এবং ছেলের ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলেন।
এরপরের ঘটনাও খুব সহজ। দুই বছর একাডেমীতে পড়ার পর; ভদ্রলোক যথারীতি জাহাজে যোগ দিলেন। একবছর চাকরী - বন্দরে বন্দরে। জাহাজের বদ্ধ জীবন, নাবিককে অধৈর্য্য করে তুললো। উনি একটা জিআরই (GRE) বই কিনেছিলেন। ঐ বই থেকেই ইংরেজী ভকেবুলারী পড়তেন, ইনজিন রুমে। একটা ছোট নোটবুক ভরে ফেলেছিলেন নতুন শব্দ টুকে। নভেম্বর মাসে ছুটিতে বাড়ী এলেন। ডিসেম্বর মাসে আইবিএ-তে এমবিএ ভর্তি পরীক্ষা। এমবিএ কমপ্লিট করে আজ উনি ব্যাংকার। এখনও উনি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন তার সেই তেল-মবিল মাখা ছোট নোটবুকটা।
আমাদের দেশে এরকম উদাহরন ভুরি ভুরি - যারা জীবনের মাঝপথে এসে ক্যারিয়ারের গতিপথ পরিবর্তন করেছেন। এমবিবিএস বা ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে বিসিএস পুলিশ বা এডমিনিস্ট্রেশন (মেজিস্ট্রেট) ক্যাডারে যোগ দিচ্ছেন। আবার সাধারন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করার পরে, আইটি সেক্টরে ঢুকছেন। আমি বলছি না যে, এক্ষেত্রে তাঁর পড়াশুনা বৃথা যাচ্ছে। কেননা, জীবনের কোন পড়াশুনা বা অভিজ্ঞতাই বৃথা যাবার নয়। তবে, আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনই খুব স্বল্প সময়ের জন্য। আর তাই জীবনের লক্ষ্য স্থির করা এবং কম দরকারি ব্যাপারগুলি সময় থাকতেই ঝেড়ে ফেলা অতিব গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের দেশে পড়াশুনা শেষ করে নিজের পছন্দ আর যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ অতি সীমিত; কাজেই ব্যক্তিগত পছন্দের সাথে কতগুলি বিষয়কে বিবেচনায় আনাটা অতি জরুরী। আর যেহেতু এইচএসসি’র পরেই একজন পরিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিষয় নির্বাচন করে থাকে, কাজেই বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তা করার সময় এখনই। আমাদের দেশে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত কর্মপন্থার অনেকটাই নির্ভর করে তার বাবা-মা অথবা অপরাপর কোন অভিভাবকের সিদ্ধান্তের অথবা পছন্দের উপর। কাজেই, এইচএসসি’র পরের আজকের এই গ্রাউন্ডওয়ার্ক শিক্ষার্থী আর অভিভাবক যদি মিলিত প্রয়াসে করতে পারে, তবে তা হবে অধিকতর ফলদায়ক।
উচ্চতর পড়াশুনায় ভর্তি হবার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যে বিষয়গুলি বিবেচনায় আনা দরকার তাহলো - # শিক্ষার্থীর মেধা, # বিষয় বা সাবজেক্টের প্রতি ব্যক্তিগত ঝোঁক, # বিষয় বা সাবজেক্টের প্রায়োগিক প্রয়োগ, # বিষয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ( Admission ) অনিশ্চয়তা # পড়াশুনা চালিয়ে যাবার আর্থিক সামর্থ্য, # বর্তমান এবং ভবিষ্যত কর্মেক্ষেত্র বিষয়ভিত্তিক চাকুরী প্রাপ্তির সম্ভাবনা । এগুলির সাথে আরো একটি ব্যাপারকে বিবেচনায় আনাটা জরুরী বলে আমি মনে করি। সেটা হলো বিদেশে চাকুরী করার অথবা সেটেল্ড করার
মানসিকতা এবং তদানুযায়ী বিষয় নির্বাচন।
মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাথমিক সমস্যা ‘বিষয়’ নির্বাচন - যেটা আমরা লেখার শুরুতে দেখলাম। যেহেতু তার ক্ষেত্রে বিষয় অনুযায়ী ভর্তি হওয়াটা তেমন কোন সমস্যা হয় না; অনেকগুলি বিষয়ে এবং অনেকগুলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে তারা দোটনায় ভোগে। স্থির করতে পারে না কোন বিষয়টিকে তার প্রাধান্য দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন নিজের ‘ইচ্ছা’র সাথে ভবিষ্যত চাকুরীকে বিবেচনায় আনা। আজকের বিষয় নির্বাচন ভবিষ্যতে আমাকে যে ধরনের চাকুরীর সুযোগ করে দিতে পারে, তার সম্পর্কে কিছুটা জেনে রাখা ভাল। যারা ঐ ধরনের চাকুরীতে নিয়োজিত তাদের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে। রিলেটেড চাকুরীজীবির সাথে আলোচনা করলে, সহজেই সংশ্লিষ্ট চাকুরীরতে কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের পরিধি সম্বন্ধে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আমি ‘অংক’-এ ভাল এবং ভাল নম্বরও পেয়েছি; কিন্তু, গাদা গাদা যোগ, বিয়োগ করতে আমার অস্হির লাগে। তাহলেতো আমার ‘হিসাববিজ্ঞানে’ ( Accounting ) ভর্তি না হওয়াটাই শ্রেয়। কেননা, যেকোন প্রতিষ্ঠানের একাউন্টেন্ট হলে তো আমাকে সেই হিসাবই করতে হবে প্রাথমিক পর্যায়ে। আমি অংকে যেমন ভাল, আমার স্মৃতিশক্তি মন্দ নয় এবং আমি মানুষের সাথে মিশতেও পছন্দ করি - তাহলেতো আমি একজন দক্ষ ব্যাংকার হতে পারি! আবার, আমার রেজাল্ট খুব আহামরি কিছু না হলেও, আমার স্মরণশক্তি ভাল এবং আমি কিছুটা মিশুক প্রকৃতির। এরকম ক্ষেত্রে ‘কাস্টমার সার্ভিস’, ‘পাবলিক রিলেশন’-এর কাজ আমার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এভাবেই প্রায়োগিক পদ্ধতিতে নিজেকে স্থাপন করতে হবে ভবিষ্যতের কর্মেক্ষত্রে । এবং সে অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করাটা জরুরী।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছাত্র-ছাত্রীরা যে বিষয়টিকে জানতে বা পড়তে পছন্দ করে সেটাকেই ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নেয়। শিক্ষাজীবন শেষে তার ক্যারিয়ারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। কেননা, সেই বিষয়ের ব্যাবহারিক প্রয়োগ সীমিত। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের চাকুরীর বাজার অত্যন্ত সীমিত। আর্থিক সার্মথ্য সীমিত হলে, বিষয় নির্বাচনের ব্যাপারে সর্তক হওয়া প্রয়োজন। আমার দেশ-বিদেশের ইতিহাস পড়তে ভাল লাগে। কিন্তু, আমাদের দেশে কি ‘ইতিহাস’ বিষয়ে গবেষণা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে? উত্তর হলো ‘না’। কাজেই, যে শিক্ষার্থী অনার্স এবং মাস্টার্স ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করলো, পাশ করে বের হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন কলেজের অধ্যাপকের চাকুরী না পেলে তাকে অন্যকোন ‘জেনারেল’ লাইনে যেতে হবে। এক্ষেত্রে তার চার বা পাঁচ বছরের পড়াশুনাটা, চাকুরী ক্ষেত্রে তেমন কোন কাজেই আসবে না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এরকম আরও কিছু উদাহরণ দেয়া যেতে পারে - বাংলা, ভাষাতত্ত ¡ , দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আর্কিওলজি, মনোবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস প্রভৃতি। আর্থিক সার্মথ্যকে সমন্বয় করে এইসব সাবজেক্ট সিলেক্ট করাটা শিক্ষার্থীর জন্য জরুরী। আমি অবশ্যই এই সাবজেক্ট পছন্দের ব্যাপারে কোন নেতিবাচক মূল্যায়ণ করছি না। কিন্তু, কেউ যদি গবেষণাকর্ম আর অধ্যাপণার বাইরে ব্যাবহারিক অথবা ফলিত বিষয়ে নিজের ক্যারিয়ার তৈরী করতে চায়, তাহলে তাকে সে অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে হবে।
আমাদের দেশের বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের নিকট উচ্চমাধ্যমিকের পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারী কলেজ এখনও প্রথম পছন্দ। কাজেই ভর্তিযুদ্ধে বেশীরভাগ শিক্ষার্থীর টার্গেট থাকে নিজের পছন্দের বিষয়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থান করে নেওয়া। কিন্তু আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হবার কারনে অনেক শিক্ষার্থীই তার পছন্দমত সাবজেক্টে ভর্তি হতে পারে না । ফলে, ইয়ার লস দিয়ে তারা সাবজেক্ট এবং প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়। কাজেই, ভর্তির ব্যাপারে এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, সীমিত সুযোগের এই দেশে শিক্ষার্থীর মানসিক দৃঢ়তা, নিজের মেধাগত অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আর ভবিষ্যতকে দেখতে পারার মতাই কেবল এই বহুমুখী টানপোড়েনের অবস্থা থেকে সুন্দরভাবে উত্তরণে সহায়ক হতে পারে।
যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক সার্মথ্য সীমিত এবং কর্মেক্ষত্রে দ্রত প্রবেশ করাটা জরুরী, তাদেরকে বিষয় নির্বাচন করতে হবে সতর্কতার সাথে। এক্ষেত্রে প্রথমেই আসে ‘আইএসএসবি’ এবং ‘মেরিন একাডেমী’। সংবাদপত্রে সার্কুলারের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলি ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে থাকে । ‘আইএসএসবি’র মাধ্যমে দেশের ৩টি সশস্ত্র বাহিনীতে অফিসার নিয়োগ করে। অপরদিকে মেরিনে আছে দুইটি বিভাগ - ‘ইন্জিনিয়ারিং’ আর ‘নটিক্যাল’। প্রথমটি তৈরী করে জাহাজের চিফ ইন্জিনিয়ার বা প্রধান প্রকৌশলী আর পরেরটি তৈরী করে ক্যাপ্টেন। তবে মনে রাখা দরকার এই চাকুরীগুলি আর দশটা সাধারণ প্রফেশনের মতো নয়।
বর্তমান যুগ বানিজ্যের যুগ। আর বানিজ্য যতদিন থাকবে, অর্থনীতি, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় প্রশাসন, ব্যাংকিং প্রভৃতি বিষয়ের চাহিদা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যারা বিভিন্ন বানিজ্যিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী অথবা কিছুদিন চাকুরী করে নিজেই কোন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখে; তারা এই বিষয়গুলি বিবেচনায় আনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে সেশনজ্যাম না থাকলে, এই বিষয়ে অনার্স বা মাস্টার্স করেও মোটামুটি দ্রুত একটি চাকুরী পাওয়া যেতে পারে।
আমাদের দেশে বিসিএস-এর চাকুরীর মর্যাদা এখনও মানুষের মনে অনেক উপরে। অনেক শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে নিজেকে বিসিএস অফিসার হিসাবে দেখতে পছন্দ করে। যাদের টার্গেট বিসিএস, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকুরী তারা বিসিএসভুক্ত সাধারণ কোন বিষয় উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নিতে পারে। এক্ষেত্রে, সাবজেক্টিভের তুলনায় অবজেক্টিভ বিষয় নির্বাচন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কেননা, এইসব সাবজেক্টের পরীক্ষায় নন্বর বেশী তোলা যায়। এরমধ্যে অনেক বিষয়ই বিসিএস-এর বাইরেও শিক্ষকতা অথবা উন্নয়নমূলক অথবা গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কাজে আসতে পারে যেমন - ইংরেজী, বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, গনিত, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান, ভূগোল, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান। এক্ষেত্রে একটি ব্যাপার উল্লেখ করা দরকার যে, সভ্যতা আর বানিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে ‘ইংরেজী’র প্রয়োজনীয়তা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে । বাংলাদেশও এই প্রবণতার বাইরে নয়। দেশে ভাল ইংরেজী জানা একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা যে কতটুকু তা পাবলিক পরীক্ষাগুলিতে ‘ইংরেজী’ বিষয়ে ফলাফল থেকেই সহজে উপলব্ধি করা যায়।
একটা সময় ছিল, যখন মা-বাবারা তাঁদের মেধাবী সন্তানকে ভবিষ্যতে ‘ডাক্তার’ অথবা ‘ইন্জিনিয়ার’ হিসাবে দেখতে পছন্দ করতেন। ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারে কি এইদুটি বিষয়ের মূল্যায়ণ কমে গিয়েছে? উত্তর হলো মোটেও না। তবে, ইন্জিনিয়ারিং-এর বেশ কিছু নতুন শাখার বিস্তার হয়েছে এবং একটির তুলনায় আরেকটি শাখার ( Department ) গুরুত্বের তারতম্য হয়েছে। ইন্জিনিয়ারিং অথবা বিজ্ঞান-এর নতুন যে বিষয়গুলি আজকাল বেশী চাকুরীর ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে তাহলো - কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং, লেদার টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন, কমিউনিকেশন টেকনোলজি, সিরামিক টেকনোলজি, আরবান (নগর উন্নয়ন) ম্যানেজমেন্ট, জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কৃষিবিজ্ঞান প্রভৃতি। এছাড়া ইন্জিনিয়ারিং-এর সনাতন কিছু বিষয়ের চাহিদা এখনও অটুট রয়েছে। তার মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স, সিভিল, মেকানিক্যাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। যে যে সেক্টরে এইসব বিষয়ের চাহিদা প্রচুর তা একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। প্রধান সেক্টরগুলি হলো - গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল, টেলিফোন অপারেটর, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি, সিরামিক ইন্ডাষ্ট্রী, ওষুধ শিল্প, পাওয়ার (বিদ্যুত) সেক্টর, রিয়াল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ( Infrastructure like Bridge, Culvert, Roads & Highways ) । আর আমাদের দেশের সাধারন মানূষের জন্য চিকিত্সক আর চিকিত্সা সেবা এতটাই অপ্রতুল যে, একজন চিকিত্সক এমবিবিএস পাশ করার পরেই যেকোন ফার্মেসীতে বসে চিকিত্সা সেবা প্রদান করতে পারে। এখানে আরও একটি ব্যাপার উল্লেখযোগ্য যে, বাইরের দেশেও ইন্জিনিয়ার বা ডাক্তারের চাহিদা প্রচুর। যারা ভবিষ্যতে অষ্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডাতে চাকুরী করতে চায়, তাদের জন্য এই প্রফেশন দুটি যথেষ্টই সহায়ক হবে।
আরও কিছু সাবজেক্ট, যা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট চাহিদার সৃষ্টি করছে এবং সামনের দিনগুলিতেও করবে তার দিকে লক্ষ্য করা যেতে পারে। হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, গনমাধ্যম ও সাংবাদিকতা ( Mass media & Journalism ), ফিল্ড এন্ড আ্যনিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং প্রভৃতি অন্যতম। অনেকেই আজকাল এগুলির মধ্যে নিজের ঝোঁক অনুযায়ী কোন একটি সাবজেক্ট নিযে পড়াশুনা শেষ করে নিজেই কোন ফার্ম দিয়ে বসছেন। এছাড়া আইন বিষয়ে পড়াশুনা শেষেও চাকুরীর পাশাপাশি পেশাগত চর্চা চালিয়ে যাওয়া যায়।
আজকাল বাহারী নামে নতুন নতুন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ স্থাপিত হচ্ছে। এদের কয়েকটির মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকলেও, দু’একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ছেলেমেয়ে বের হচ্ছে। চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানগুলিও এদের মধ্য থেকে ভবিষ্যত এক্সিকিউটিভ গড়ে নিচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়নে যথেষ্ট আন্তরিক । সময় থাকতেই এসব কোর্স কারিকুলাম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা এবং নিজের পছন্দ, মেধা আর আর্থিক সার্মথ্য অনুযায়ী সাবজেক্ট চয়েস করার চেষ্টা করা শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরী।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, আমাদের দেশ একটি জনবহুল দেশ। আপাত: দৃষ্টিতে মনে হতে পারে এত লোকের কর্মসংস্থান আমাদের মত গরীব দেশের জন্য শুধু দুষ্করই নয় অসম্ভবও বটে। এই মতামতের সাথে দ্বিধা প্রকাশ না করেও যে কথাটি জোর গলায় বলতে চাই তাহলো, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি মোটা অংকের মাইনে দিয়েও যোগ্য কর্মী পাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলি হয় বাইরে থেকে লোক আনছে অথবা, একে ওকে দিয়ে ঠেকা দিয়ে কোনরকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।
আজ, এইচএসসি পাশের পরে, একজন শিক্ষার্থী কিছুটা সময় যদি এই ব্যাপারগুলি নিয়ে চিন্তা করে এবং তদানুযায়ী একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, ক্যারিয়ারের বাকিটা সে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের মতই খেলে যেতে পারবে। ‘ক্যারিয়ার’ হতে পারে পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবনের মতই আনন্দদায়ক এক পেশা । আর এব্যাপারে অভিভাবকদের ভূমিকা হতে পারে অনস্বীকার্য ।


আহমদ ইসলাম মুকসিত
চেয়ারম্যান, বিডিজবস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ফেসবুক অ্যাডিকশনের লক্ষণ ও উত্তরণের উপায়, ফেসবুকে কি করা উচিত ও কি করা উচিত না

আপনি কি ফেসবুকে খুব আসক্ত? ফেসবুকে একদিন না বসলে দুনিয়াদারির কিছু ভালো লাগে না? পেটের ভাত হজম হয় না? পরিচয় সংকটে ভোগেন? কেমন কেমন যেন লাগে? তবে জেনে নিন, আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডারে ভুগছেন! আপনার মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে! এক্ষুণি এ বিষয়ে সতর্ক না হলে আপনি অদূর ভবিষ্যৎতে বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় ভুগবেন। এমনকি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।বলা যায় না, এখনই হয়তো এমন কোন জটিলতায় আছেন যা নিজেই বুঝতে পারছেন না যে ফেসবুকের কারণেই হচ্ছে! তাই আপনার জন্য এবং যাদের ফেসবুক প্রীতি এখনও সীমা অতিক্রম করেনি তাদের জন্য এই শখের মনোবিদ কিছু পরামর্শ নিয়ে হাজির হয়েছে। ফেসবুক অ্যাডিকশন থেকে মুক্ত হতে হলে প্রথমেই স্বীকার করে নিন আপনি একজন ফেসবুক অ্যাডিক্ট। সমস্যা হল, ফেসবুক অ্যাডিক্টরা তাদের এই অ্যাডিকশনের কথা স্বীকার করতে চায় না, যেমনটা চায় না ড্রাগ অ্যাডিক্টরা। ফেসবুক অ্যাডিক্টদের যে সব আচরণের কথা এখানে উল্লেখ করছি, তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে সেসবের মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে চায়। নিজে যে ফেসবুক অ্যাডিক্ট না, সাধারণ একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটা প্রমাণ করতে উঠে-পড়ে লাগে। কিন্তু এখানে যে সব ফেসবুক অ্যাডিকশনের লক্ষণ উঠে আসছে সেসব যদি আপনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবে নিজেকে ফেসবুক অ্যাডিক্টেড বলে স্বীকার করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রোগমুক্ত হতে হলে আগে রোগটা চিহ্নিত করে নিতে হয়, তারপর চিকিৎসা। যদি মনে করেন আপনি এখনও ফেসবুক অ্যাডিকশনের শিকার হননি তবে এই
অভাজনের পরামর্শগুলো আপনাকে নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারে সহায়তা করবে। ফেসবুক অ্যাডিকশনের লক্ষণ ও উত্তরণের উপায় ছাড়াও ফেসবুকে কি করা উচিত ও কি করা উচিত না সে বিষয়েও আলোকপাত করা হল:
১। ফেসবুককে আপনার জীবনের সমস্ত ধ্যানজ্ঞান মনে করবেন না। ফেসবুকের সাফল্য আপনার জীবনের প্রকৃত সাফল্য নয়। ফেসবুকের চেয়েও জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা আপনি এখন হয়তো অবহেলা করছেন, সেসব বিষয়ে নজর দিন। মনে রাখবেন, আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ফেসবুকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি কি ফেসবুকে খুব আসক্ত? ফেসবুকে একদিন না বসলে দুনিয়াদারির কিছু ভালো লাগে না? পেটের ভাত হজম হয় না? পরিচয় সংকটে ভোগেন? কেমন কেমন যেন লাগে? তবে জেনে নিন, আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডারে ভুগছেন! আপনার মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে! এক্ষুণি এ বিষয়ে সতর্ক না হলে আপনি অদূর ভবিষ্যৎতে বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় ভুগবেন। এমনকি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
২। ফেসবুকের অতি ব্যবহার হিংসা, বিদ্বেষ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, ইত্যাদি ক্ষতিকারক মানসিক অনুভূতি সৃষ্টি করে। এমনকি আপনাকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত করতে পারে, প্রকৃত কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অতএব, এসব থেকে বাঁচতে হলে এখনই সাবধান হতে হবে। নতুবা পরে শুধু আফসোসই করতে হবে।
৩। যখন-তখন পিসিতে বিশেষত মোবাইলে ফেসবুক চেকিং আপনারস্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করবে। আপনাকে বাস্তব জীবনের প্রতি উদাসীন ও অমনোযোগী করে তুলবে। অন্য কিছুতে সহজে মন বসাতে পারবেন না। ফেসবুক বন্ধুদের সাথে কানেক্টেড থাকতে গিয়ে বাস্তব সম্পর্কগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। তাই চিন্তা করে দেখুন যা করছেন তা কতটুকু ভালো করছেন।
৪। আপনি আসলে যা না ফেসবুকে তা সাজার ভাণ করবে না। বিভিন্ন ভাণ ধরে আপনি হয়তো আপাতত মজা পাচ্ছেন। কিন্তু এই ভাণ ধরে থাকার ফলে আপনাকে পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার রোগে ধরবে। কিংবা ইতিমধ্যে হয়তো আপনি দ্বৈত ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। ফেসবুকে নিজেকে অতি আকর্ষণীয়, বুদ্ধিমান, এন্টারটেইনিং, মহাজ্ঞানী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে আপনি বিভিন্ন ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে সঙ্কটে ফেলছে।
৫। ফেসবুকে যারা ঘনঘন ঢু মারে তারা একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। ঘনঘন ফেসবুকে ঢু মারবেন না। বারবার নোটিফিকেশন চেক করবেন না। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করুন। তা না হলে আপনার মানসিক ধৈর্য ও স্থিতি হ্রাস পাবে। দিনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ফেসবুকে ব্যয় না করাটা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
৬। প্রতিদিন একবার অবধারিতভাবে বা একদিনে অনেক বার স্ট্যাটাস আপডেট করতেই হবে তা না হলে অনলাইনে আপনার অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে- এমন অস্বাস্থ্যকর সংকীর্ণ চিন্তা এক্ষুণি মাথা  থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার যে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি মানুষের আছে সেটা লাগাম ছাড়া হতে দিবেন না। নয়তো এক সময় আবিষ্কার করবেন একা থাকার যে স্বাভাবিক ক্ষমতা আছে সেটা হারিয়ে ফেলছেন। নির্জনতা আপনার কাছে নিদারুণ অসহ্য লাগবে।
৭। ফেসবুকে মিথ্যা বা অসত্য বা বানোয়াট বা অর্ধসত্য বা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে কথা বলার চর্চাটা বেশি হয়। নিজেকে জাহির করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসব হয়তো আপনাকে অন্যের কাছে তথাকথিত জনপ্রিয় করছে, কিন্তু আসলে আপনি নিজের কাছে নিজেই ছোট হচ্ছেন। নিজের প্রতি সৎ থাকুন। আত্মসম্মান বজায় রাখুন।
৮। এমন কোন ছবিতে কাউকে ট্যাগ করবেন না, যে ছবিটি তার নয়। অযথা লোকজনকে ট্যাগ করা বন্ধ করুন।
৯। ফেসবুকে নিজেকে ওভার শেয়ার করবেন না। আপনার ঘনঘন স্ট্যাটাস আপডেটিং, ফটো শেয়ারিং, বিভিন্ন পোস্ট শেয়ারিংয়ের ফলে বন্ধু তালিকার বন্ধুদের নিউজ ফিড যদি জ্যাম হয়ে যায় তবে আপনি তাদের কাছে একজন বিরক্তিকর ফেসবুক ইউজার হিসেবে চিহ্নিত হবেন। সো সেইভ ইউর ইমেজ।
১০। কারও স্ট্যাটাস কপি পেস্ট করবেন না। দয়া করে শেয়ার বাটনটি চাপুন।
১১। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথাবার্তা ওয়ালে না বলে ম্যাসেজে বলুন।
১২। ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অনুসারে মানুষ বিচার করবেন না। অনেক বিখ্যাত মানুষ
আছেন যারা স্রেফ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। বন্ধু/ ফলোয়ার সংখ্যা, লাইক/কমেন্ট/শেয়ার এসব কারও কর্মজীবন বিচারের মানদণ্ড না। অনেক বিখ্যাত লেখক ও ব্লগারও আছেন যারা ফেসবুকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকেন। পাবলিক রিলেশনের চেয়ে তারা হয়তো প্রাইভেট রিলেশনে অধিক গুরুত্ব দেন। ফেসবুকে আপনার অবস্থানটা হয়তো বড়, তাই বলে বাকিদেরকে ছোট ভাবার কোন কারণ নেই। অন্যদের প্রতি সম্মান বজায় রাখুন।
১৩। আপনি যত বড় আদমি হোন না কেন, কেউ আপনাকে ম্যাসেজ করলে দেরিতে হলেও সেটার রিপ্লাই দিন। এটা নূন্যতম ভদ্রতা জ্ঞানের পরিচয়।
১৪। ফেসবুকে আপনি কি ‘লাইক’ করছেন সেটা খুব খেয়াল করে করুন। আপনার এই ‘লাইক’ কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। আপনি কোন চটি পেজে বা পর্ণো ছবির পেজে লাইক দিয়ে বসে আছেন, ভুলে যাবেন না সেটা অন্যদের নিউজ ফিডেও চলে আসছে, আপনার প্রোফাইল ঘাঁটলেও যা পাওয়া যাবে। নিজে বিব্রত হতে না চাইলে বা অন্যদেরকে বিব্রত করতে না চাইলে সাবধানে ‘পছন্দ’ করুন।
১৫। ফেসবুকে কি স্ট্যাটাস দিবেন সেটা নিয়ে যদি দীর্ঘক্ষণ বসে বসে চিন্তা করেন, নিজেকে একজন ফেসবুক অ্যাডিক্ট বলে চিনে নিন। আপনি চিন্তা করছেন এটা দিলে লোকজন পছন্দ করবে কিনা, লাইক কি আগের স্ট্যাটাসের চেয়ে বেশি হবে না কম, কমেন্ট কেমন আসতে পারে, শেয়ার কেমন আসবে এসব চিন্তা করে একটা স্ট্যাটাস আপডেট করার মানে দাঁড়ায় আপনি নিজেকে অন্যদের কাঠগড়ায় বিচারের মুখে ফেলছেন। ফলাফল যা হচ্ছে সেটাকে আপনি রায় হিসেবে নিচ্ছেন। অর্থাৎ আপনার নিজের গ্রহণযোগ্যতা বিচারে আপনার নিজের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনি চরম ব্যক্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। জাস্ট বি ইওরসেল্ফ। নিজেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করাটাই আপনার আসল ‘স্ট্যাটাস’। পারফেক্ট স্ট্যাটাস বলে কিছু নেই, যেমন নেই পারফেক্ট মানুষ।
১৬। আপনি অনলাইন সোশাল লাইফে যতো বেশি সক্রিয় হবেন অফলাইনের সামাজিক জীবনে ততো বেশি নিষ্ক্রয় হবেন। তার মানে আপনি যতোটা না মানুষ থাকছেন তার চেয়ে বেশি যন্ত্রে পরিণত হচ্ছেন। অফলাইনের চেয়ে অনলাইন হয়ে যাচ্ছে আপনার সবচেয়ে কমফোর্ট জোন। প্রকৃত সামাজিক জীবনে আপনি স্বস্তি বোধ করছেন না। অধঃপতন হচ্ছে আপনার বাস্তব জীবনের। তাই সপ্তাহে অন্তত টানা দুইদিন ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রাখুন। বাস্তব জীবনটা পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করুন। সাতদিনে দুদিন ফেসবুক ব্যবহার না করলে আপনার জীবনহানি হবে না। বরঞ্চ ফেসবুকের কারণে জীবন, সম্পর্ক ও মাথা গোল্লায় যাওয়ার রেকর্ড আছে। এই লেখাটির উদ্দেশ্য আপনাকে ফেসবুক বিমুখ বা ফেসবুক বিদ্বেষী করে তোলা না। ফেসবুকের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। অবশ্যই
আপনি যোগাযোগ, আনন্দ লাভ, তথ্য জানার মাধ্যম ও নানাবিধ গঠনমূলক কাজের জন্য
ফেসবুক সুবিধা ব্যবহার করবেন। কিন্তু ফেসবুক যেন কোনভাবে আপনার ক্ষতি করতে না পারে। ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার সম্পর্কে নিজেকে সচেতন হতে হবে অন্যদেরকেও সচেতন করতে হবে। এই লেখাটি একবার পড়লেই যে আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশন থেকে মুক্ত থাকবেন বা মুক্ত হয়ে যাবেন তা কিন্তু না। লেখাটি আবার পড়ুন, কিছু দিন পরপর বারবার পড়ে মগজে গেঁথে নিন। কথাগুলোকে কাজে পরিণত করুন। আপনার ফেসবুক ব্যবহার আসক্তিমুক্ত সুস্থ ও আনন্দময় সুন্দর

বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

৩৫তম বিসিএস এর গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য জেনে নিন এখান থেকে

৩৫তম বিসিএস এর ২৫ পৃষ্ঠার এক বিজ্ঞপ্তি আজ ২৩/০৯/২০১৪ তারিখ মঙ্গলবার কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাডারে লোক নিয়োগের জন্য এক হাজার ৮০৩ টি শূন্য পদের বিপরীতে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন(পিএসসি)।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ক্যাডারে ৪৫৫ জন, প্রফেশনাল/টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৪৮৪, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৮২৯ জন, বিশেষায়িত শিক্ষা ক্যাডারে ৩৫জন নিয়োগ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩৫তম বিসিএস’র এর বিজ্ঞপ্তিটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

আবেদন ফরম পুরণ ও ফি জমাদান এর সময়সীমাঃ আবেদন ফরম পুরণ শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে, শেষ হবে ৩০ অক্টোবর।
আবেদন ফিঃ সংশোধনী বিধিমালা মোতাবেক প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ নম্বর এবং প্রাথমিক আবেদন ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধি ও সুবিধাবঞ্চিত তথা অনগ্রসর অধিবাসীদের জন্য ২৫০ টাকা থেকে কমিয়ে আবেদনপত্রের মূল্য ১০০ টাকা করা হয়েছে।
পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখঃ ৩৫ তম বিসিএস-এর প্রিলিমিনারি টেস্ট ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রার্থীদেরকে ২০০(দুইশত) নম্বরের একটি লিখিত প্রিলিমিনারি টেস্টে অংশগ্রহণ করতে হবে।
পরীক্ষার নতুন পদ্ধতিঃ এবার পরীক্ষার পূর্ণ সময় দেয়া হবে ২(দুই) ঘণ্টা। এই পরীক্ষায় মোট ২০০(দুইশত) টি প্রশ্ন থাকবে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১(এক) নম্বর পাবেন, তবে ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হবে। প্রিলিমিনারি টেস্টের উত্তরপত্র গোপনীয় দলিল হিসেবে গণ্য হবে। তাই প্রিলিমিনারি টেস্টের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনঃপরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আমি জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, উইকিলিকসে আপনাকে প্রয়োজন

সারা পৃথিবীজুড়ে চলছে গরিবের উপর ধনীদের অত্যাচার,উন্নত বিশ্বগুলো চালাচ্ছে উন্নয়ানশীল দেশগলোর উপর বঞ্চনার স্টিম রোলার।প্লেটের ভাত যারা কেড়ে নিচ্ছে,যারা সন্ত্রাসী ধমনের নাম করে মেরে যাচ্ছে বেসামরিক মানুষ,যারা কেড়ে নিচ্ছে শিশুর ভবিষ্যত তারা আর যাই হোক কারো বন্ধু হতেই পারেনা।
বাংলাদেশের মত উন্নয়ানশীল রাষ্ট্রগুলোর কোন ক্ষমতা নেই এই সকল অবিচারের প্রতিবাদ করার,নেই তাদের হুশিয়ারী করার মত পথ,নেই তাদের কোনভাবে আটকানোর রাস্তা।

পৃথিবীর বহুদেশ আর হারিয়েছে নিজেদের অস্তিত,নেই মানচিত্রে তাদের নিজস্ব ভুমির আয়তন,নেই এটা আমার দেশ বলার মত ভুমি। যেখানে মাথার উপরে আকাশ হয় তাদের চাদ,যেখানে মৃত পশুর পচাঅংশ হয় শিশুদের আহার,যেকানে কোন মাকে উজ্জত ডাকতে বেচে নিতে হয় ছালার বস্তা।
নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে দেখে নিজেকে যিনি ঠিক রাখতে পারলেন না,যিনি বসে গেলেন একাই বানাতে লেগে গেলেন এক নতুন কোডিং ট্যাগ,এক নতুন বোমা,এক নতুন স্বপ্ন,একটি নতুন আকাশ,একটি নতুন প্রহর।

জানেন তো সেই বোমার নাম কি ? জানেন তো সেই বোমা কার হাতেই তৈরী শুরু হয়েছে ?

না জানলে জেনে নিন সেই লড়াকু মানুষটির নাম- জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

তার তৈরী বোমার নাম- উইকিলিকস
বোমাটির কাজ - চাপা পড়া সত্য বের করে আনা
সেই কোডিং ট্যাগটি হচ্ছে -
আপনি কোন দিন পারবেন না নিরীহ মানুষের হাসি পিরিয়ে দিতে,পারবেন না যা তারা হারিয়েছে তা পুনরায় এনে দিতে,পারবেন না নবীনদের জন্য সুন্দরকরে পৃথিবী সাজাতে, আসলে অত্যাচারীরা আপনাকে দিবে না সেই সুযোগ।
চারদিক হতেই গরিব দেশগুলোকে ঘিরে রাখা হয়েছে, একটা কথা মনে রাখবেন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই, যতই চিন কিংবা জার্মানী আমেরিকা কে বলুক না কেন যে,তোমরা অমুক দেশকে আক্রমন করলে আমরা তোমাদের চাড়বো না,আসল কথা হচ্ছে বিশ্ব যুদ্ধ লাগলে ক্ষমাতাশীল দেশগুলোই একত্র হয়ে পৃথিবীর বাকি দেশগুলো ভাগ করে দখল করে নিবে।

এক কথায় আমেরিকানদের থেকে আপনার আমার বাঁচার কোন রাস্তা নেই, সব স্থানেই তাদের হস্তক্ষেপ আছেই, আপনি আপনার দেশে একটা তেলের খনি পেলে তার ভাগ ও তাদের দিতে হবে, না হয় অল্প দামে তাদের কাছে বিক্রি করতে হবে,অপারগতা জানালে আপনার দেশে ইন্টারন্যাশনাল সন্ত্রাসী আছে বলে ড্রোন কিংবা বিমান হামলা চালিয়ে নীরিহ মানুষ হত্যা করবে।

আপনার কাছে কোন অস্ত্র আছে?যা দিয়ে ন্যাটো কিংবা আমেরিকান বাহিনীর সাথে লড়বেন ? পারবেন কি নিজের শেষ সম্বল বাচাতে ? পারবেন কি নিজের দেশের খনিজ সম্পদগুলো নিজেদের বলে দাবি করতে ?
কোথ্থেকে পারবেন আপনি তো বড় কোন পারমানবিক পরীক্ষাও চালাতে পারেবন না,তাহলেই আপনার নাষে বানিজ্য বন্ধ।
আমাদের মত উন্নয়ানশীল দেশুগুলো আজ থেকে ৫০ বছর পর যে অস্ত্র ব্যবহার করবে আমেরিকা তা আরো ১০ বছর আগ থেকেই ব্যবহার করছে। আজ থেকে ২০ বছর পরে ব্যবহার করার জন্য আমেরিকান রা পারমানবিক বোমা কিংবা উন্নত বিমান কিংবা রোবাট তৈরী করে প্যাকেট করে রেখে দিয়েছে।
আমাদের কোন পথ নেই ? কোন উপায় নেই ? কেউ কি নেই নিরীহ মানুষের পাশে ? কে বলেছে কেউ নেই আছে একজন,যার হাত ধরেই দিন দিন বড় হচ্ছে উইকিলিকস এর আয়তন।

পৃথিবী জুড়ে কোটি কোটি নিপিড়িত মানুষ,লাখ লাখ সেচ্চাসেবী,হাজার হাজার সাইবার অপরাধী আজ নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে অসহায় মানুষের জন্য। তারা নানা ভাবে বড় করে তুলেছে উইকিলিকসকে,তারা বিশাল থেকে বিশালতর করছে উইকিলিকসের তথ্য ভান্ডার। হয়ত শুনে থাকবেন আমেরিকান নেী বাহিনীর একটি অফিসার(মেয়ে) উইকিলিকসের হয়ে কাজ করে তা সামনে গটে যাওয়া সবই রেকর্ড সহ দিয়েছে উইকিলিকসকে । তার জীবন বিপন্ন হবে তা ভাবে নি,কারন সে দেখেছে কিভাবে আমেরিকানরা উন্নয়ানশীল দেশ,মুসলমান দের প্রতি অন্যায় অবিচার করেছে।
আমেরিকান রা যেমন সবচেয়ে নিকৃষ্ঠ শুকর খেতে আনন্দ পায় ঠিক তেমনি তারা জগন্যতম কাজ করেও আনন্দ পায়।
আমেরিকানরা যেখানেই মুসলমানদের সুভাস পায় সেখানেই রটিয়ে দেয় মাদকের উন্মাদনা, ছড়িয়ে দেয় নিজের লালিত সন্ত্রাসী আর যাদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে নতুন নতুন কৌশলে কোন না কোন রাস্ট্র দখল করে নিচ্ছে।
ইরাকে কত সাধারন মানুষ হত্যা করেছে তার সঠিক হিসেব কারো জানা নেই, শুধুমাত্র খনিজ সম্পদের লোভেই এতটা জগন্যতম কাজ।
তাই আসুন নিজেরা একা যে অস্ত্র তৈরী করতে পারছি না, সবাই মিলে চলুন না সেই বোমাটি দিনে দিনে বড় করে তুলি, আরো বোমারু জোগাড় করি।

নিচের ভিডিও দেখুন:

একনজরে উইকিলিকস:-

  • WikiLeaks
  • Commercial? - No, ইহা ননপ্রফিট
  • Type of site: Document archive & disclosure
  • Created by: Julian Assange
  • Launched: 4 October 2006
  • Current status: Active
  • উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক : জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জে
  • জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জ
  • জন্ম: ৩ জুলাই ১৯৭১
  • তিনি একজন অস্ট্রেলিয়ান কম্পিউটার প্রোগ্রামার।
  • তিনি রাজনৈতিক / ইন্টারনেট কর্মী, প্রকাশক, এবং সাংবাদিক.

পুরস্কার :


  • ইকোনোমিষ্ট ফ্রিডম অবএক্সপ্রেশন এওয়ার্ড (২০০৮)
  • এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকেমিডিয়া পুরস্কার (২০০৯)
  • স্যাম এডাম্স পুরস্কার (২০১০)
  • লি মনডে,বছরের সেরা শৌখিন ব্যক্তি পুরস্কার(২০১০)
  • সিডনি শান্তি ফাউন্ডেশন স্বর্ণ পদক (২০১১)
  • মার্থা গেলহর্নপুরস্কার সাংবাদিকতা জন্য (২০১১)
  • অসামরিক জন্য ভিক্টোরিয়ান কাউন্সিল (২০১১) এর ভোল্টেয়ার পুরস্কার
  • সাংবাদিকতা থেকে বিশিষ্ট অবদান (২০১১) জন্য ওয়ালকিসপুরস্কার

পরিপূর্ণ স্বচ্ছতার পক্ষে লড়াকু সাইবার-যোদ্ধা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে শেষ করে দিতেই আমেরিকান রা লেগেছে তার পিছে, ছাড়ছে না কোনমতে,তাইতো আজ থেকে ২ বছর আগে তার বিরুদ্ধে আনা হয় কয়েকটি অভিযোগ,যেমন:যৌন অসদাচরণ
আমি বুক হাত দিয়ে বলতে পারি এটি মিথ্যা,বোনোয়াট।

দুই সাবেক ভক্ত তরুণীর দায়ের করা মামলায় সুইডিশ প্রসিকিউটর অফিস ২০১০ সালের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অ্যাসাঞ্জ তখন লন্ডনে, ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অ্যাসাঞ্জ লুকিয়ে থাকতে বেশ পারঙ্গম। শেষে ইন্টারপোলের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়ান্টেড লিস্টে’ প্রচার করা হয় তাঁর নাম: আন্তর্জাতিক হুলিয়া। অ্যাসাঞ্জ তখনো পলাতক। কারণ, তাঁর বিশ্বাস, যৌন অসদাচরণের অভিযোগ আসলে অজুহাত। সুইডিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে পেতে চায় আমেরিকার হাতে তুলে দিতে। কারণ, আমেরিকানদের কাছে তিনি তত দিনে হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি। ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের বর্বরতার প্রত্যক্ষ বিবরণ-সংবলিত যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাঠানো ‘ফিল্ড রিপোর্ট’ আর সারা বিশ্বের মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর গোপন তারবার্তা—সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ গোপন নথিপত্র—উইকিলিকসের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ফাঁস করে দিয়ে অ্যাসাঞ্জ পরিণত হয়েছেন আমেরিকার এক নম্বর শত্রুতে। তাই, তাঁর ধারণা, আমেরিকা সুইডেনকে দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে নিয়ে যাবে; মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি-সংক্রান্ত আইনের আওতায় বিচার করবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এক কথায় এখন একমাত্র আন্দোলন,করেই নয় আমেরিকানদের উপর চাপ সৃষ্টি করা চাড়া আমাদের এই হিরোকে বাচানো সম্ভব নয়।
২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর অ্যাসাঞ্জ তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের এক থানায় যান পুলিশের প্রশ্নের জবাব দিতে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরা তাঁর জামিনের আবেদন করেন, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট নামঞ্জুর করেন। তার পরের ১০ দিন অ্যাসাঞ্জকে কাটাতে হয় দাগি কয়েদির পোশাক পরে লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কারাগারে। ১৭ ডিসেম্বর তাঁকে এমন শর্তে জামিন দেওয়া হয়, তিনি লন্ডনের আশপাশেই থাকবেন, প্রতিদিন নিকটস্থ থানায় সশরীরে গিয়ে খাতায় সই করে আসবেন। তাঁর পায়ের গোড়ালিতে সব সময় বাঁধা থাকবে একটা ইলেকট্রনিক ট্যাগ। সেই থেকে আজ প্রায় ১৮ মাস জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এক অদ্ভুত গৃহবন্দী, যাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।
অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে একযোগে তৎপর হয়ে উঠেছে ব্রিটেন, সুইডেন ও আমেরিকা। এমনকি তাঁর স্বদেশ অস্ট্রেলিয়ার সরকারও ওই তিনটি দেশের সরকারের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
আমেরিকান রা যেমন ছাড়ে নি, সাদ্দাম হোসেন,গাদ্দাপি কে ,ঠিক যানি না এই মহান মানুষটিকেও ছাড়বে কিনা।

fig: এভাবে আমেরিকান রা মানুষ মেরে টিভিতে প্রকাশ করতো আত্বঘাতি বোমা/রাস্তায় পুতে রাখা বোমায় মারা গেছেন বলতেন

কিভাবে অ্যাসাঞ্জ ও উইকিলিকস এই পরিচিত মুখ হয়েছেন ?


আফগানিস্তানে আফগান যুদ্ধের সূচি,আফগানিস্তানে যুদ্ধের পূর্বে প্রচার না হওয়া ৭৬,৯০০ নথির একটি সংকলন প্রকাশ করে
অক্টোবর ২০১০সালে-প্রায় ৪০০,০০০ নথির একটি প্যাকেজ সমন্বয়ে ইরাক যুদ্ধের একটি পরিপূর্ণ খসড়া প্রকাশ করে।
এপ্রিল ২০১১সালে, আফগানিস্তানের৭৭৯ টি গোপন সম্পর্কিত,গুয়াতানামো শিবিরে আটক বন্দীদের ফাইল প্রকাশ করে হইচই এন দেয় এই অ্যাসাঞ্জ।
তারপর থেকেই এক এক আরো কিছু দেশের গোপন নথি প্রকাশ করে উইকিলিকস তাইতো পুথিবীর সকল প্রভাবশালী দেশগুলো আজ উইকিলিকস কে শেষ করতে লেগেছে।
What’s the difference between Facebook’s Mark Zuckerberg, and Wikileaks’ Julian Assange? This image says it all:

আরো জনাতে চোখ রাখুন:





অল্প পরিমান লেখা প্রথম আলোর একটি নিউজ থেকে নেয়া হেয়ছে, ইউকিপিডিয়া এবং উইকিলিকস থেকে তথ্য কালেকশন করা হয়েছে,সকল ছবি গুগল থেকে।
আসুন এবার হিরোর বন্ধু হই
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হয়ে বার্তাটি ছড়িয়ে দিতে পেরে আমি আনন্দিত.................

Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.