শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের লোকেশন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের লোকেশনঃ
বাস বা ট্রেন তোমাদের নামিয়ে দিবে কদমতলী নামক জায়গায়।
এখান থেকে তোমরা সরাসরি সিএনজি নিয়ে চলে আসতে
পারো ভার্সিটি গেইট বা যেতে পারো যেখানে তুমি যেতে
চাও। ভাড়া ১২০-১৮০টাকা নিতে পারে ভার্সিটি গেইট [১২০ টাকা
.
লিগ্যাল, এক্সামের আমেজে ১৮০ টাকা পর্যন্ত নিতে পারে।
এভাবে এখন থেকে যতগুলো ভাড়া দিব, সবগুলোর প্রথমটা
হচ্ছে লিগ্যাল আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে হাইয়েস্ট]। আর যদি কিছু কম
খরচে আসতে চাও,এখান থেকে তোমাদের বন্দরে
আসতে হবে। পায়ে হেটে আসলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট
লাগবে, ডিস্টেন্স আধা কিলোর কম, রিক্সা ভাড়া ২৫-৪০ টাকা।
বন্দর থেকে কিছু সিএনজি সরাসরি ভার্সিটির দিকে যাত্রীসেবা
দেয়, যাত্রী প্রতি ১৫টাকা ফিক্সট। এটায় করে আসতে পারো।
অথবা কদমতলী থেকে সরাসরি রিক্সায় ভার্সিটি আসলে ৭০
থেকে ১০০ টাকা নিবে।
বাস ও ট্রেন স্টেশন
থেকে ডিরেক্ট রিক্সা নিয়ে আসা যাবে।ভাড়া লাগতে পারে
৩৫-৫৫/=। রিক্সাওয়ালা ভাই কে বললেই হবে মাজার গেইট এ যাবা
। উনি ঠিকঠাক নামিয়ে দিবেন। আম্বরখানা যেতে লাগবে তোমার
৪০-৬০ টাকা।
খাওয়ার ব্যাপারে কারো সমস্যা হওয়ার কথা না। মাজার গেইট বা
আম্বরখানায় যারা উঠবা তারা মাজার গেইট এ গেলেই দেখতে পারবা
সারি ধরে অনেকগুলো রেঁস্তোরা একসাথে।
.
এখন আসা যাক ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রের লোকেশনের
ক্ষেত্রেঃ
মদিনা মার্কেট হল ভার্সিটি গেট ও আম্বরখানার ঠিক মাঝের একটা স্থান। ২দিক থেকেই সিএনজিতে ভাড়া ৫/১০ টাকা। বন্দর থেকে সিএনজিতে ১০-১৫টাকা ভাড়া। কদমতলি থেকে সরাসরি আসতে চাইলে রিক্সা ভাড়া ৫০টাকা।
এখানে আমি ভার্সিটি গেট, আম্বরখানা ও বন্দর থেকে কিভাবে সেন্টার গুলোতে যাবে সেটা বলব।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস (এর মধ্যেই শিক্ষা ভবন A,B,C,D,E, ওয়াজেদ আলি IICT ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল)
মদন মোহন কলেজ (মূল ক্যাম্পাস) - লামাবাজার। আম্বরখানা থেকে ১৫টাকা রিক্সা ভাড়া।অথবা ভার্সিটি থেকে বন্দরের সিএনজি তে উঠলে কলেজ গেটে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ১০/১৫টাকা। আর বন্দর থেকেও লাইনের সিএনজিতে আসতে পারবে।
মদন মোহন কলেজ (তারাপুর ক্যাম্পাস) - ভার্সিটি থেকে মদিনা মার্কেট এসে আম্বরখানার দিকে একটু হাঁটলে হাতের বামের রাস্তায় ঢুকে এগিয়ে যেতে হবে (রাগিব আলী মেডিকেলের গলি যাকে বলে, রাগিব আলী মেডিক্যাল পার হয়ে) অথবা আম্বরখানা থেকে পাঠানঠুলা পয়েন্টে নেমে হাতের ডানের রাস্তায় কিছু দূর হেটে যেতে হবে। ফুলকলি দোকানের পাশ দিয়ে।মেইন রোড থেকে একটু ভিতরে, রিক্সা নিতে পারো।
জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ - মদিনা মার্কেট থেকে আম্বরখানার দিকে একটু হাঁটলে হাতের বামের রাস্তায় ঢুকে এগিয়ে যেতে হবে (রাগিব আলী মেডিকেলের গলি যাকে বলে) অথবা আম্বরখানা থেকে পাঠানঠুলা পয়েন্ট এ নেমে হাতের ডানের রাস্তায় একটু হাঁটলেই পেয়ে যাবে। ফুলকলি দোকানের পাশ দিয়ে। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.914008, 91.852232 )
সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ - এটা চৌহাট্টা পয়েন্টেই। আম্বরখানা থেকে হেটেই আসা যায়। কদমতলি থেকে রিক্সা বা সিএনজি।
সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাঃ চৌহাট্টা। আম্বরখানা থেকে হেটেই আসা যায়। রিক্সা ১০টাকা। বন্দর থেকে আম্বরখানার সিএনজি তে আসলে ১০টাকা ভাড়া। মহিলা কলেজের পাশেই, উলটা দিকে।
সিলেট অগ্রগামী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ - জিন্দাবাজার। আম্বরখানা থেকে রিক্সা ১৫টাকা আর কদমতলি থেকে ২৫-৩০টাকা ভাড়া। বা ভার্সিটি গেট থেকে সিএনজি করে বন্দর। বন্দর থেকে হেটেই আসা যায়।
দি এইডেড হাই স্কুলে - তাতি পাড়া। জিন্দাবাজারের সিটি শপিং সেন্টারের উল্টা দিকে গলির ভিতর। আম্বরখানা থেকে ১৫ আর বন্দর থেকে ১০টাকা রিক্সা ভাড়া। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.896067, 91.869549 )
রাজা G.C হাই স্কুলঃ বন্দর বাজার, ভার্সিটি থেকে বন্দরের সিএনজি, ১৫টাকা। কদমতলি থেকে রিকশা বা সিএনজি তে, ভাড়া ১৫-১০ টাকা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পাশ দিয়ে, ডাক অফিসের পাশেই।
বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ - মদিনা মার্কেট থেকে রিক্সা বা নয়াবাজার এর টমটম এ করে যেতে পারো। রিক্সা ভাড়া ১০-১৫টাকা।
ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ (মূল ক্যাম্পাস) - মিরের ময়দান। ভার্সিটি গেট থেকে বন্দরের সিএনজিতে আসলে বা বন্দর থেকে ভার্সিটির সিএনজিতে উঠলে স্কুল গেটে নামিয়ে দিবে। ভার্সিটি গেট থেকে আম্বরখানার সিএনজিতে আসলে সুবিদবাজার নেমে হেটেই আসা যাবে। আর আম্বরখানা থেকে রিক্সা ভাড়া ১৫-২০টাকা।
ব্লু বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ (জুনিয়র ক্যাম্পাস) - এটা মেইন স্কুলের প্রাইমারি সেকশন। ২টাই পাশাপাশি। ২মিনিটের হাঁটা দূরত্বে।
আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ - আম্বরখানা থেকে হেটেই আসা যায়। হাউজিং এস্টেট এর রাস্তায় ঢুকতে হবে। ভার্সিটি থেকে আম্বরখানার সিএনজিতে এসে হাউজিং এস্টেট পয়েন্টে নামবা। ভাড়া ১০টাকা।
আব্দুল গফুর ইসলামি আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজঃ জালালাবাদ আবাসিক এলাকা। মেইন রোড থেকে একটু ভিতরে। আম্বরখানা থেকে হেতেই আসা যাবে। ভার্সিটি থেকে আম্বরখানার সিএনজিতে এসে জালালাবাদ পয়েন্টে নামবা। ভাড়া ১০টাকা। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.906518, 91.864762 )
টিচার্স ট্রেনিং কলেজ - আম্বরখানা থেকে সিএনজি করে টিবি গেটে নামতে হবে, ১০টাকা ভাড়া। রাস্তা থেকে একটু ভিতরে। বন্দর থেকে রিক্সা ২৫-৩০টাকা ভাড়া।
সিলেট মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ - আম্বরখানা থেকে সিএনজি করে টিবি গেটে নামতে হবে, ১০টাকা ভাড়া। মেইন রাস্তা থেকে বাম দিকের ছোট রাস্তা ধরে একটু ভিতরে। বন্দর থেকে রিক্সা ২৫-৩০টাকা ভাড়া। সিলেট মডেল স্কুল ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ পাশাপাশি। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.907679, 91.890622 )
সিলেট ওমেন্স মেডিকেল কলেজ - মিরবক্সটুলা, আম্বরখানা থেকে ১০/১৫ টাকা রিক্সা ভাড়া। চৌহাট্টা পয়েন্টের বাম দিকের রাস্তা। বন্দর থেকে ২০-২৫টাকা রিক্সা ভাড়া।
শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ - মিরাবাজার। মেইন রোড থেকে একটু ভিতরে। আম্বরখানা থেকে গেলে মিরাবাজারে হাতের ডানে ঢুকতে হবে। রিক্সা ভাড়া ২০-৩০টাকা। বন্দর থেকে টিলাগড়ের সিএনজি বা লেগুনাতে করে মিরাবাজারে নেমে হেতে যাওয়া যাবে। ভাড়া ১০টাকা। কদমতলি থেকে রিক্সা ৪০-৫০টাকা। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.893328, 91.881393 )
শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসাঃ পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট। ঠিক পয়েন্টের উপরেই। সিএনজি ভাড়াঃ ভার্সিটি গেট থেকে ৫, আম্বরখানা থেকে ১০, বন্দর থেকে ১৫টাকা।
পাঠানটুলা হাইস্কুল - পাঠানটুলা, সানরাইজ এর উল্টো দিকে। ভার্সিটি গেট/আম্বরখানা/বন্দর থেকে সিএনজি। ভাড়া ১০/১৫ টাকা
পুলিশলাইন হাইস্কুল - রিকাবি বাজার, ভার্সিটি গেট বা বন্দর থেকে সিএনজি (১০টাকা)। আর আম্বরখানা থেকে রিক্সা ১৫টাকা ভাড়া।
কিশোরী মোহন গার্লস স্কুল - নয়াসড়ক, রাস্তার উপরেই। খ্রিষ্টান চার্চের উল্টো দিকে। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে রিক্সা। ভাড়া ১৫-২৫টাকা।
সিলেট এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ - টিলাগড়। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে সিএনজিতে (১০টাকা)। বন্দর থেকে লেগুনাতেও আসা যাবে। টিলাগড় পয়েন্টে নেমে হেটে ২মিনিট লাগবে।
সিলেট সরকারী কলেজ - টিলাগড়। MC কলেজ পার হয়ে এর পাশেই। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে সিএনজিতে (১০টাকা) টিলাগড় পয়েন্টে নেমে হেটে ৫মিনিট লাগবে।
সিলেট সরকারী পাইলট হাইস্কুল - কালীঘাট। কদমতলি থেকে কিন ব্রিজ পার হয়ে বন্দর আসার আগেই এর নিচের রাস্তা দিয়ে। আম্বরখানা থেকে রিক্সা ২০টাকা ভাড়া। ভার্সিটি থেকে বন্দরের সিএনজিতে উঠলে পুলের মুখে নামতে হবে। লিখেছেন সিএসই বিভাগের হৃদয় ভাই।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ - মদিনা মার্কেট থেকে সিএনজি বা টমটমে ৫টাকা ভাড়া, কলেজ গেটে নামিয়ে দিবে। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে রিক্সা (ভাড়া ২০-২৫টাকা)।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি - জিন্দাবাজার, যা আল-হামরা শপিং সেন্টারের উপরে। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে রিক্সা ১০টাকা ভাড়া।
PDB স্কুলঃ শামিমাবাদ, ওসমানী মেডিকেল থেকে কাছে। মদিনা মার্কেট থেকে টমটম/সিএনজি ৫টাকা ভাড়া। স্কুলের সামনে নামিয়ে দিবে। আম্বরখানা থেকে রিক্সা ভাড়া ২০-২৫টাকা। বন্দর থেকে মেডিক্যালের সিএনজি তে (ভাড়া ১০) ওসমানীর সামনে নেমে হেটে আসা যাবে।
সিলেট ইন্টার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি - শামিমাবাদ, ওসমানী মেডিকেল থেকে কাছে। PDB স্কুলের সামনে নেমে মেইন রোড থেকে একটু ভিতরে। রিক্সা নিয়ে যাওয়া ভাল।
মঈনউদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ - শামিমাবাদ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাস্তায়। PDB স্কুলের সামনে নেমে মেইন রোড থেকে একটু ভিতরে। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.899100, 91.846743 )
হাজী আব্দুস সাত্তার হাইস্কুল - টুকের বাজার। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে সিএনজি (১৫/২০টাকা) করে যাইতে হবে। ভার্সিটি গেট পার হয়ে। বাজারে যাওয়ার আগেই হাতের ডানে। (গুগল ম্যাপে ভুল লোকেশন দেখায়, সঠিক লোকেশন হল ( 24.914533, 91.816484 )
সৈয়দ হাতেম আলী হাইস্কুল - শিবগঞ্জ, সাদিপুর। আম্বরখানা বা কদমতলি থেকে রিক্সা/সিএনজি। অথবা বন্দর থেকে সিএনজিতে যাওয়া যাবে। শিবগঞ্জ পয়েন্ট পার হয়ে, বামের রাস্তায় একটু ভিতরে যেতে হবে।
কাজী জালাল উদ্দিন র্গালস স্কুল - কুমারপাড়া। কুমারপাড়া পয়েন্টের বামে, উঁচা সড়কের উপরে। আম্বরখানা বা বন্দর থেকে রিক্সা, ভাড়া ২০-২৫টাকা।
দক্ষিন সুরমা নছিবা খাতুন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ঃ এটা ঠিক ট্রেন স্টেশন থেকে বের হলে বাম পাশের রাস্তায়, কদমতলি, ২মিনিটের হাটা রাস্তা। গুগল ম্যাপে লোকেশন ( 24.883198, 91.867511 )
রসময় মেমোরিয়াল হাই স্কুলঃ জল্লার পাড়, সিলেটের বিখ্যাত ৫ভাই রেস্টুরেন্টের ঠিক পাশেই। বন্দর থেকে রিক্সা ১০-১৫টাকা, ভার্সিটি গেট থেকে বন্দরের সিএনজি তে মির্জাজাঙ্গাল নেমে হেটেই আসা যাবে, ভাড়া ১৫টাকা। আম্বরখানা থেকে রিক্সা ১৫-২০টাকা ভাড়া।
মঈনুন্নেসা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ঃ শেখঘাট, কাজির বাজার সেতুর গোড়াতেই, হাতের বামে,রাস্তার উপরেই সাইনবোর্ড আছে। ভার্সিটি গেট থেকে বন্দরের সিএনজিতে উঠে বলতে হবে হবে শেখঘাট নামাতে, স্কুলের সামনে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ১৫টাকা। বন্দর থেকে রিকশা (১০টাকা) বা হেটে আসা যাবে। আম্বরখানা থেকে রিকশা ভাড়া ২৫-৩০টাকা। গুগলে ম্যাপে লোকেশন ( 24.890510, 91.859933 )
সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটঃ কাজির বাজার সেতু পার হয়েই হাতের ডানে,রেল লাইনের পাশেই। ভার্সিটি গেট থেকে বন্দরের সিএনজিতে উঠে বলতে হবে হবে শেখঘাট নামাতে। ভাড়া ১৫টাকা। কদমতলি থেকে রিক্সা নিলে সেতুতে উঠার আগেই হাতের বামে।
ভার্সিটি গেট থেকে ২ধরনের সিএনজি পাওয়া যায়। বন্দর (১৫টাকা) যা সুবিদবাজার হয়ে ব্লু বার্ড স্কুল, পুলিশ লাইন স্কুল, লিডিং ভার্সিটি সুরমা টাওয়ার এর সামনে হয়ে বন্দর আসে। আর একটা হল আম্বরখানার (১০টাকা), যা সুবিদবাজার হয়ে সোজা আম্বরখানা আসে।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা। এইদিন রাস্তায় প্রচুর জ্যাম হয়, সেই সাথে রাস্তায় যানবাহন সহজে পাওয়া যায় না। তাই হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বের হবা। আর অবশ্যই তোমার সেন্টার ভালভাবে যাচাই করে নিবা। রাস্তায় জ্যামে বসে থাকার চেয়ে পরীক্ষা হলে আগে গিয়ে বসে থাকা ভালো।
সিলেটে গুগলের ষ্ট্রীট ভিউ চালু আছে, উপরে দেয়া লোকেশন গুগল ম্যাপে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবে।
আশা করি বুঝতে সমস্যা হয় নাই। আর রাস্তায় কোন সমস্যা হলে আশে পাশের যে কোন মানুষকে নির্দ্বিধায় জিজ্ঞেস করবে। সবাই সাহায্য করবে।
#কালক্টেড
নিলয়
যন্ত্রকৌশল বিভাগ,শাবিপ্রবি

CHITTAGNONG UNIVERSITY ADMISSION SPECIAL GUIDELINE-2018

COPIED & COLLECTED:

(একটু সময় নিয়ে পোস্টটি পড় অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে)
.
কেমন আছো সবাই?আশা করি কেউ ভাল নেই।
থাকবে কেমনে,সামনে যে তোমাদের মহাযুদ্ধ।
যে যুদ্ধে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত তোমরা ভাল
থাকবেনা।তোমাদের ভাল থাকার জন্য,তোমাদের
জয়ী হওয়ার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র পোস্ট।
প্রথমেই বলি ভার্সিটি পরীক্ষাকে পরীক্ষা না
বলে যুদ্ধ বলাই উত্তম।কেন সেটা আমি বললে
বিশ্বাস করবেনা,তাই তোমরা স্বচক্ষে দেখে নিও।
আর এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে করতে হবে
কঠোর পরিশ্রমী অনুশীলন। কারণ অনুশীলনে
ঘাম না ঝরালে যুদ্ধের ময়দানে তোমাকে রক্ত
ঝরাতে হবে।
এবার দেখে নাও ডি+বি ইউনিটের সিট ও মানবন্টন
#ডি_ইউনিট
D-ইউনিটে ১১৮১ টি সাধারণ আসন (কোটা ছাড়া)। যা নিম্নরূপ-
১। অর্থনীতি-১৩২ (মানবিক-৪০, বিজ্ঞান-৬৬, ব্যবসায়-২৬)
২। রাজনীতি বিজ্ঞান -১৩২ (মানবিক-৫৩, বিজ্ঞান-৫৩, ব্যবসায়-২৬)
৩। সমাজতত্ত্ব -১৩২ (মানবিক-৫৩, বিজ্ঞান-৫৩, ব্যবসায়-২৬)
৪। লোকপ্রশাসন-১৩২ (মানবিক-৫৩, বিজ্ঞান-৫৩, ব্যবসায়-২৬)
৫। নৃ-বিজ্ঞান-৮৫ (মানবিক-৩৪, বিজ্ঞান-৩৪, ব্যবসায়-১৭)
৬। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক-৮৫ (মানবিক-৩৪, বিজ্ঞান-৩৪, ব্যবসায়-১৭)
৭। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা-৬০ (মানবিক-২৪, বিজ্ঞান-২৪, ব্যবসায়-১২)
৮। ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-৩০ (মানবিক-১২, বিজ্ঞান-১২, ব্যবসায়-৬)
৯। ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স-৩০ (মানবিক-১২, বিজ্ঞান-১২, ব্যবসায়-৬)
১০। আইন-১১৫ (সব বিভাগের জন্য উন্মুক্ত)
১১। ফিজিক্যাল এডুকেশন এবং স্পোর্টস সায়েন্স- ৩০ (সব বিভাগের জন্য উন্মুক্ত)
১২। একাউন্টিং-১৭ (মানবিক-৬, বিজ্ঞান-১১)
১৩। ম্যানেজমেন্ট-৪৫ (মানবিক-৫, বিজ্ঞান-৪০)
১৪। ফাইন্যান্স-১৭ (মানবিক-৬, বিজ্ঞান-১১)
১৫। মার্কেটিং-৩৩ (মানবিক-৬, বিজ্ঞান-২৭)
১৬। হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-৫০ (মানবিক-৫, বিজ্ঞান-৪৫)
১৭। ব্যাংকিং এন্ড ইন্সুরেন্স-৩০ (মানবিক-৫, বিজ্ঞান-২৫)
১৮। ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা-১০ (মানবিক)
১৯। মনোবিদ্যা -১৬ (মানবিক)
এর বিপরীতে ২০১৭-২০১৮ সেশনে লড়বে মোট ৩৯,২৮২ জন শিক্ষার্থী।
#ভর্তিপরীক্ষার_মানবন্টন :
১। বাংলা- ৩০ নম্বর
২। ইংরেজি- ৩০ নম্বর
৩। সাধারণ জ্ঞান/গণিত/অর্থনীতি- ২০ নম্বর
৪। বিশ্লেষণ দক্ষতা- ২০ নম্বর
মোট= ১০০ নম্বর
পাস মার্ক = ৪০
নোট: (ক) সাধারণ জ্ঞান/গণিত /অর্থনীতি এর ক্ষেত্রে যেকোন বিভাগ থেকে যে কেউ যেকোন বিষয়ে উত্তর করতে পারবে। এতে সে সব সাবজেক্টই নিতে পারবে। এর জন্য কোন বিশেষ শর্ত নেই ।
(খ) স্পোর্টস সাইন্স এ ব্যবহারিক ৩০ নম্বর (ফিল্ড টেস্ট –২০ ও খেলাধূলার সার্টিফিকেট –১০)। এই বিষয়ে মেধাক্রম তৈরি হবে ১৫০ নম্বর ধরে।
#বি_ইউনিট
B-ইউনিটে ১৩৪৬ টি সাধারণ আসন (কোটা ছাড়া)। যা নিম্নরূপ-
বাংলা– ১১০, ইংরেজি– ১১০, ইতিহাস- ১২০, দর্শন– ১২০, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি– ১২০, আরবি- ১২০, ইসলামিক স্টাডিজ- ১২০, নাট্যকলা– ৩৫, Language and Linguistics- ৪১, চারুকলা– ৬০, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য– ৫০, পালি– ৮৫, সংস্কৃত– ৭০, আই-ই- আর (Education Research Institute)– ১০৫ (মানবিক-৪০, বিজ্ঞান-২৫, ব্যবসায়-৪০) এবং সংগীত- ৩০, বাংলাদেশ স্টাডিজ– ৫০।
এর বিপরীতে ২০১৭-২০১৮ সেশনে লড়বে মোট ২৯,২৯৫ জন শিক্ষার্থী।
#ভর্তিপরীক্ষার_মানবন্টন :
১। বাংলা- ৩৫ নম্বর
২। ইংরেজি- ৩৫ নম্বর
৩। সাধারণ জ্ঞান- ৩০ নম্বর
মোট = ১০০ নম্বর
পাস মার্ক = ৪০
নোট: নাট্যকলা ও সংগীতে ভর্তির জন্যে অতিরিক্ত ২০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে হবে। তাদের জন্যে মোট নাম্বার -১৪০ ।
ফলাফল :
SSC GPA কে ১.৬ এবং HSC GPA কে ২.৪ দ্বারা গুণ করে ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সাথে যোগ করে মেধাক্রম তৈরি করা হবে।
মোট ১২০ নম্বরের মধ্যে GPA-২০ এবং ভর্তি পরীক্ষায় নম্বরের-১০০।
#দৃষ্টি_আকর্ষণ
চবির ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং বিষয়ভিত্তিক নয়, বরং মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে।
অর্থাৎ কোন ইউনিটে যদি ইংরেজি ৩০ নম্বরের পরীক্ষায় পাশ মার্ক ৮ হয়। আপনি ৩০ টা প্রশ্নের উত্তর দিলেন। ২২টা ভুল হলো আর সঠিক মাত্র ৮টা। তাহলেই আপনি ইংরেজিতে পাশ করবেন।
যে ২২টা উত্তর ভুল হলো তার জন্য সব সাবজেক্ট মিলে মোট যে নম্বর পাবেন, সেখান থেকেই বিয়োগ করা হবে।
.
এবার আসি আসল কথায় কি কি পড়বে...।।
বি১ এর মত ডি ইউনিটের প্রশ্নও তুলনামূলক সহজ।এখানেও ব্যসিক থেকে বেশি প্রশ্ন হয়।কিন্তু এই ইউনিটে চান্স পাওয়ার অন্যতম শর্ত হল ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।
কারণ এখানে ২০ এর ইংরেজি যেমন উত্তর করতে তেমনি করতে হবে ২০ এর বিশ্লেষণ দক্ষতা এর উত্তর। অনেকে জানেনা বিশ্লেষণ দক্ষতাটা আবার কি রকম।তাদের জন্য জন্য বলছি,তোমরা আগে "Halda IQ" বই থেকে ডি ইউনিটের বিগত বছরের বিশ্লেষণ দক্ষতারর প্রশ্ন গুলো সলভ কর,তাইললে বুঝবে যে এখানেও ইংরেজি থেকে বেশি প্রশ্ন করা।যার বেশিরভাগ থাকে Snynm, antynm,analogy, fill in the gaps,pin point error. আর কয়েকটা মানসিক দক্ষতার উপর।
বলা চলে যাদের ইংরেজিতে প্রস্তুতি ভাল ভাষাজ্ঞান নিয়ে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
আর এই ইউনিটে চান্স পেতে হল ১০০ তে ৬৫+ নং থাকা আবশ্যক।
আর একটা কথা হল এই ইউনিটের সব সাবজেক্ট খুব ডিমান্ডএবল।বিসিএস এর জন্য পুরোপুরি পারফেক্ট।
বই কি কি পড়বে তা নিচে দেওয়া আছে।
#কি_কি_পড়বে
.
★বাংলা__ প্রথমে তিনটা ইউনিটের প্রিভিয়াস প্রশ্ন
ব্যাখ্যা সহকারে পড়ে নাও।যদি ব্যাখ্যা সহ পড়ে "হালদা B+D" বইটা খেয়ে ফেলতে পারো তবে ৩০% কাজ শেষ। তার পর "হালদা B+D" বইয়ের বাংলা অংশ খেয়ে ফেলো। ৭০% প্রস্তুতি শেষ। বাকি ৩০% এর জন্যে পড়তে পারো রেনেসাঁ বইটা, বইটাতে সাহিত্য অংশ
গুলো সুন্দর টেকনিক সহকারে দেওয়া আছে।
পুরো বইটা ভালো করে শেষ কর।এবার হাতে নাও
৯-১০ এর বাংলা ব্যাকরণ বইটা, এখান থেকে দাগিয়ে
দাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুলো ভালো করে পড়ে
নাও।
#ইংরেজি
প্রথমে "হালদা B+D" বইটি নিয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো পড়ে ফেলো। বুঝে যাবে ইংরেজি প্রশ্ন কেমন হয়। তার পর "হালদা B+D" তে দেওয়া ইংরেজি সাজেশন অংশ পড়ে ফেলো। এতে তোমরা spelling , vocabulary, synonyms, antonyms, analogy, literature পার্টের প্রস্তুতি শেষ হয়ে যাবে। এখন দরকার grammar প্রস্তুতি।

তোমরা ইতিমধ্যে Barrons +cliffs+Peterson toffel
এই তিনটা বই এর নাম শুনেছে।অনেকে শুনেছে
কিন্তু পড়েনি আবার অনেকে শেষ ও করে
ফেলেছে।
আগে বলব কোন বড় ভাই থেকে হোক কিংবা চুরি
করে হোক বই তিনটা কালেক্ট কর।
কি কি পড়বে?
cliffs এর ৩৯ থেকে ২৩৭ পৃষ্টার গ্রামার রুলস
ভালো করে পড়ে নিন,then..
১. Barrons toffel এর এমসিকিউ based ৮ টি মডেল
টেস্ট আছে আছে ঐ গুলো +১৭০ টার মত
problem question আছে শেষ করুন।
২.cliffs toffel(ভার্সিটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বই) থেকে যে ৬টি practice test আছে +৬ টি মিনি
টেস্ট সব শেষ করতে হবে।
৩.Peterson Toffel থেকে ৩টি practice test solve
করা।
এখন তোমার ইংরেজি ৮০% শেষ
বাকিটাও বলছি---
English for competive xm /ROOT বইটাও
পড়তে পড়ো। বিভিন্ন ভার্সটির প্রশ্ন বেশি দেখো এখান থেকে। এই বইতে বাংলায় গ্রামার রুল গুলো
খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
#সাধারণ_জ্ঞান
প্রথমে "হালদা B+D" থেকে প্রিভিয়াস প্রশ্ন তারপর "হালদা B+D" থেকে সা জ্ঞান সাজেশন অংশ দেখো। এখানে গুছিয়ে খুব সুন্দর করে সাজেশন দেওয়া আছে। এতে তোমার প্রস্তুতি ৬০% কম্পলিট হবে। বাকি ৪০% এর জন্যে mp3/zubayer GK যে কোন একটা অথবা দুইটাই মিলিয়ে পড়।সাথে
কারেন্ট এফেয়ারস,কম্পিটেন্ট, প্রিলি প্রশ্ন
গুলো শেষ কর।
এইভাবে যদি শেষ করতে পার,তবে ১০০% তুমি এই
দুই ইউনিটের যে কোন একটিতে চান্স পাবে।
কারো কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারো।
আরো অনেক কথা বলার ছিল,কিন্তু মোবাইলে
এত বড় পোস্ট সাপোর্ট করবেনা।
অন্যদিন বাকি কথা গুলো বলব।
শুধুমাত্র এটা বলছি,পাবলিকে যদি চান্স না পাও
জীবনট পুরাই তিতা হয়ে যাবে।জীবনের অর্থ
আর সংঙ্গা দুটাই হারিয়ে ফেলবে।
ভালো থেকো সবাই।
আল্লাহ হাফেজ

ALL UNIVERSITY CIRCULAR IN ONE -2018 UPDATE











 ALL UNIVERSITY ADMISSION CIRCULAR LINK IN YOUR HAND NOW

Please follow and grab the link

DOWNLOAD LINK:

https://tinyurl.com/y9pehk8u

মেকানিকাল- কি এবং কেন ??-পর্ব- ২!! যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরি বাজার😊

যন্ত্র প্রকৌশলীদের চাকরি বাজার😊
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা যন্ত্রকৌশল সাবজেক্ট পেয়েছে- এমন সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই যারা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিক্ষেত্র সম্পর্কে একদমই জানে না, তাদের একটু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে এ লেখায়।
এখানে কিছু কথা বলে রাখা প্রয়োজন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিক্ষেত্র এতটাই বিস্তৃত যে এই একটি পোস্টে সবকিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর সুযোগ থাকে না। তাই একদম বেসিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
প্রথমে কিছু মিথ দূর করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে কেন জানি লোকমুখে এটা প্রচলিত যে, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের নাকি কোনো চাকরি নেই। কিভাবে এই কিংবদন্তি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লো সেটা জানা নেই, তবে বাস্তব পরিস্থিতি একদমই এমন না। যারা এমনটা বলেন তারা হয়তো কোনরকম তথ্য-উপাত্ত না ঘেঁটেই এমন মনগড়া কথা বলেন।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় মিথ সম্পর্কে। অনেকেই বলবে মেকানিক্যালে নাকি পড়াশোনা বেশি করা লাগে। এটা কিছুটা সত্য। এর কারণ হচ্ছে মেকানিক্যালের পড়াশোনার ব্যাপ্তি অনেক বেশি। এই বিষয়ের ফিল্ড অফ ইন্টারেস্ট এত বেশি হবার জন্যই চাকরির বাজারে এর এত ভিন্নতা। তাই এমন সুযোগ পাওয়ার জন্য কষ্ট একটু বেশি করাই লাগবে, এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
অনেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর সরাসরি চাকরিতে ঢুকে যায়, আবার অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য যায়। আমরা আমাদের আলোচনার ব্যাপ্তি শুধু চাকরিক্ষেত্রের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবো।
আমাদের দেশে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চাকরিগুলোকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায় ।
১) সরকারি চাকরি
২) প্রাইভেট/বেসরকারি চাকরি
১) সরকারি চাকরি
এখনকার দিনে সদ্য পাসকৃত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের মাঝে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পেছনের কারণ হলো ভালো স্যালারি রেঞ্জ, চাকরি নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্মান। জাতীয় বেতন স্কেলের অষ্টম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মকর্তার মাসিক মূল বেতন হয় অনেকটা এরকম: (ছবিতে দেখুন)
সরকারি চাকরিকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) এবং অন্যটি হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট অথবা সরকারি মালিকানাধীন কলকারখানা অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি। এই চাকরিগুলোর ক্যারিয়ার সেফটি যথেষ্ট ভালো। তাই এসব চাকরিতে ঢুকে চাকরি শঙ্কায় পড়তে হয় না কখনই।
#সরকারি কোম্পানিসমূহ:
১. পেট্রোবাংলা এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
২. বিসিআইসি এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
৩. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
৪. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং এর সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহ
৫. বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প
৬. পল্লীবিদ্যুৎ
৭. বিটাক
৮. বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন
৯. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন
১০. ওয়াসা
১১. বাংলাদেশ রোড এন্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি
১২. বিএস টি আই
১৩. বি এ ডি সি এবং
১৪. বি সি এস সহ আরো কিছু জায়গাতে মেকানিক্যাল এর জব রয়েছে।
২) প্রাইভেট/বেসরকারি চাকরি
সরকারি চাকরিতে যাদের অনীহা তাদের মধ্যে বেসরকারি বা প্রাইভেট চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বড় অঙ্কের স্যালারির পাশাপাশি চাকচিক্যে ভরপুর অফিস, স্যুটেড-বুটেড কর্পোরেট লাইফ কে না চায়? সরকারি চাকরির মতো প্রাইভেট জব সেক্টরকেও দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথমটিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনস্থ চাকরি বলা যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় অথবা কোনো সংস্থার দ্বারা গড়ে ওঠে। অটোমোবাইল সেক্টরে রানার মোটর, উত্তরা মোটর, এসিআই মোটর, নিলয় মোটর, আফতাব অটোমোবাইল, রহিমা আফরোজ গ্লোব্যাট লিমিটেডের মতো বিভিন্ন কোম্পানি আছে। অটোমোবাইল ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এসব কোম্পানিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বেশ ভালো সুযোগ থাকে।
ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে বেক্সিমকো, স্কয়ার, রেনাটা, বেকন, একমি, রেডিয়েন্ট, ইনসেপ্টার মতো ভালো ভালো কোম্পানি রয়েছে, যারা প্রতিবছর অনেক ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়। সেই সাথে কিছু সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি, পাওয়ার প্ল্যান্টও আছে যেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নেওয়া হয়। এছাড়া টেক্সটাইল সেক্টর, আরএমজি (রেডি মেড গার্মেন্টস) সেক্টরে চাকরি করার সুযোগ অনেক। আবার হোম অ্যাপ্লায়েন্স নির্মাতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির বিরাট একটি ক্ষেত্র রয়েছে ।
                                                      #বেসরকারি কোম্পানিসমূহ:
১. পাওয়ার প্লান্ট
২. টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি
৩. গ্লাস ইন্ডাস্ট্রি
৪. সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি
৫. স্টীল এন্ড রি রোলিং মিল
৬. ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি
৭. অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি
৮. ইলেক্ট্রনিক প্রোডাক্ট ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রি
৯. ঔষধ কোম্পানি সহ আরো কিছু কোম্পানি রয়েছে।

দুই ভাগের দ্বিতীয়টিকে মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানি বলা যেতে পারে। মূলত যে কোম্পানিগুলোর পণ্যের বাজারের ব্যপ্তি পুরো বিশ্বজুড়ে থাকে, তাদেরই মাল্টিন্যাশনাল বা বহুজাতিক কোম্পানি বলা হয়ে থাকে। এই চাকরিগুলোও অনেক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। বহু আকাঙ্খিত কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হলো ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বাটা শু’জ, নেসলে বাংলাদেশ লিমিটেড, আরএকে পেইন্টস, বারজার পেইন্টস, শেভ্রন বাংলাদেশ ইত্যাদি।
#মাল্টিন্যাশনাল_কোম্পানীসমূহঃ-
১. কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (KAFCO)
২. বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্ট
৩. সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশ লিমিটেড
৪. কোটস বাংলাদেশ লিমিটেড
৫. লিনডে বাংলাদেশ
৬. বুরো ভেরিটাস
৭. নেসলে বাংলাদেশ
৮. ইউনিলিভার
৯. ক্রিশ এনার্জি
১০. ABB
১১. লাফার্জ হোলসিম
১২. বার্জার পেইন্ট
১৩. রেকিট বেনকিজার
১৪. গোদরেজ সহ আরো কয়েকটি ভাল মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি রয়েছে।
কারো শিক্ষক হবার ইচ্ছা থাকলে সেই ইচ্ছা পূরণের সুযোগও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সিজিপিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। বেশ ভালো সিজিপিএ ছাড়া বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতার জন্য আবেদন করা যায় না। এক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রথম সারির ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে ব্যাতিক্রমও লক্ষ্য করা যায়।
এছাড়াও নন-ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেও চাকরি করার সুযোগ রয়েছে। অনেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করে এমবিএ করে। একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সাথে এমবিএ’র কম্বিনেশনকে অনেকক্ষেত্রে বেশ ভালো রকম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যাংক সেক্টরে চাকরির সুযোগ থাকে অথবা বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান করে (যেটি আবার একটি সরকারি চাকরি) একজন ইঞ্জিনিয়ার হবার পাশাপাশি একজন মিলিটারি সদস্য হবার গৌরব অর্জন করা যায়।
আমাদের দেশে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ক্ষেত্র প্রায় এগুলোই। এর বাইরে যে থাকতে পারে না এমনটি নয়। তবে একদম প্রধান ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

#collected_and_edited

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০১৫

মেকানিকাল- কি এবং কেন ??-পর্ব- ১

এই পোস্টের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রী দের ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটা ফীল্ড সম্পর্কে ধারনা দেওয়া। সাথে সাথে অতীজ্ঞানী লোকদের মাঝে প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা দূর করা। প্রথমেই বলে রাখি এটা কোন সাবজেক্ট রিভিউ না । আমি প্রচলিত সাবজেক্ট রিভিউ এর পক্ষপাতি নই, কেননা প্রচলিত অধিকাংশ সাবজেক্ট রিভিউ তে ছাত্রছাত্রী দের প্রলোভন দেখানো হয় ,তারা যেটা চায় সেটিকেই আরো জাকজমক করে প্রকাশ করা হয় ।এখানে তেমন কিছু নাই। যেসব কারনে আমি নিজে মেকানিকাল এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে প্রাচীনতম সাবজেক্ট গুলার মধ্যে একটি। আর্কিমিডিস এর গবেষনা (287-212 BC) পশ্চিমাদের খুব গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং এর ই ফলস্বরুপ দুনিয়ার সবচেয়ে প্রথম Steam Engine টি আবিষ্কৃত হয়েছিল 10-70 AD এর দিকে । এটা ছিল একদম ই শুরুর দিকের কথা ।এখানে বলে রাখা ভাল- এই ইঞ্জিন থেকেই কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং শব্দের উৎপত্তি ।এরপর আর কোন কিছুই থেমে থাকেনি। এ সম্পর্কিত জ্ঞান যত ত্বরান্বিত হয়েছে, সভ্যতা তত ত্বরান্বিত হয়েছে । এই সাবজেক্ট এও সংযুক্ত হয়েছে(এবং হচ্ছে) বিভিন্ন বৈচিত্রময় জিনিস এবং ফলস্বরুপ এটি দিনদিন আরো অধিক স্বয়ংসম্পুর্ন হয়েছে।(এই অংশটুকুর দায় দায়িত্ব উইকিপেডিয়ার) এবার আসা যাক এতে কি কি পড়ানো হয় সেটা নিয়ে। মেকানিকাল এর কোর্স গুলো সম্পর্কে এক কথায় বা একটা ছকে বলা অনেকটাই কঠিন কেননা দিন দিন এ সাবজেক্ট রিলেটেড গবেষনা যেমন হয়েছে ,টপিক্স এর সংখ্যা এবং আয়তন ও ততো বৃদ্ধি পেয়েছে । পাঠদান, গবেষণা এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে এর অনেক শাখা ও তৈরি হয়েছে । তারপরেও মোটামুটি প্রচলিত যে চার্ট টা আছে তা তুলে ধরার
চেষ্টা করছি-
1. Robotics
2. Nuclear Engineering
3. Power Engineering
4. Advanced Energy Systems
5. Solar Engineering
6. Petroleum
7. Fluid Engineering
8. Heat Transfer
9. Aerospace & Automobile
10. Energy Conversion
11. Fuels & Combustion Technologies
12. Ocean, Offshore & Arctic Engineering
13. Environment & Transportation
14. Noise Control & Acoustics
15. Systems & Design
16. Fluid Power Systems & Technology
17. Engineering & Technology Management
18. Manufacturing Engineering
19. Pressure Vessels & Piping
20. Applied Mechanics ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি
খুব ভালমতই জানি, ৩-৪ টা পয়েন্ট ছাড়া অধিকাংশই বোঝার কথাও না  । তবে চিন্তার কিছু নাই, একটু ব্যাক্ষা দিলেই জিনিসগুলা খুব ভালমতই বুঝতে পারবে । যেহেতু উচ্চ শিক্ষার সাথে সাথে পরবর্তি জিবনের কর্মক্ষেত্র ও জড়িত। তাই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা পরবর্তিতে কি ধরনের কাজ করে সে সম্পর্কে ধারনা পেলেই পাঠ্য বিষয় গুলোর প্রয়োগ জানতে পারবে ,বিষয়গুলো সম্পর্কেও ধারনা
পরিষ্কার হবে।
যন্ত্রকৌশল এর বিভিন্ন ফীল্ড—
Basic Engineering
সংক্ষেপে বলতে গেলে এই বিশ্বে গতিশীল,স্থীতিশী
ল যত বস্তু এবং শক্তির যত রুপ আছে তার সবকিছুর সাথেই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোন না কোন ভাবে জড়িত।
Applied Mechanics
:
মেকানিক্স বা বলবিদ্যা প্রয়োগ করা যায়না এমন কোন বস্তু দুনিয়ায় নেই।ধাতু খন্ড ,শিলা, পানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল সিস্টেম যেমন- দালানকোঠা ,আটোমোবাইল এবং বিভিন্ন যন্ত্রেও এর প্রয়োগ রয়েছে।এই জিনিস গুলো কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে আরো ভাল কাজ করবে তা মেকানিক্স বা বলবিদ্যার মাধ্যমে ব্যাক্ষা করা যায়। এর প্রয়োগ বলে শেষ করা যাবেনা। আর একজন যন্ত্রকৌশলী কে
এর প্রয়োগ করতে হয় অসংখ্য ক্ষেত্রে।
Fluid Engineering:
এই পৃথিবীতে যত প্রবাহমান বস্তু আছে তার সার্বিক আলোচনা করা হয় এ শাখায়, যেমন- বাতাস ,পানি, তেল এমনকি বালু ও এর ভিতরেই পরে। বিভিন্ন ফ্লুইড মেশিন এবং সিস্টেম যেমন- পাম্প, টারবাইন, কম্প্রেসর, ভাল্ব, পাইপলাইন, হাইড্রোলিক সিস্টেম ইত্যাদি ডিজাইন মেকানিকাল এর এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।এজন্যে বিভিন্ন ফ্লুইড এর গতিবিধি এবং ধর্ম সম্পর্কে জানতে হয় ,বিভিন্ন ধর্ম নিয়ন্ত্রন করার পদ্ধতিও জানতে হয়। ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে এর বিভিন্ন প্রয়োগ ও সফলভাবে করতে হয় এবং এই ধরনের সব কাজ ই করে একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার।
Heat Transfer:
যে কোন শক্তির ব্যবহারেই তাপের উদ্ভব হতে পারে ।তাপের এই সঞ্চারন সংক্রান্ত যাবতীয় পড়াশুনা এখানেই। হাতে থাকা মোবাইল ফোন,ল্যাপটপ, এমনকি ক্ষুদ্র মাইক্রোকন্ট্রোলার থেকে শুরু করে বাস ট্রাক পর্যন্ত সব জায়গাতেই তাপের উদ্ভব হচ্ছে। যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য এই তাপের অপসারন করা প্রয়োজন, এবং একই সাথে তা পরিবেশ এবং যন্ত্রাংশের ক্ষতি রোধ করে সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতিতেই করতে হবে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স জিনিস্পত্র নির্মান কারী প্রতিষ্টানে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা কাজ করে থাকে। দালানকোঠা বা সুবিশাল স্থাপত্য এর ভেন্টিলেশন সিস্টেম ও এর ভিতরে পরে । সারা দুনিয়ায় মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা এই কাজগুলো করছে দক্ষতার সাথে ।
Energy Conversion & Resources
আমরা এমন এক দুনিয়ায় আছি যেখানে শক্তির উৎপাদন বিভিন্ন রুপে রুপান্তর ছাড়া আমরা অচল। শক্তির এই রুপান্তর নিয়ে যাবতীয় পড়াশুনা এই বিষয়ে। শক্তির রুপান্তরের জন্য লাগে বিভিন্ন সিস্টেম । উদাহরণস্বরূপ Internal Combustion
Engine, External Combustion Engine, Power
Plant, Gas Turbine , Steam Turbine, Solar
Panel ইত্যাদি আরো শত শত সিস্টেম এই শক্তি রুপান্তরের কাজ গুলো করে যাচ্ছে। এই সিস্টেম গুলার ডিজাইন ,উৎপাদন ,রক্ষণাবেক্ষন ,পরিচালনা এবং গবেষণার মাধ্যমে উত্তরোত্তর উন্নয়ন ইত্যাদি যাবতীয় কাজ করে থাকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রাই।এছাড়া বিভিন্ন শক্তির নতুন নতুন ব্যবহার উদ্ভাবন , বিভিন্ন সিস্টেম এর দক্ষতা এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত যাবতীয় গবেষনায় ও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা কাজ করে যাচ্ছে । বিশ্বের মজুদ কৃত তেল ও গ্যাস আর কয়েক শতকের ভিতরেই শেষ হয়ে যাবে। তাই বিকল্প জ্বালানীর উদ্ভাবন ও প্রয়োগ যে কতটা প্রয়োজনীয় তা এখান থেকেই বোঝা যায়। মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ভুমিকা এক্ষেত্রে কতখানি তা ও বোঝা যায়।
Transportation
Transportation এর বিস্তৃতি মোটামুটি সবার ই জানা ।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল-
* Aerospace & Aerodynamics
* Rail Transportation
*Marine Engineering
একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার চাইলেই উপরোক্ত যে কোন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করে ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
Environmental Engineering :
Noise Control & Acoustics , Solid Waste Processing ইত্যাদি আরো অনেক কিছু এর অন্তর্গত। এ সাইডে
ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে অসংখ্য মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার এর।যেখানেই যন্ত্র আছে ,সেখানেই শক্তির বিভিন্ন রুপান্তর ঘটছে। আছে Vibration & Pollution
ইত্যাদি অনাকাংখিত জিনিস।যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলো দূর করাও অনেক বড় বড় ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ।আবার চকলেট বা চিপস খেয়ে মোড়ক টা আমরা ফেলে দেই। এভাবে চলতে থাকলে তো শুধু চকলেট আর চিপস এর মোড়ক দিয়েই পরিবেশ দূষীত হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা কি হচ্ছে?কখনোই না। ফেলে দেওয়া এই মোড়ক টিই প্রক্রিয়াজাত করনের মাধ্যমে নতুন কোন জিনিস বা শক্তি তে রুপান্তরিত হচ্ছে। চকলেট-চিপস এর মোড়ক জাস্ট একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম। বিশ্বে যত কঠিন বর্জ্য পদার্থ আছে তার সবকিছু রিসাইকেল করার পিছনেই আছে বিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। আর এ কাজগুলো করছে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রাই।
Engineering Technology & Manufacturing
বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে। সেটা ইন্ডিয়ান TATA এর মত গাড়ি নির্মান কারী প্রতিষ্ঠান ই হোক, বা বাংলাদেশের প্লাস্টিক নির্মান কারী RFL এর মত প্রতিষ্ঠান ই হোক । Product designing,
Material selection, Process ইত্যাদি চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো এরাই করে। কাজগুলো যথেষ্ঠ সৃজনশীল এবং চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে হয়। এমনকি যে মেশিন গুলো নতুন করে মেশিন বা প্রোডাক্ট তৈরি করছে সেগুলোও ডিজাইন এবং রক্ষনাবেক্ষন এর কাজ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রাই করে থাকে। মাইক্রোকন্ট্রোলার,প্রসেসর,ডায়োড,ট্রানজিস্টর ,মোবাইল,ল্যাপটপ সহ সারা বিশ্বে যত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি নির্মান কারি প্রতিষ্ঠান আছে,সেখানে এগুলো উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক জটিল মেশিন ।এগুলোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন এর জন্যও মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার অপরিহার্য । যেখানেই ইন্ডাস্ট্রি আছে ,সেখানে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার লাগবেই। যেখানেই ইউটিলিটি প্ল্যান্ট আছে সেখানেই যন্ত্রকৌশলী দের কাজের সুযোগ আছে। এছাড়াও Materials Handling, Plant Engineering & Maintenance এর মত চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোও এরাই করে থাকে।
System Designing:
একটা সিস্টেম এর অন্তর্গত বিভিন্ন কাজ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার রা করে থাকে। এসব কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য
কয়েকটি হল- * Dynamic Systems & Control: Where there is
a movement there must be a control… গতিশীল যে কোন সিস্টেম বা যন্ত্রের যাবতীয় ক্রিয়াকলাপ মেকানিকাল এর ই অন্তর্গত। গতিশীল বস্তুটি সিডি বা ডিভিডি ড্রাইভ এর ভিতরে ঘুর্নায়মান ডিস্ক বা মহাশুন্যে প্রেরিত কোন গতিশীল কৃত্রিম উপগ্রহ যে কোনটিই হতে  পারে। চলমান বস্তুর ঘর্ষণ প্রতিরোধ , তাপ নিঃস্বরন ,ঘুর্নায়মান বস্তুর Centre of Gravity ঠিক রাখা ইত্যাদি বিভিন্ন
কাজে মেকানিকাল এর বিভিন্ন জ্ঞান প্রয়োগ করতে হয়। * Fluid Power Systems & Technology : ধর তোমাকে একটি স্পেসশীপ এর জ্বালানী নির্ধারন এবং ব্যাবহার এর সার্বিক দিক ডিজাইন করতে বলা হল। তুমি অবশ্যই জ্বালানী হিসেবে পেট্রোল ব্যাবহার করবে না । স্পেসশীপ এর জড়তা এবং গতির দিকে নজর রেখেই তোমাকে উপযুক্ত জ্বালানী নির্ধারন করতে হবে ।অনেকসময় একাধিক জ্বালানীর মিশ্রন ও ব্যাবহার করা লাগতে পারে ।আবার সব সময় জ্বালানীর ব্যাবহার ও সমান থাকবে না, কেননা অভিকর্ষ বল ও সমান থাকবেনা সর্বত্র । এখানে স্পেসশীপ শুধুমাত্র  একটা উদাহরন হিসেবে তুলে ধরলাম। সারা বিশ্বে যত জায়গায় যত তরল জ্বালানী ব্যাবহৃত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে তার সবকিছুই নির্ধারন করতে হয় মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ই ।রয়েছে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ ও।
Nuclear Engineering
যে কোন পারমাণবিক স্থাপনাই এক একটি Heavy Industry. এসব ক্ষেত্রে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের Huge কর্মক্ষেত্র রয়েছে।
Pressure Vessels & Piping:
সমুদ্রের নীচের উচ্চ চাপ উপেক্ষা করে হাজার ফুট গভীরতা থেকে তেল,গ্যাস,খনিজ উত্তোলন নিশ্চই সহজ কোন কাজ নয়। আবার সহস্র মাইল পাইপলাইন এর মাধ্যমে তেল গ্যাস বিভিন্ন দেশে সরবরাহ ও হচ্ছে। হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ এ সফল হওয়ার পরেই তা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প ও কল কারখানায় ও High Pressure vessels ,Pipelines স্থাপন ও খুব সতর্কতার সাথেই রক্ষনাবেক্ষন করা প্রয়োজন হয়। সারা বিশ্বে তেল গ্যাস খনিজ উত্তোলন এবং আমদানী রপ্তানীর পিছে শত শত কোম্পানী আছে। এই ধরনের ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
Designing:
ডিজাইনিং সম্পর্কে নতুন করে বলবার মত কিছু নেই । ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভাষাই হল ডিজাইনিং। ডিজাইন যে কোন জিনিসের ই হতে পারে ।ক্ষুদ্র যন্ত্র বা যন্ত্রের কোন অংশের ও হতে পারে ,আবার বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বরগিনির কোন গাড়ির মডেল ডিজাইনিং ও
হতে পারে। মানুষের কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার একটা  উল্লেখযোগ্য মাধম হল এই ডিজাইনিং।পুরান যুগের গাড়িগুলো কি আর দেখা যায়?কখনোই না। ১০ বছর আগে কি মাউন্টেইন বাইসাইকেল বা রোড বাইক ছিল ?কখনোই না।এই পরিবর্তনগুলো করছে ডিজাইনার রাই।এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এইটা তো জাস্ট আকাআকি ,তেমন আর কি,মেকানিকাল না পড়েও তো করা যায় !কিন্তু জিনিসটা শুধুই আকাআকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না। ইচ্ছামত একটি ডিজাইন করলেই সেটা গ্রহনযোগ্যতা পাবেনা। এখানে ডিজাইন এর সাথে মিলবন্ধন ঘটতে হবে Dynamics আর Mechanics এর ও। নতুন করা ডিজাইন টি পুর্বের ডিজাইন এর চেয়ে উন্নত তর হতে হবে ,তবেই তা মানুষের গ্রহনযোগ্যতা পাবে। ডিজাইনার রা কখনোই তাদের ডিজাইনে সন্তুষ্ট নয়। আজকে তারা যে ডিজাইনটি করে বিশ্ব রেকর্ড করছে, কালকে তাদের রেকর্ড তারাই ব্রেক করছে পুর্বের চেয়ে উন্নত ডিজাইন করে।দুনিয়ার রুপ এভাবেই পাল্টেছে ডিজাইনার দের কারনেই। সাইকেল আর গাড়ী জাস্ট দুটি উদাহরণ, পানি পান করার গ্লাস টি থেকে আকাশে উড্ডয়মান বিমান সবকিছুর পেছনেই কাজ করছে লক্ষ লক্ষ ডিজাইনার। ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার স্বর্নসুযোগ রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর এই শাখায়।
Robotics
মেকানিক্যাল এর অন্যতম জনপ্রিয় টপিক্স হল রোবটিক্স।যা একইসাথে ইলেক্ট্রনিক্স, প্রোগ্রামিং এবং মেকানিকাল এর সমন্বয়। অর্থাৎ ইলেকট্রনিক্স এবং প্রোগ্রামিং এর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ মেকানিকাল এর অন্তর্গত , এবং রোবটিক্স ছাড়াও মেকানিক্যাল এ এদের আরো প্রয়োগ আছে। বাংলাদেশে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং: Already বুঝে গেছ মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের ক্ষেত্র কোন কোন জায়গায় ।এবার বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইডে খেয়াল করলেই মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার দের কর্মক্ষেত্র তুমি নিজেই বের করতে পারবে ।উচ্চতর গবেষনার সুযোগ তো থাকছেই।এরপরেও যদি কেউ বলে মেকানিকাল এর জব ফীল্ড
কম,তার জন্য সমবেদনা ।আর স্যালারী ??সেটা না হয় না ই বললাম…..
এখানেই শেষ নয়। একজন যন্ত্রকৌশলীর আরো অনেক বিচিত্র ও চ্যালেঞ্জিং কাজের সেক্টর আছে।প্রতিটা ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। যন্ত্রকৌশলি দের জব ফীল্ড এর খুব সামান্য অংশই উপরে তুলে ধরা হয়েছে। ০ ডিগ্রী থেকে শুরু করে শুরু করে ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে আসলেও এর শেষ হবেনা।ইঞ্জিনিয়ারিং বা বাস্তব জীবন যেটাই হোক প্রতিটা ক্ষেত্রে কোন না কোন ভাবে মেকানিকাল এর প্রয়োগ খুজে পাবেই।
মেকানিকাল যাদের পড়া উচিৎ:
এবার আসা যাক আর্টিকেল এর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন অংশ, মেকানিকাল কাদের পড়া উচিৎ সেটা নিয়ে । আমি এতক্ষন অনেক ভাল ভাল কথা বললাম, আর তুমি মেকানিকাল কে নিজের সাবজেক্ট হিসেবে চয়েজ করে ফেলবে সেটা কখনোই ঠিক না। প্রথমেই নিজে বুঝার চেষ্টা কর মেকানিকাল এর উপরোক্ত টপিক্স গুলা আসলেই তোমার ভাল লাগে কিনা । যদি ইন্টারেস্ট ফীল কর তবেই আসা উচিৎ , নতুবা নয় । মেকানিকাল কে এককথায় বলা যায় ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে স্মার্ট সাবজেক্ট। কিন্তু প্রলোভন এর তাড়নায় বা স্মার্টনেস দেখানোর মানসিকতা নিয়ে যদি মেকানিকাল চয়েজ কেউ কর ,তাহলে সেটা হবে বিশাল একটা ভুল ।প্যাশন টা কে প্যাশন এর মতই রাখতে হবে সেটাকে ফয়াশন বানানো যাবে না, অন্তত মেকানিকাল এর জন্য না ।তুমি মেকানিকাল পড়লেই নাসায় চাকরী পেয়ে যাবা ,বা বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি তে তোমাকে ডেকে নিয়ে উচ্চ বেতনের চাকরী দিবে এমন ভাবা একদম বোকামি ছাড়া কিছু না। তোমাকে আগে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে , নিজের দক্ষতা কে চূড়ান্ত পর্্যায়ে আগে নিয়ে যেতে হবে । এছাড়া রয়েছে উচ্চতর গবেষনার বিশাল একটা ফীল্ড । তোমার যদি গবেষনা ধর্মি কাজ গুলো ভাল লাগে, তাহলে মেকানিকাল কে তোমার জন্য One of the perfect Subject মনে করতে পার। এখানেই শেষ না ,আরো অনেক কথা আছে ।মেকানিকাল পড়লে তোমাকে শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত এমন অনেক বিচিত্র প্রবলেম এর সঅলিউশন বের করা লাগতে পারে যে প্রবলেম দুনিয়ার কোন লোক আগে কখনো ফেস করেনাই ।প্রবলেম গুলো শুধু টেকনিক্যাল তা কিন্তু না, ম্যাথমেটিকাল ও এনালিটিক্যাল এর মিশ্রন ও থাকে।সোজা সাপটা কথা হচ্ছে ,প্রবলেম এর কোন সংজ্ঞা হয় না, যে কোন ধরনের প্রবলেম ই হতে পারে। প্রবলেম সলভিং এর দক্ষতা এবং নতুন কিছু করার মানষিকতা যত বাড়বে একজন মেকানিকালের ছাত্র/কর্মজীবি তত ভাল করতে পারবে। অনেক খারাপ পরিস্থিতির ও মোকাবিলা করা লাগতে পারে কর্মজীবনে
।এমন খারাপ পরিস্থিতে যাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে ভাল কাজ করবে, মূলত তাদের জন্যই মেকানিকাল..... এত বড় লেখা বা এত বেশি পাঠ্য টপিক্স দেখে ভয়ের কিছু নেই,মেকানিকাল ফীল্ড টা আরো বিশাল ,লেখা ছোট হবে কিভাবে ।সবার জন্য শুভকামনা এবং যন্ত্রকৌশল এর উত্তাল সাগরে স্বাগতম.. এতখন যা বললাম , তার গ্রহনযোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতেও আমি বাধ্য । পুরো আর্টিকেল টি লিখতে কিছু দেশি এবং বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েবসাইট এর সাহায্য নিয়েছি ।সাথে উইকিপেডিয়া তো আছেই ।উল্লেখযোগ্য কয়েকটির লিংক নিম্নরূপ



রবিবার, ৭ জুন, ২০১৫

এইচএসসি ফল প্রকাশ(ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনার উপযুক্ত সময় এখনই)

আমার এক পরিচিত ব্যাংকারের কথা বলি। একানব্বই সাল। তখন, আজকের এই জিপিএ সিস্টেম ছিল না। ভদ্রলোক মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে বিজ্ঞানবিভাগে মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হলেন। বাসার সবাই খুশি। মা ভেবে রাখলেন ছেলেকে ডাক্তারী পড়াবেন। আর বাবা চায় ইন্জিনিয়ার অথবা তার মতই বিসিএস অফিসার। গোল বাধলো ছেলেকে নিয়ে। ছেলে যে কি চায়, সে নিজেই নিশ্চিত নয়। তবে হ্যাঁ, ছেলের ক্যাডেট কলেজের কয়েক বন্ধু ঠিক করলো, তারা ‘মেরিন’এ পড়বে। আর এর মধ্যে যে পালের গোদা তার যুক্তিও ছিল অকাট্য - মোটা মাইনের চাকরি, বিনা পয়সায় দেশ-বিদেশ ঘুরতে পারা, বাজার করার ঝামেলা নেই, বাড়তি কোন খরচও নেই, দৈনন্দিন জীবনের ফাইফরমাইশ থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে। আর কি চাই! যেহেতু, মেরিন একাডেমীতে ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষা অন্যান্য সকল পরীক্ষার আগেই হয়ে যায়, ভদ্রলোক মেডিক্যাল, বুয়েট অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন টেস্ট দেয়ার কোন সুযোগই পেলেন না। যথারীতি লিখিত পরীক্ষায় পাশের পরে মৌখিক আর মেডিক্যাল টেস্টের জন্য ডাক পেলেন। মৌখিক পরীক্ষা ভালই হলো। মেডিক্যাল টেস্ট নিয়ে কিছুটা টেনশন- কেননা উনি তখনই চশমা ব্যবহার করতেন । আর মেরিন-এ চোখের পাওয়ার পারফেক্ট হওয়া চাই। তবে, উনি যেহেতু, ‘প্রকৌশল’ বিভাগের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন; কাজেই চশমার সামান্য পাওয়ার তার জন্য কোন বাধা হয়ে দাঁড়ালো না। ফাইনাল রেজাল্ট বের হলো। সিলেক্টেড । ছেলে খুব খুশি। মা পড়লেন বেজায় দোটানায় - এমন ‘প্রফেশন’ যার নাম শুনেছেন কিন্তু প্রফেশনাল কারোর সাথে মা’র কোন পরিচয় নেই। আর এদিকে, ক্যাডেট কলেজের যে বন্ধুর পরামর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ভদ্রলোক তার ‘ক্যারিয়ার ডিসিশন’ নিয়েছেন, সে কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার দিন অনুপস্থিত ছিল - কেননা ঐ একই দিনে তার ছিল আর্মি এডমিশন টেস্ট - আইএসএসবি।
যাহোক, ভদ্রলোকের মা’র কথায় আসি। নিজের ছেলে বলে কথা! অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে উনি তাঁর কলেজের ( মা ছিলেন সরকারী কলেজের শিক্ষয়িত্রী ) এক সহকর্মীর বাসার ঠিকানা যোগাড় করলেন। তাঁর সেই সহকর্মীর বড় ছেলে জাহাজের চীফ ইন্জিনিয়ার - এই মুর্হূতে সমুদ্রে। তাতে কি? তর সইছে না। উনি সেই চীফ ইন্জিনিয়ারের মা’র সাথে কথা বললেন। ঐ মার কাছ থেকে আরেক ক্যাপ্টেনের বাসার ঠিকানা নিলেন। প্রফেশন’টা সম্পর্কে জানার জন্য। সবাই প্রায় একই পরামর্শ দিলেন - যদিও ‘মেরিন’ প্রফেশনটা একটু একঘেঁয়ে বা মোনোটনাস, কিন্তু অনেক দেশ দেখা যায়, মাইনেটাও ভাল । আর যেহেতু, ক্যাডেট কলেজের ছাত্র, সে খাপ খাওয়াতে পারবে। ভদ্রলোকের মা নিজেকে বোঝালেন এবং ছেলের ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলেন।
এরপরের ঘটনাও খুব সহজ। দুই বছর একাডেমীতে পড়ার পর; ভদ্রলোক যথারীতি জাহাজে যোগ দিলেন। একবছর চাকরী - বন্দরে বন্দরে। জাহাজের বদ্ধ জীবন, নাবিককে অধৈর্য্য করে তুললো। উনি একটা জিআরই (GRE) বই কিনেছিলেন। ঐ বই থেকেই ইংরেজী ভকেবুলারী পড়তেন, ইনজিন রুমে। একটা ছোট নোটবুক ভরে ফেলেছিলেন নতুন শব্দ টুকে। নভেম্বর মাসে ছুটিতে বাড়ী এলেন। ডিসেম্বর মাসে আইবিএ-তে এমবিএ ভর্তি পরীক্ষা। এমবিএ কমপ্লিট করে আজ উনি ব্যাংকার। এখনও উনি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন তার সেই তেল-মবিল মাখা ছোট নোটবুকটা।
আমাদের দেশে এরকম উদাহরন ভুরি ভুরি - যারা জীবনের মাঝপথে এসে ক্যারিয়ারের গতিপথ পরিবর্তন করেছেন। এমবিবিএস বা ইন্জিনিয়ারিং পাশ করে বিসিএস পুলিশ বা এডমিনিস্ট্রেশন (মেজিস্ট্রেট) ক্যাডারে যোগ দিচ্ছেন। আবার সাধারন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করার পরে, আইটি সেক্টরে ঢুকছেন। আমি বলছি না যে, এক্ষেত্রে তাঁর পড়াশুনা বৃথা যাচ্ছে। কেননা, জীবনের কোন পড়াশুনা বা অভিজ্ঞতাই বৃথা যাবার নয়। তবে, আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনই খুব স্বল্প সময়ের জন্য। আর তাই জীবনের লক্ষ্য স্থির করা এবং কম দরকারি ব্যাপারগুলি সময় থাকতেই ঝেড়ে ফেলা অতিব গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের দেশে পড়াশুনা শেষ করে নিজের পছন্দ আর যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ অতি সীমিত; কাজেই ব্যক্তিগত পছন্দের সাথে কতগুলি বিষয়কে বিবেচনায় আনাটা অতি জরুরী। আর যেহেতু এইচএসসি’র পরেই একজন পরিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিষয় নির্বাচন করে থাকে, কাজেই বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তা করার সময় এখনই। আমাদের দেশে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত কর্মপন্থার অনেকটাই নির্ভর করে তার বাবা-মা অথবা অপরাপর কোন অভিভাবকের সিদ্ধান্তের অথবা পছন্দের উপর। কাজেই, এইচএসসি’র পরের আজকের এই গ্রাউন্ডওয়ার্ক শিক্ষার্থী আর অভিভাবক যদি মিলিত প্রয়াসে করতে পারে, তবে তা হবে অধিকতর ফলদায়ক।
উচ্চতর পড়াশুনায় ভর্তি হবার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যে বিষয়গুলি বিবেচনায় আনা দরকার তাহলো - # শিক্ষার্থীর মেধা, # বিষয় বা সাবজেক্টের প্রতি ব্যক্তিগত ঝোঁক, # বিষয় বা সাবজেক্টের প্রায়োগিক প্রয়োগ, # বিষয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ( Admission ) অনিশ্চয়তা # পড়াশুনা চালিয়ে যাবার আর্থিক সামর্থ্য, # বর্তমান এবং ভবিষ্যত কর্মেক্ষেত্র বিষয়ভিত্তিক চাকুরী প্রাপ্তির সম্ভাবনা । এগুলির সাথে আরো একটি ব্যাপারকে বিবেচনায় আনাটা জরুরী বলে আমি মনে করি। সেটা হলো বিদেশে চাকুরী করার অথবা সেটেল্ড করার
মানসিকতা এবং তদানুযায়ী বিষয় নির্বাচন।
মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাথমিক সমস্যা ‘বিষয়’ নির্বাচন - যেটা আমরা লেখার শুরুতে দেখলাম। যেহেতু তার ক্ষেত্রে বিষয় অনুযায়ী ভর্তি হওয়াটা তেমন কোন সমস্যা হয় না; অনেকগুলি বিষয়ে এবং অনেকগুলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে তারা দোটনায় ভোগে। স্থির করতে পারে না কোন বিষয়টিকে তার প্রাধান্য দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীর প্রয়োজন নিজের ‘ইচ্ছা’র সাথে ভবিষ্যত চাকুরীকে বিবেচনায় আনা। আজকের বিষয় নির্বাচন ভবিষ্যতে আমাকে যে ধরনের চাকুরীর সুযোগ করে দিতে পারে, তার সম্পর্কে কিছুটা জেনে রাখা ভাল। যারা ঐ ধরনের চাকুরীতে নিয়োজিত তাদের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে। রিলেটেড চাকুরীজীবির সাথে আলোচনা করলে, সহজেই সংশ্লিষ্ট চাকুরীরতে কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের পরিধি সম্বন্ধে একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আমি ‘অংক’-এ ভাল এবং ভাল নম্বরও পেয়েছি; কিন্তু, গাদা গাদা যোগ, বিয়োগ করতে আমার অস্হির লাগে। তাহলেতো আমার ‘হিসাববিজ্ঞানে’ ( Accounting ) ভর্তি না হওয়াটাই শ্রেয়। কেননা, যেকোন প্রতিষ্ঠানের একাউন্টেন্ট হলে তো আমাকে সেই হিসাবই করতে হবে প্রাথমিক পর্যায়ে। আমি অংকে যেমন ভাল, আমার স্মৃতিশক্তি মন্দ নয় এবং আমি মানুষের সাথে মিশতেও পছন্দ করি - তাহলেতো আমি একজন দক্ষ ব্যাংকার হতে পারি! আবার, আমার রেজাল্ট খুব আহামরি কিছু না হলেও, আমার স্মরণশক্তি ভাল এবং আমি কিছুটা মিশুক প্রকৃতির। এরকম ক্ষেত্রে ‘কাস্টমার সার্ভিস’, ‘পাবলিক রিলেশন’-এর কাজ আমার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। এভাবেই প্রায়োগিক পদ্ধতিতে নিজেকে স্থাপন করতে হবে ভবিষ্যতের কর্মেক্ষত্রে । এবং সে অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করাটা জরুরী।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছাত্র-ছাত্রীরা যে বিষয়টিকে জানতে বা পড়তে পছন্দ করে সেটাকেই ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নেয়। শিক্ষাজীবন শেষে তার ক্যারিয়ারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। কেননা, সেই বিষয়ের ব্যাবহারিক প্রয়োগ সীমিত। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের চাকুরীর বাজার অত্যন্ত সীমিত। আর্থিক সার্মথ্য সীমিত হলে, বিষয় নির্বাচনের ব্যাপারে সর্তক হওয়া প্রয়োজন। আমার দেশ-বিদেশের ইতিহাস পড়তে ভাল লাগে। কিন্তু, আমাদের দেশে কি ‘ইতিহাস’ বিষয়ে গবেষণা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে? উত্তর হলো ‘না’। কাজেই, যে শিক্ষার্থী অনার্স এবং মাস্টার্স ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করলো, পাশ করে বের হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন কলেজের অধ্যাপকের চাকুরী না পেলে তাকে অন্যকোন ‘জেনারেল’ লাইনে যেতে হবে। এক্ষেত্রে তার চার বা পাঁচ বছরের পড়াশুনাটা, চাকুরী ক্ষেত্রে তেমন কোন কাজেই আসবে না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এরকম আরও কিছু উদাহরণ দেয়া যেতে পারে - বাংলা, ভাষাতত্ত ¡ , দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আর্কিওলজি, মনোবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস প্রভৃতি। আর্থিক সার্মথ্যকে সমন্বয় করে এইসব সাবজেক্ট সিলেক্ট করাটা শিক্ষার্থীর জন্য জরুরী। আমি অবশ্যই এই সাবজেক্ট পছন্দের ব্যাপারে কোন নেতিবাচক মূল্যায়ণ করছি না। কিন্তু, কেউ যদি গবেষণাকর্ম আর অধ্যাপণার বাইরে ব্যাবহারিক অথবা ফলিত বিষয়ে নিজের ক্যারিয়ার তৈরী করতে চায়, তাহলে তাকে সে অনুযায়ী বিষয় নির্বাচন করতে হবে।
আমাদের দেশের বেশীরভাগ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের নিকট উচ্চমাধ্যমিকের পরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারী কলেজ এখনও প্রথম পছন্দ। কাজেই ভর্তিযুদ্ধে বেশীরভাগ শিক্ষার্থীর টার্গেট থাকে নিজের পছন্দের বিষয়ে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থান করে নেওয়া। কিন্তু আসন সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত হবার কারনে অনেক শিক্ষার্থীই তার পছন্দমত সাবজেক্টে ভর্তি হতে পারে না । ফলে, ইয়ার লস দিয়ে তারা সাবজেক্ট এবং প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়। কাজেই, ভর্তির ব্যাপারে এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, সীমিত সুযোগের এই দেশে শিক্ষার্থীর মানসিক দৃঢ়তা, নিজের মেধাগত অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আর ভবিষ্যতকে দেখতে পারার মতাই কেবল এই বহুমুখী টানপোড়েনের অবস্থা থেকে সুন্দরভাবে উত্তরণে সহায়ক হতে পারে।
যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক সার্মথ্য সীমিত এবং কর্মেক্ষত্রে দ্রত প্রবেশ করাটা জরুরী, তাদেরকে বিষয় নির্বাচন করতে হবে সতর্কতার সাথে। এক্ষেত্রে প্রথমেই আসে ‘আইএসএসবি’ এবং ‘মেরিন একাডেমী’। সংবাদপত্রে সার্কুলারের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলি ভর্তিপরীক্ষা নিয়ে থাকে । ‘আইএসএসবি’র মাধ্যমে দেশের ৩টি সশস্ত্র বাহিনীতে অফিসার নিয়োগ করে। অপরদিকে মেরিনে আছে দুইটি বিভাগ - ‘ইন্জিনিয়ারিং’ আর ‘নটিক্যাল’। প্রথমটি তৈরী করে জাহাজের চিফ ইন্জিনিয়ার বা প্রধান প্রকৌশলী আর পরেরটি তৈরী করে ক্যাপ্টেন। তবে মনে রাখা দরকার এই চাকুরীগুলি আর দশটা সাধারণ প্রফেশনের মতো নয়।
বর্তমান যুগ বানিজ্যের যুগ। আর বানিজ্য যতদিন থাকবে, অর্থনীতি, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় প্রশাসন, ব্যাংকিং প্রভৃতি বিষয়ের চাহিদা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকবে। যারা বিভিন্ন বানিজ্যিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী অথবা কিছুদিন চাকুরী করে নিজেই কোন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখে; তারা এই বিষয়গুলি বিবেচনায় আনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে সেশনজ্যাম না থাকলে, এই বিষয়ে অনার্স বা মাস্টার্স করেও মোটামুটি দ্রুত একটি চাকুরী পাওয়া যেতে পারে।
আমাদের দেশে বিসিএস-এর চাকুরীর মর্যাদা এখনও মানুষের মনে অনেক উপরে। অনেক শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে নিজেকে বিসিএস অফিসার হিসাবে দেখতে পছন্দ করে। যাদের টার্গেট বিসিএস, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকুরী তারা বিসিএসভুক্ত সাধারণ কোন বিষয় উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নিতে পারে। এক্ষেত্রে, সাবজেক্টিভের তুলনায় অবজেক্টিভ বিষয় নির্বাচন বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কেননা, এইসব সাবজেক্টের পরীক্ষায় নন্বর বেশী তোলা যায়। এরমধ্যে অনেক বিষয়ই বিসিএস-এর বাইরেও শিক্ষকতা অথবা উন্নয়নমূলক অথবা গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কাজে আসতে পারে যেমন - ইংরেজী, বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, গনিত, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, মনোবিজ্ঞান, ভূগোল, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান। এক্ষেত্রে একটি ব্যাপার উল্লেখ করা দরকার যে, সভ্যতা আর বানিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে ‘ইংরেজী’র প্রয়োজনীয়তা উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে । বাংলাদেশও এই প্রবণতার বাইরে নয়। দেশে ভাল ইংরেজী জানা একজন শিক্ষকের প্রয়োজনীয়তা যে কতটুকু তা পাবলিক পরীক্ষাগুলিতে ‘ইংরেজী’ বিষয়ে ফলাফল থেকেই সহজে উপলব্ধি করা যায়।
একটা সময় ছিল, যখন মা-বাবারা তাঁদের মেধাবী সন্তানকে ভবিষ্যতে ‘ডাক্তার’ অথবা ‘ইন্জিনিয়ার’ হিসাবে দেখতে পছন্দ করতেন। ব্যবসা-বানিজ্যের প্রসারে কি এইদুটি বিষয়ের মূল্যায়ণ কমে গিয়েছে? উত্তর হলো মোটেও না। তবে, ইন্জিনিয়ারিং-এর বেশ কিছু নতুন শাখার বিস্তার হয়েছে এবং একটির তুলনায় আরেকটি শাখার ( Department ) গুরুত্বের তারতম্য হয়েছে। ইন্জিনিয়ারিং অথবা বিজ্ঞান-এর নতুন যে বিষয়গুলি আজকাল বেশী চাকুরীর ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে তাহলো - কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিং, লেদার টেকনোলজি, টেলিকমিউনিকেশন, কমিউনিকেশন টেকনোলজি, সিরামিক টেকনোলজি, আরবান (নগর উন্নয়ন) ম্যানেজমেন্ট, জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কৃষিবিজ্ঞান প্রভৃতি। এছাড়া ইন্জিনিয়ারিং-এর সনাতন কিছু বিষয়ের চাহিদা এখনও অটুট রয়েছে। তার মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স, সিভিল, মেকানিক্যাল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। যে যে সেক্টরে এইসব বিষয়ের চাহিদা প্রচুর তা একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। প্রধান সেক্টরগুলি হলো - গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল, টেলিফোন অপারেটর, টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি, সিরামিক ইন্ডাষ্ট্রী, ওষুধ শিল্প, পাওয়ার (বিদ্যুত) সেক্টর, রিয়াল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ( Infrastructure like Bridge, Culvert, Roads & Highways ) । আর আমাদের দেশের সাধারন মানূষের জন্য চিকিত্সক আর চিকিত্সা সেবা এতটাই অপ্রতুল যে, একজন চিকিত্সক এমবিবিএস পাশ করার পরেই যেকোন ফার্মেসীতে বসে চিকিত্সা সেবা প্রদান করতে পারে। এখানে আরও একটি ব্যাপার উল্লেখযোগ্য যে, বাইরের দেশেও ইন্জিনিয়ার বা ডাক্তারের চাহিদা প্রচুর। যারা ভবিষ্যতে অষ্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডাতে চাকুরী করতে চায়, তাদের জন্য এই প্রফেশন দুটি যথেষ্টই সহায়ক হবে।
আরও কিছু সাবজেক্ট, যা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট চাহিদার সৃষ্টি করছে এবং সামনের দিনগুলিতেও করবে তার দিকে লক্ষ্য করা যেতে পারে। হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, গনমাধ্যম ও সাংবাদিকতা ( Mass media & Journalism ), ফিল্ড এন্ড আ্যনিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং প্রভৃতি অন্যতম। অনেকেই আজকাল এগুলির মধ্যে নিজের ঝোঁক অনুযায়ী কোন একটি সাবজেক্ট নিযে পড়াশুনা শেষ করে নিজেই কোন ফার্ম দিয়ে বসছেন। এছাড়া আইন বিষয়ে পড়াশুনা শেষেও চাকুরীর পাশাপাশি পেশাগত চর্চা চালিয়ে যাওয়া যায়।
আজকাল বাহারী নামে নতুন নতুন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ স্থাপিত হচ্ছে। এদের কয়েকটির মান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকলেও, দু’একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ছেলেমেয়ে বের হচ্ছে। চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানগুলিও এদের মধ্য থেকে ভবিষ্যত এক্সিকিউটিভ গড়ে নিচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও এসব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়নে যথেষ্ট আন্তরিক । সময় থাকতেই এসব কোর্স কারিকুলাম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা এবং নিজের পছন্দ, মেধা আর আর্থিক সার্মথ্য অনুযায়ী সাবজেক্ট চয়েস করার চেষ্টা করা শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরী।
পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই, আমাদের দেশ একটি জনবহুল দেশ। আপাত: দৃষ্টিতে মনে হতে পারে এত লোকের কর্মসংস্থান আমাদের মত গরীব দেশের জন্য শুধু দুষ্করই নয় অসম্ভবও বটে। এই মতামতের সাথে দ্বিধা প্রকাশ না করেও যে কথাটি জোর গলায় বলতে চাই তাহলো, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি মোটা অংকের মাইনে দিয়েও যোগ্য কর্মী পাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলি হয় বাইরে থেকে লোক আনছে অথবা, একে ওকে দিয়ে ঠেকা দিয়ে কোনরকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।
আজ, এইচএসসি পাশের পরে, একজন শিক্ষার্থী কিছুটা সময় যদি এই ব্যাপারগুলি নিয়ে চিন্তা করে এবং তদানুযায়ী একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, ক্যারিয়ারের বাকিটা সে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের মতই খেলে যেতে পারবে। ‘ক্যারিয়ার’ হতে পারে পেশাদার খেলোয়াড়ের জীবনের মতই আনন্দদায়ক এক পেশা । আর এব্যাপারে অভিভাবকদের ভূমিকা হতে পারে অনস্বীকার্য ।


আহমদ ইসলাম মুকসিত
চেয়ারম্যান, বিডিজবস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ফেসবুক অ্যাডিকশনের লক্ষণ ও উত্তরণের উপায়, ফেসবুকে কি করা উচিত ও কি করা উচিত না

আপনি কি ফেসবুকে খুব আসক্ত? ফেসবুকে একদিন না বসলে দুনিয়াদারির কিছু ভালো লাগে না? পেটের ভাত হজম হয় না? পরিচয় সংকটে ভোগেন? কেমন কেমন যেন লাগে? তবে জেনে নিন, আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডারে ভুগছেন! আপনার মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে! এক্ষুণি এ বিষয়ে সতর্ক না হলে আপনি অদূর ভবিষ্যৎতে বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় ভুগবেন। এমনকি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।বলা যায় না, এখনই হয়তো এমন কোন জটিলতায় আছেন যা নিজেই বুঝতে পারছেন না যে ফেসবুকের কারণেই হচ্ছে! তাই আপনার জন্য এবং যাদের ফেসবুক প্রীতি এখনও সীমা অতিক্রম করেনি তাদের জন্য এই শখের মনোবিদ কিছু পরামর্শ নিয়ে হাজির হয়েছে। ফেসবুক অ্যাডিকশন থেকে মুক্ত হতে হলে প্রথমেই স্বীকার করে নিন আপনি একজন ফেসবুক অ্যাডিক্ট। সমস্যা হল, ফেসবুক অ্যাডিক্টরা তাদের এই অ্যাডিকশনের কথা স্বীকার করতে চায় না, যেমনটা চায় না ড্রাগ অ্যাডিক্টরা। ফেসবুক অ্যাডিক্টদের যে সব আচরণের কথা এখানে উল্লেখ করছি, তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে সেসবের মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে চায়। নিজে যে ফেসবুক অ্যাডিক্ট না, সাধারণ একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সেটা প্রমাণ করতে উঠে-পড়ে লাগে। কিন্তু এখানে যে সব ফেসবুক অ্যাডিকশনের লক্ষণ উঠে আসছে সেসব যদি আপনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবে নিজেকে ফেসবুক অ্যাডিক্টেড বলে স্বীকার করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রোগমুক্ত হতে হলে আগে রোগটা চিহ্নিত করে নিতে হয়, তারপর চিকিৎসা। যদি মনে করেন আপনি এখনও ফেসবুক অ্যাডিকশনের শিকার হননি তবে এই
অভাজনের পরামর্শগুলো আপনাকে নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারে সহায়তা করবে। ফেসবুক অ্যাডিকশনের লক্ষণ ও উত্তরণের উপায় ছাড়াও ফেসবুকে কি করা উচিত ও কি করা উচিত না সে বিষয়েও আলোকপাত করা হল:
১। ফেসবুককে আপনার জীবনের সমস্ত ধ্যানজ্ঞান মনে করবেন না। ফেসবুকের সাফল্য আপনার জীবনের প্রকৃত সাফল্য নয়। ফেসবুকের চেয়েও জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা আপনি এখন হয়তো অবহেলা করছেন, সেসব বিষয়ে নজর দিন। মনে রাখবেন, আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ফেসবুকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি কি ফেসবুকে খুব আসক্ত? ফেসবুকে একদিন না বসলে দুনিয়াদারির কিছু ভালো লাগে না? পেটের ভাত হজম হয় না? পরিচয় সংকটে ভোগেন? কেমন কেমন যেন লাগে? তবে জেনে নিন, আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডারে ভুগছেন! আপনার মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির মুখে! এক্ষুণি এ বিষয়ে সতর্ক না হলে আপনি অদূর ভবিষ্যৎতে বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় ভুগবেন। এমনকি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
২। ফেসবুকের অতি ব্যবহার হিংসা, বিদ্বেষ, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, ইত্যাদি ক্ষতিকারক মানসিক অনুভূতি সৃষ্টি করে। এমনকি আপনাকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত করতে পারে, প্রকৃত কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অতএব, এসব থেকে বাঁচতে হলে এখনই সাবধান হতে হবে। নতুবা পরে শুধু আফসোসই করতে হবে।
৩। যখন-তখন পিসিতে বিশেষত মোবাইলে ফেসবুক চেকিং আপনারস্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করবে। আপনাকে বাস্তব জীবনের প্রতি উদাসীন ও অমনোযোগী করে তুলবে। অন্য কিছুতে সহজে মন বসাতে পারবেন না। ফেসবুক বন্ধুদের সাথে কানেক্টেড থাকতে গিয়ে বাস্তব সম্পর্কগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। তাই চিন্তা করে দেখুন যা করছেন তা কতটুকু ভালো করছেন।
৪। আপনি আসলে যা না ফেসবুকে তা সাজার ভাণ করবে না। বিভিন্ন ভাণ ধরে আপনি হয়তো আপাতত মজা পাচ্ছেন। কিন্তু এই ভাণ ধরে থাকার ফলে আপনাকে পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার রোগে ধরবে। কিংবা ইতিমধ্যে হয়তো আপনি দ্বৈত ব্যক্তিত্বজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। ফেসবুকে নিজেকে অতি আকর্ষণীয়, বুদ্ধিমান, এন্টারটেইনিং, মহাজ্ঞানী হিসেবে প্রমাণ করতে গিয়ে আপনি বিভিন্ন ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছেন, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে সঙ্কটে ফেলছে।
৫। ফেসবুকে যারা ঘনঘন ঢু মারে তারা একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। ঘনঘন ফেসবুকে ঢু মারবেন না। বারবার নোটিফিকেশন চেক করবেন না। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করুন। তা না হলে আপনার মানসিক ধৈর্য ও স্থিতি হ্রাস পাবে। দিনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ফেসবুকে ব্যয় না করাটা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।
৬। প্রতিদিন একবার অবধারিতভাবে বা একদিনে অনেক বার স্ট্যাটাস আপডেট করতেই হবে তা না হলে অনলাইনে আপনার অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে- এমন অস্বাস্থ্যকর সংকীর্ণ চিন্তা এক্ষুণি মাথা  থেকে ঝেড়ে ফেলে দিন। লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার যে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি মানুষের আছে সেটা লাগাম ছাড়া হতে দিবেন না। নয়তো এক সময় আবিষ্কার করবেন একা থাকার যে স্বাভাবিক ক্ষমতা আছে সেটা হারিয়ে ফেলছেন। নির্জনতা আপনার কাছে নিদারুণ অসহ্য লাগবে।
৭। ফেসবুকে মিথ্যা বা অসত্য বা বানোয়াট বা অর্ধসত্য বা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে কথা বলার চর্চাটা বেশি হয়। নিজেকে জাহির করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এসব হয়তো আপনাকে অন্যের কাছে তথাকথিত জনপ্রিয় করছে, কিন্তু আসলে আপনি নিজের কাছে নিজেই ছোট হচ্ছেন। নিজের প্রতি সৎ থাকুন। আত্মসম্মান বজায় রাখুন।
৮। এমন কোন ছবিতে কাউকে ট্যাগ করবেন না, যে ছবিটি তার নয়। অযথা লোকজনকে ট্যাগ করা বন্ধ করুন।
৯। ফেসবুকে নিজেকে ওভার শেয়ার করবেন না। আপনার ঘনঘন স্ট্যাটাস আপডেটিং, ফটো শেয়ারিং, বিভিন্ন পোস্ট শেয়ারিংয়ের ফলে বন্ধু তালিকার বন্ধুদের নিউজ ফিড যদি জ্যাম হয়ে যায় তবে আপনি তাদের কাছে একজন বিরক্তিকর ফেসবুক ইউজার হিসেবে চিহ্নিত হবেন। সো সেইভ ইউর ইমেজ।
১০। কারও স্ট্যাটাস কপি পেস্ট করবেন না। দয়া করে শেয়ার বাটনটি চাপুন।
১১। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথাবার্তা ওয়ালে না বলে ম্যাসেজে বলুন।
১২। ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অনুসারে মানুষ বিচার করবেন না। অনেক বিখ্যাত মানুষ
আছেন যারা স্রেফ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। বন্ধু/ ফলোয়ার সংখ্যা, লাইক/কমেন্ট/শেয়ার এসব কারও কর্মজীবন বিচারের মানদণ্ড না। অনেক বিখ্যাত লেখক ও ব্লগারও আছেন যারা ফেসবুকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকেন। পাবলিক রিলেশনের চেয়ে তারা হয়তো প্রাইভেট রিলেশনে অধিক গুরুত্ব দেন। ফেসবুকে আপনার অবস্থানটা হয়তো বড়, তাই বলে বাকিদেরকে ছোট ভাবার কোন কারণ নেই। অন্যদের প্রতি সম্মান বজায় রাখুন।
১৩। আপনি যত বড় আদমি হোন না কেন, কেউ আপনাকে ম্যাসেজ করলে দেরিতে হলেও সেটার রিপ্লাই দিন। এটা নূন্যতম ভদ্রতা জ্ঞানের পরিচয়।
১৪। ফেসবুকে আপনি কি ‘লাইক’ করছেন সেটা খুব খেয়াল করে করুন। আপনার এই ‘লাইক’ কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। আপনি কোন চটি পেজে বা পর্ণো ছবির পেজে লাইক দিয়ে বসে আছেন, ভুলে যাবেন না সেটা অন্যদের নিউজ ফিডেও চলে আসছে, আপনার প্রোফাইল ঘাঁটলেও যা পাওয়া যাবে। নিজে বিব্রত হতে না চাইলে বা অন্যদেরকে বিব্রত করতে না চাইলে সাবধানে ‘পছন্দ’ করুন।
১৫। ফেসবুকে কি স্ট্যাটাস দিবেন সেটা নিয়ে যদি দীর্ঘক্ষণ বসে বসে চিন্তা করেন, নিজেকে একজন ফেসবুক অ্যাডিক্ট বলে চিনে নিন। আপনি চিন্তা করছেন এটা দিলে লোকজন পছন্দ করবে কিনা, লাইক কি আগের স্ট্যাটাসের চেয়ে বেশি হবে না কম, কমেন্ট কেমন আসতে পারে, শেয়ার কেমন আসবে এসব চিন্তা করে একটা স্ট্যাটাস আপডেট করার মানে দাঁড়ায় আপনি নিজেকে অন্যদের কাঠগড়ায় বিচারের মুখে ফেলছেন। ফলাফল যা হচ্ছে সেটাকে আপনি রায় হিসেবে নিচ্ছেন। অর্থাৎ আপনার নিজের গ্রহণযোগ্যতা বিচারে আপনার নিজের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আপনি চরম ব্যক্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। জাস্ট বি ইওরসেল্ফ। নিজেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ করাটাই আপনার আসল ‘স্ট্যাটাস’। পারফেক্ট স্ট্যাটাস বলে কিছু নেই, যেমন নেই পারফেক্ট মানুষ।
১৬। আপনি অনলাইন সোশাল লাইফে যতো বেশি সক্রিয় হবেন অফলাইনের সামাজিক জীবনে ততো বেশি নিষ্ক্রয় হবেন। তার মানে আপনি যতোটা না মানুষ থাকছেন তার চেয়ে বেশি যন্ত্রে পরিণত হচ্ছেন। অফলাইনের চেয়ে অনলাইন হয়ে যাচ্ছে আপনার সবচেয়ে কমফোর্ট জোন। প্রকৃত সামাজিক জীবনে আপনি স্বস্তি বোধ করছেন না। অধঃপতন হচ্ছে আপনার বাস্তব জীবনের। তাই সপ্তাহে অন্তত টানা দুইদিন ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রাখুন। বাস্তব জীবনটা পূর্ণমাত্রায় উপভোগ করুন। সাতদিনে দুদিন ফেসবুক ব্যবহার না করলে আপনার জীবনহানি হবে না। বরঞ্চ ফেসবুকের কারণে জীবন, সম্পর্ক ও মাথা গোল্লায় যাওয়ার রেকর্ড আছে। এই লেখাটির উদ্দেশ্য আপনাকে ফেসবুক বিমুখ বা ফেসবুক বিদ্বেষী করে তোলা না। ফেসবুকের ক্ষতিকারক দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। অবশ্যই
আপনি যোগাযোগ, আনন্দ লাভ, তথ্য জানার মাধ্যম ও নানাবিধ গঠনমূলক কাজের জন্য
ফেসবুক সুবিধা ব্যবহার করবেন। কিন্তু ফেসবুক যেন কোনভাবে আপনার ক্ষতি করতে না পারে। ফেসবুক অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার সম্পর্কে নিজেকে সচেতন হতে হবে অন্যদেরকেও সচেতন করতে হবে। এই লেখাটি একবার পড়লেই যে আপনি ফেসবুক অ্যাডিকশন থেকে মুক্ত থাকবেন বা মুক্ত হয়ে যাবেন তা কিন্তু না। লেখাটি আবার পড়ুন, কিছু দিন পরপর বারবার পড়ে মগজে গেঁথে নিন। কথাগুলোকে কাজে পরিণত করুন। আপনার ফেসবুক ব্যবহার আসক্তিমুক্ত সুস্থ ও আনন্দময় সুন্দর

Subscribe For Free Updates!

We'll not spam mate! We promise.